জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) মঙ্গলবার একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানায় যে, বিদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশি করদাতারা এখন ইমেইল ঠিকানার মাধ্যমে ওটিপি পেয়ে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হল, মোবাইল নেটওয়ার্কের সীমাবদ্ধতা ও বিদেশি সিমের অপ্রাপ্যতা থেকে সৃষ্ট সমস্যার সমাধান করা।
পূর্বে, বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে রেজিস্ট্রেশন করা করদাতাদের ই‑রিটার্ন সিস্টেমে লগইন ও পাসওয়ার্ড রিসেটের জন্য নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে ওটিপি পাঠানো হতো। তবে বহু প্রবাসী করদাতা তাদের বিদেশি সিম বন্ধ থাকায় বা রোডম্যাপের পরিবর্তনে ওটিপি গ্রহণে বাধা পেয়ে রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারছিলেন না। এই বাধা সরাতে NBR বিশেষভাবে ইমেইল‑ভিত্তিক ওটিপি সেবা চালু করেছে।
নতুন পদ্ধতিতে, প্রবাসী করদাতারা প্রথমে তাদের ইমেইল ঠিকানা নিবন্ধন ও ভেরিফিকেশন করতে হবে। একবার ভেরিফাইড হলে, রেজিস্ট্রেশন, পাসওয়ার্ড রিসেট এবং রিটার্ন দাখিলের সকল ধাপের জন্য ওটিপি ইমেইলে পাঠানো হবে। ফলে, মোবাইল নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভরতা কমে যাবে এবং আন্তর্জাতিক সিমের সমস্যার মুখে আর কোনো বাধা থাকবে না।
সোমবার পর্যন্ত প্রায় ৩৯ লাখ করদাতা ২০২৫-২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন অনলাইনে জমা দিয়েছেন। NBR এই বছরের শেষের দিকে, ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, চলতি করবর্ষের রিটার্ন দাখিলের শেষ তারিখ নির্ধারণ করেছে এবং ই‑রিটার্ন সিস্টেমের ব্যবহার বাড়াতে এই ইমেইল‑ওটিপি সেবা চালু করেছে।
ব্যবসা ও বাজারের দৃষ্টিকোণ থেকে, প্রবাসী করদাতাদের জন্য ইমেইল‑ওটিপি চালু হওয়া ডিজিটাল ট্যাক্স কমপ্লায়েন্সে একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নতি। সহজলভ্য ও নিরাপদ পদ্ধতি গ্রহণের ফলে রিটার্ন দাখিলের হার বাড়তে পারে, যা সরাসরি রাজস্ব সংগ্রহে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এছাড়া, প্রবাসী সম্প্রদায়ের আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা ও সময়মত রিপোর্টিং নিশ্চিত হওয়ায় বিদেশি বিনিয়োগের পরিবেশও উন্নত হবে।
তবে, ইমেইল‑ভিত্তিক ওটিপি ব্যবহারে সাইবার নিরাপত্তা ও ফিশিং আক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। NBRকে ইমেইল ডেলিভারির সঠিকতা নিশ্চিত করতে শক্তিশালী প্রমাণীকরণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে এবং করদাতাদের নিরাপদ ইমেইল ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। এই ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সিস্টেমের নিয়মিত আপডেট ও ব্যবহারকারীর প্রশিক্ষণ অপরিহার্য।
দীর্ঘমেয়াদে, এই উদ্যোগটি NBRকে অন্যান্য সেবা, যেমন ট্যাক্স রিফান্ড, ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন এবং ব্যবসা লাইসেন্সের ডিজিটালাইজেশনেও ইমেইল‑ভিত্তিক প্রমাণীকরণ ব্যবহার করতে উৎসাহিত করবে। প্রবাসী করদাতাদের জন্য সহজে প্রবেশযোগ্য সেবা প্রদান করে, সরকার তাদের সঙ্গে আর্থিক সংযোগ শক্তিশালী করতে পারবে এবং ভবিষ্যতে আরও বেশি করদাতা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে স্বেচ্ছায় অংশগ্রহণের সম্ভাবনা বাড়বে।
সারসংক্ষেপে, ইমেইল ওটিপি চালু হওয়া প্রবাসী করদাতাদের জন্য একটি ব্যবহারিক সমাধান এবং দেশের ডিজিটাল ট্যাক্স অবকাঠামোর উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সঠিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে এই সেবা বিস্তৃত হলে, কর সংগ্রহের দক্ষতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক অবদান রাখবে।



