যুক্তরাজ্য ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে বাংলাদেশী নাগরিকদের জন্য শুধুমাত্র ই‑ভিসা ব্যবস্থা প্রয়োগ করবে, এ বিষয়ে ঢাকা অবস্থিত ব্রিটিশ হাইকমিশন সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) একটি সরকারি বার্তায় জানিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ভিসা প্রক্রিয়ার ডিজিটাল রূপান্তর ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে, ই‑ভিসা পেতে হলে আবেদনকারীর পাসপোর্টের তথ্য অনলাইনে জমা দিতে হবে এবং ইউকে ভিজিটর ইমিগ্রেশন (UKVI) সিস্টেমে একটি ব্যবহারকারী অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। এই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে আবেদনকারী তার তথ্য আপডেট এবং ভিসা অনুমোদন যাচাই করতে পারবে।
ই‑ভিসা অনুমোদনের পর, আবেদনকারীকে UKVI অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে পাসপোর্টের বিবরণ এবং ভ্রমণ পরিকল্পনা নিশ্চিত করতে হবে। হাইকমিশন উল্লেখ করেছে, এই যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হলে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের অনুমতি প্রদান করা হবে না। তাই ভ্রমণের পূর্বে সকল তথ্য সঠিকভাবে আপডেট করা জরুরি।
ই‑ভিসা সেবার জন্য কোনো অতিরিক্ত অর্থপ্রদান করা হবে না; আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে বিনামূল্যে। তবে, আবেদনকারীকে নিশ্চিত করতে হবে যে তার পাসপোর্টের বৈধতা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হয়েছে। এই নীতি ভিসা প্রাপ্তির আর্থিক বাধা কমিয়ে দেয়।
বিস্তারিত নির্দেশনা এবং আবেদন ফর্মের লিঙ্ক হাইকমিশনের বার্তায় উল্লেখিত অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। আবেদনকারীকে সুপারিশ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সাইটে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে সময়মতো আবেদন সম্পন্ন করতে।
যুক্তরাজ্য সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ই‑ভিসা সিস্টেমকে বিভিন্ন দেশের জন্য সম্প্রসারিত করেছে। ইতালি, অস্ট্রেলিয়া এবং কানাডার মতো দেশগুলো ইতিমধ্যে অনলাইন ভিসা প্রক্রিয়া চালু করেছে, যা ভ্রমণকারীদের জন্য সময় ও শ্রম সাশ্রয় করে। এই পদক্ষেপটি যুক্তরাজ্যের ডিজিটাল কনসুলেট সেবার অংশ হিসেবে বিবেচিত।
বিশ্বব্যাপী ই‑ভিসা গ্রহণের প্রবণতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, যুক্তরাজ্যও তার ইমিগ্রেশন নীতি আধুনিকায়নের লক্ষ্যে এই সেবা চালু করেছে। বিশেষ করে ব্রেক্সিটের পর নতুন ভিসা কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা এই সিদ্ধান্তকে ত্বরান্বিত করেছে।
একজন কূটনৈতিক বিশ্লেষক উল্লেখ করেছেন, ই‑ভিসা চালু করা উভয় দেশের ব্যবসা ও পর্যটন সংযোগকে সহজতর করবে এবং ভিসা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়াবে। তিনি আরও বলেন, এই ব্যবস্থা বাংলাদেশী ছাত্র, ব্যবসায়ী এবং পর্যটকদের জন্য যুক্তরাজ্যে প্রবেশের বাধা কমাবে।
বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের দৃষ্টিকোণ থেকে, ই‑ভিসা সিস্টেমের সূচনা দুই দেশের মধ্যে মানবসম্পদ ও বাণিজ্যিক আদানপ্রদানের গতি ত্বরান্বিত করবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। হাইকমিশনের বার্তায় উল্লেখ আছে, এই পদক্ষেপটি দীর্ঘমেয়াদে দু’দেশের কূটনৈতিক বন্ধনকে শক্তিশালী করবে।
পর্যটন সংস্থাগুলো ইতিমধ্যে ই‑ভিসা চালুর ফলে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে ভ্রমণের সংখ্যা বাড়বে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে, ব্যবসায়িক সংস্থা গুলোও দ্রুত ভিসা প্রাপ্তির মাধ্যমে নতুন বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে বলে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করছে।
আসন্ন মাসগুলোতে আবেদনকারীদের জন্য UKVI অ্যাকাউন্ট তৈরি এবং তথ্য যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। হাইকমিশন আবেদনকারীদের পরামর্শ দিয়েছে, ভ্রমণের পরিকল্পনা অনুযায়ী যথাসময়ে আবেদন জমা দিয়ে প্রয়োজনীয় সব ধাপ সম্পন্ন করা উচিত, যাতে ভিসা অনুমোদন পাওয়ার পর কোনো বিলম্ব না হয়।
সারসংক্ষেপে, যুক্তরাজ্যের ই‑ভিসা চালু করা বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ প্রক্রিয়াকে সহজতর করবে, আর্থিক ও সময়গত বাধা কমাবে এবং দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সংযোগকে আরও দৃঢ় করবে। এই পরিবর্তনটি আন্তর্জাতিক ভিসা নীতির ডিজিটাল রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত।



