মঙ্গলবার সকাল, বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও প্রাক্তন চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সমাধিতে শোকস্মরণে ফুল অর্পণ করার পর স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান মিডিয়ার সামনে দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করে জানান। তিনি জিজ্ঞাসা করা প্রশ্নের উত্তরে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্থানে অফিস খোলার এবং ‘গণহত্যাকারীরা’ দেশে ফিরে আসার বিষয়ে বিএনপির মতামত তুলে ধরেন। মঈন খান উল্লেখ করেন, দলটি স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করেছে এবং এখনো বহুদলীয় গণতন্ত্রের নীতিতে দৃঢ়।
প্রশ্নে জানানো হয়, আওয়ামী লীগ নতুন অফিস খুলে দেশের বিভিন্ন কোণে উপস্থিতি বাড়াচ্ছে, তবু কিছু গোষ্ঠী ‘গণহত্যাকারী’দের ফিরে আসার অভিযোগ তুলছে। তার উত্তরে তিনি বলেন, বিএনপি স্বাধীনতার আদর্শে গড়ে উঠেছে এবং ১৯৭১ সালের কালো রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হিংসা বিরোধে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে প্রতিবাদ জোরদার হয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে স্মরণ করে তিনি বহুদলীয় ও পার্লামেন্টারি গণতন্ত্রের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন।
মঈন খান আরও জোর দিয়ে বলেন, একদলীয় শাসনব্যবস্থা যে বাংলাদেশকে জটিল সমস্যায় ফেলেছিল, তা তিনি একদমই সমর্থন করেন না। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি জনগণের শক্তিতে বিশ্বাস করে এবং একতরফা শাসনের বদলে সমন্বিত রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নকে অগ্রসর করতে চায়। দলটি একাধিকবার দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রেখেছে, তা তিনি উল্লেখ করে দলের ঐতিহাসিক অবদানকে তুলে ধরেন।
বিএনপি নেতা স্পষ্ট করে বলেন, দলটি উদারনৈতিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক দল, যা সকল স্তরের মানুষের অংশগ্রহণকে স্বাগত জানায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিএনপি কোনো প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না এবং দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হতে চায়। দলটি দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষার জন্য সর্বদা প্রস্তুত, এ কথাটি তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতা বিপ্লবের ধারাবাহিকতা হিসেবে, মঈন খান বলেন, বিএনপি আবারও দেশের গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই আন্দোলন দেশের যুবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করেছে। এ থেকে দলটি ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে।
নরসিংদি-১ আসনের বিএনপি সাংসদ খায়রুল কবির খোকন, নরসিংদি-৩ আসনের মনজুর এলাহী, নরসিংদি-৪ আসনের সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন (স্বাস্থ্যমন্ত্রী) এবং নরসিংদি-৫ আসনের আশরাফ উদ্দিনকে নিয়ে দলীয় নেতারা জিয়া উদ্যানে সমবেত হন। মঈন খানও নরসিংদি-২ আসনের সাংসদ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং উপস্থিত সকলকে নরসিংদীর ঐতিহাসিক সংগ্রামের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন, নরসিংদি ব্রিটিশ শাসনের বিরোধে এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
নরসিংদীর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের কথা উল্লেখ করে মঈন খান বলেন, এই অঞ্চলটি ঔপনিবেশিক বিরোধী আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়ও সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নরসিংদীর মানুষ আজও স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ ধরনের ঐতিহাসিক স্মৃতি দলীয় নীতিতে প্রভাব ফেলবে এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনী কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিএনপি এই বিবৃতি দিয়ে স্পষ্ট করেছে যে, দলটি বহুদলীয় শাসনব্যবস্থার পক্ষে এবং একতরফা শাসনের বিরোধী। তিনি উল্লেখ করেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনে দলটি এই নীতি অনুসরণ করে ভোটারদের কাছে পৌঁছাবে। মঈন খান শেষ করে বলেন, বিএনপি দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও মানবাধিকার রক্ষায় সর্বদা প্রস্তুত থাকবে এবং সকল রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপ চালিয়ে যাবে।



