জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ২৪ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার ঘোষণা করেছে যে, বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশি করদাতারা এখন মোবাইলের পরিবর্তে নিজের ই-মেইলে ওটিপি (এককালীন পাসওয়ার্ড) পেয়ে অনলাইন আয়কর রিটার্ন (ই-রিটার্ন) দাখিল করতে পারবেন। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য প্রবাসীদের জন্য রেজিস্ট্রেশন ও পাসওয়ার্ড রিসেট প্রক্রিয়াকে সহজ করা।
পূর্বে যেসব করদাতা বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে ই-রিটার্ন সিস্টেমে লগইন করতেন, তারা বিদেশে থাকায় মোবাইলে ওটিপি পেতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছিলেন। এই ঘাটতি দূর করতে এনবিআর ই-মেইল ভেরিফিকেশন পদ্ধতি চালু করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আবেদন প্রাপ্তির পর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করে ই-মেইল ঠিকানাটি নিশ্চিত করবে। একবার ই-মেইল ভেরিফাই হয়ে গেলে, করদাতা তার ই-মেইলে পাঠানো ওটিপি ব্যবহার করে রেজিস্ট্রেশন, পাসওয়ার্ড রিসেট এবং ই-রিটার্ন দাখিলসহ অন্যান্য সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
এই নতুন পদ্ধতি বিশেষভাবে প্রবাসী সম্প্রদায়ের জন্য সুবিধাজনক, কারণ তারা এখন মোবাইল নেটওয়ার্কের সীমাবদ্ধতা ছাড়াই নিরাপদে রিটার্ন দাখিল করতে পারবে। একই সঙ্গে, রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া দ্রুততর হওয়ায় সিস্টেমে প্রবেশের বাধা কমে যাবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড রিটার্ন দাখিলের শেষ তারিখ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ নির্ধারণ করেছে, যাতে ২০২৫-২৬ করবর্ষের সকল আয়কর রিটার্ন ই-রিটার্ন সিস্টেমের মাধ্যমে জমা হয়। এই সময়সীমা পূরণে করদাতাদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত অনলাইন মাধ্যমে প্রায় ৩৯ লাখ আয়কর রিটার্ন দাখিল করা হয়েছে। ই-রিটার্নের সহজলভ্যতা এবং দ্রুত প্রক্রিয়াকরণ এই সংখ্যাকে ধারাবাহিকভাবে বাড়িয়ে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রবাসী করদাতাদের জন্য ই-মেইল ওটিপি চালু হওয়া দেশের কর সংগ্রহে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সহজে রেজিস্ট্রেশন ও রিট্রিভাল প্রক্রিয়া করদাতাদের স্বেচ্ছায় অনলাইন সিস্টেম ব্যবহার বাড়াবে, ফলে ম্যানুয়াল পেপার ফাইলিং কমে যাবে এবং প্রশাসনিক খরচ হ্রাস পাবে।
অধিকন্তু, ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে রিটার্নের সঠিকতা বৃদ্ধি পাবে, যা কর ফাঁক কমিয়ে আয়কর রাজস্ব বাড়াতে সহায়তা করবে। স্বয়ংক্রিয় যাচাই প্রক্রিয়া ত্রুটি হ্রাসের পাশাপাশি রিফান্ডের সময়সীমা ত্বরান্বিত করবে।
তবে ই-মেইল ভিত্তিক ওটিপি ব্যবহারে কিছু ঝুঁকি রয়েছে। ই-মেইল ঠিকানার সঠিকতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে অননুমোদিত প্রবেশের সম্ভাবনা থাকে। তাই করদাতাদেরকে তাদের ই-মেইল অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখতে এবং নিয়মিত আপডেট রাখতে বলা হচ্ছে।
ডিজিটালাইজেশনকে ত্বরান্বিত করার এই উদ্যোগের ফলে ভবিষ্যতে আরও সেবা অনলাইন করা সম্ভব হবে। এনবিআর ই-ফাইলিং, ই-ভ্যাট রিফান্ড এবং অন্যান্য কর সংক্রান্ত সেবাকে একত্রিত করে একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে।
সারসংক্ষেপে, ই-মেইল ওটিপি চালু করা প্রবাসী করদাতাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা, যা রেজিস্ট্রেশন ও রিটার্ন দাখিলকে দ্রুত ও নিরাপদ করে তুলবে। সময়মতো রিটার্ন দাখিলের জন্য নির্ধারিত শেষ তারিখ মেনে চলা এবং ই-মেইল নিরাপত্তা বজায় রাখা সফল বাস্তবায়নের মূল চাবিকাঠি হবে।



