মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ২৭ জানুয়ারি জেলা কমিশনারদের কাছে একটি চিঠি প্রেরণ করে, যেখানে ভুয়া জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন বন্ধের জন্য চারটি নির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপটি “প্রথম আলো”র ২৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনের পর নেওয়া হয়েছে, যেখানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কয়েকটি ইউনিয়নে বিধিবহির্ভূত নিবন্ধন তৈরি হওয়ার অভিযোগ উঠে আসে।
“প্রথম আলো”র প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়ে সংরক্ষিত ডেটাবেস থেকে প্রকৃত ব্যক্তিদের তথ্য ব্যবহার করে একাধিক ভুয়া নিবন্ধন তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে সাদেকপুর ও বুধল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা), কুটি (কসবা উপজেলা) এবং চরচারতলা (আশুগঞ্জ উপজেলা) ইউনিয়ন থেকে মোট ২৫৮টি জন্মনিবন্ধন ও ২৫১টি মৃত্যুনিবন্ধন, অর্থাৎ ৫০৯টি নথি সংগ্রহ করা হয়েছে।
এই নথিগুলি গত বছরের ১০ থেকে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত পাঁচটি ইউনিয়ন পরিদর্শন করে যাচাই করা হয়। পরিদর্শনের ফলাফল দেখায়, পাঁচটি ইউনিয়নের মধ্যে চারটিতে ব্যাপক জালিয়াতি পাওয়া গেছে, যেখানে বাস্তব ব্যক্তির তথ্যকে ভিত্তি করে কৃত্রিম জন্ম‑মৃত্যু রেকর্ড তৈরি করা হয়েছিল।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে, ৮ জানুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কাছে বিশদ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে জালিয়াতির পরিধি, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ও ব্যবহৃত ডেটার উৎস স্পষ্ট করে তুলে ধরা হয়েছে, যা পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চিঠিতে প্রথমে উল্লেখ করা হয়েছে, “প্রথম আলো”র প্রতিবেদনে উল্লিখিত ভুয়া নিবন্ধন প্রক্রিয়া স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতাকে ক্ষুন্ন করতে পারে। তাই, সকল জেলা প্রশাসককে আইন ও বিধি অনুসারে জন্ম‑মৃত্যু নিবন্ধন পরিচালনা হচ্ছে কিনা তা তদারকি করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয় নির্দেশনায় নিবন্ধন প্রক্রিয়ার পর্যবেক্ষণ ও নিয়মিত রিপোর্টিং বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তৃতীয় নির্দেশনায় বিদ্যমান অসঙ্গতি দূর করার জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ও অফিসে তদারকি দল গঠন করে দ্রুত সংশোধনী ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
চতুর্থ নির্দেশনায় টাস্কফোর্সের নিয়মিত সভা আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে জালিয়াতি প্রতিরোধে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায় এবং প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থা দ্রুত কার্যকর করা যায়।
এই নির্দেশনাগুলি বাস্তবায়নের মাধ্যমে জন্ম‑মৃত্যু নিবন্ধনের স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং নাগরিকদের আস্থা পুনরুদ্ধার করা লক্ষ্য। একই সঙ্গে, জেলা প্রশাসক ও ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে ভবিষ্যতে অনুরূপ জালিয়াতি রোধের জন্য কাঠামোগত ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে, এই পদক্ষেপগুলো স্থানীয় স্বশাসন ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের তদারকি ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়াবে, যা নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ে জনসেবার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে। ভবিষ্যতে একই ধরনের অভিযোগ এড়াতে তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক নিবন্ধন পদ্ধতি শক্তিশালী করা এবং নিয়মিত অডিট চালু করার সম্ভাবনা রয়েছে।



