31.6 C
Dhaka
Tuesday, February 24, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধআইসিসি প্রসিকিউশন সদস্য তামিমের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উন্মোচিত

আইসিসি প্রসিকিউশন সদস্য তামিমের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উন্মোচিত

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিসি) প্রসিকিউশন দলের সদস্য গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামিমের বিরুদ্ধে গুরুতর আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ পেয়েছে। অভিযোগটি একই দলের সহকর্মী বি.এম. সুলতান মাহমুদের সামাজিক মিডিয়া পোস্টের মাধ্যমে প্রকাশিত হয় এবং তামিমের নামের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার দিনই সাবেক প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয়।

সামাজিক নেটওয়ার্কে কাজী মোস্তাফিজুর রহমান আহাদের একটি পোস্টে দুইটি মন্তব্যে সুলতান মাহমুদের অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, গত বছরের নভেম্বরের শেষ দিকে আশুলিয়ার লাশ পোড়ানোর মামলায় অভিযুক্ত আফজালের স্ত্রী সন্ধ্যায় তামিমের রুমে ভারী ব্যাগ নিয়ে প্রবেশ করেন। ঘটনাটি লক্ষ্য করার পর সুলতান তা তাজুল ইসলামের রুমে জানিয়ে দেন, তবে কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি; বরং অভিযোগকারী দলকে তিরস্কার করা হয়।

মাহমুদের মতে, তামিম ঘটনাটির পরপরই উপস্থিতদের সামনে স্বীকার করেন যে আফজালের স্ত্রী তার রুমে এসেছেন। প্রধান কৌঁসুলি তখন শুধুমাত্র জিজ্ঞেস করেন কেন তিনি রুমে গিয়েছিলেন, এবং তদন্ত এখানেই থেমে যায়। পরবর্তীতে আফজালকে রাজসাক্ষী করা হয় এবং চূড়ান্ত বিচারে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

সুলতান মাহমুদ আরও কয়েকটি মামলার পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। রংপুরের আবু সায়েদের মামলায় এ.সি. ইমরানকে কেন অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে আদালতে বেশ কয়েকজন সাক্ষী ইমরানের নাম উল্লেখ করেছেন। তদুপরি, সাবেক আইজি আব্দুল্লাহ আল মামুনকে রাজসাক্ষী করার কারণ এবং তার নির্দেশে বহু পরিবারের সন্তান হারানোর ঘটনা নিয়ে তিনি সমালোচনা করেন। আওয়ামী লীগ নেতার হাসিনার মামলায়ও তিনি অভিযোগ করেন যে, প্রক্রিয়াটি ধীরগতি করে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে।

তাজুল ইসলামের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া দিবসে সাংবাদিকরা তামিমের নাম উল্লেখ করে তার দুর্নীতির সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে প্রশ্ন তোলেন। তাজুলকে জিজ্ঞেস করা হয় যে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একজন প্রসিকিউটর নানা রকম তোপ দিচ্ছেন, তবে তামিমের সরাসরি মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া প্রকাশিত হয়নি।

আইসিসি অফিস অফ দ্য প্রসিকিউরার এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি, তবে অভ্যন্তরীণ অভিযোগের ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনালের তদারকি কমিটি বিষয়টি পর্যালোচনা করবে বলে জানা যায়। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইসিসি অভ্যন্তরীণ নিয়মাবলী অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা ফৌজদারি প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

আইসিসি-র অভ্যন্তরীণ ন্যায়বিচার ব্যবস্থা কর্মচারীর, বিশেষ করে প্রসিকিউটরের, অনিয়মের তদন্তের জন্য নির্ধারিত। তদন্তের ফলাফল যদি প্রমাণিত হয়, তবে তা রাষ্ট্রসমূহের সমাবেশে (Assembly of States Parties) উপস্থাপন করা হবে, যেখানে শাস্তি নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এই ঘটনার পর মানবাধিকার সংস্থা এবং শিকারের পক্ষে কাজ করা গোষ্ঠীগুলি ট্রাইব্যুনালের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেছে। তারা দাবি করে যে, কোনো ধরনের দুর্নীতি প্রকাশ পেলে তা দ্রুত এবং ন্যায়সঙ্গতভাবে মোকাবিলা করা দরকার, যাতে ট্রাইব্যুনালের আন্তর্জাতিক সুনাম বজায় থাকে।

ট্রাইব্যুনালের অভ্যন্তরীণ তদারকি কমিটি এই সপ্তাহের শেষের দিকে একটি গোপনীয় সভা করে অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করার পরিকল্পনা করেছে। বর্তমানে কোনো প্রকাশ্য শুনানি নির্ধারিত হয়নি, এবং বিষয়টি গোপনীয়তা বজায় রেখে সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments