মুম্বাইতে তার প্রথম সম্পত্তি অর্জন করে তারা সুতরিয়া নতুন জীবনের সূচনা ঘোষণা করেছেন। অভিনেত্রীটি সামাজিক মাধ্যমে ছবির সিরিজ শেয়ার করে বাড়ির অভ্যন্তরীণ দৃশ্য প্রকাশ করেন এবং এই পদক্ষেপকে “নতুন শুরু” হিসেবে বর্ণনা করেন। তার পোস্টে ২০২৬ সালের জন্য উন্মুক্ত হৃদয়ের সঙ্গে আনন্দ ও ভালোবাসার কামনা প্রকাশ পেয়েছে।
ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত ছবিগুলোতে উষ্ণ আলো, নিরপেক্ষ রঙের প্যালেট এবং পুরনো ও আধুনিক সাজসজ্জার সমন্বয় দেখা যায়। সামগ্রিক নকশা সূক্ষ্মভাবে পরিকল্পিত, যেখানে প্রতিটি কোণায় শৈল্পিক স্পর্শ লক্ষ্য করা যায়।
একটি ছবিতে তারা সাদা স্যাঁতসেঁতে শাড়িতে সজ্জিত, হাতে ভাঁজ করে বসে আছে এবং সিলভার ইউরনে সাদা ফুলের বিশাল গুচ্ছের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। লিভিং রুমে কাঠের কফি টেবিল, নরম কাপড়ের সিটিং এবং আলোকিত শেলফে ফ্রেম করা ছবি, বই, ভিনাইল রেকর্ড এবং অলংকারিক বস্তু সাজানো রয়েছে। ছাদের ঝলমলে চ্যান্ডেলিয়ার ঘরের ক্লাসিক টাচ বাড়িয়ে দেয়।
আরেকটি বিস্তৃত শট-এ তারা একটি ফুলের গুচ্ছ সামঞ্জস্য করছেন, যা ক্রিম রঙের সোফা, টেক্সচারযুক্ত গালিচা এবং যত্নসহকারে সাজানো শেলফের দৃশ্যকে স্পষ্ট করে। এই অংশে ঘরের রঙের সাদৃশ্য এবং নরম টেক্সচারগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
একটি আলাদা ফ্রেমে তারা একটি বিশাল পিয়ানোয়ের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন, যা তার সঙ্গীতপ্রেমের ইঙ্গিত দেয়। পিয়ানোয়ের আশেপাশে ফ্রেম করা শিল্পকর্ম, গৃহস্থালির গাছপালা এবং হেরিংবোন প্যাটার্নে সাজানো কাঠের মেঝে দেখা যায়। এই কোণাটি তার গায়িকাভাবনা ও পারফরম্যান্স আর্টের প্রতি ভালোবাসাকে প্রতিফলিত করে।
তার পোস্টে উল্লেখযোগ্য হল ফিল্ম জগতের সহকর্মীদের মন্তব্য। ক্রিশ্ণা শ্রোফ, দিশা পাটনি, রিয়া চক্রবর্তী এবং মাহিমা চৌধুরীসহ বহু শিল্পী শুভেচ্ছা জানিয়ে তাড়া দিয়েছেন। এই শুভেচ্ছা তার নতুন বাড়ির প্রতি সমর্থন ও আনন্দের প্রকাশ।
এই বাড়ি কেনার সময় তারা ও ভীর পাহারিয়ার সম্পর্কের খবরও মিডিয়ায় আলোচনার বিষয় ছিল। দুজনের সম্পর্ক ২০২৫ সালের শুরুর দিকে শুরু হয় এবং মাঝামাঝি বছর পর্যন্ত জনসমক্ষে প্রকাশ পায়। সাম্প্রতিক সপ্তাহে তাদের বিচ্ছেদের গুজব বাড়ে, তবে তারা এখন নিজের ব্যক্তিগত সাফল্যের দিকে মনোনিবেশ করছেন।
প্রথম বাড়ি কেনা তরুণ শিল্পীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, যা স্বতন্ত্রতা ও স্থায়িত্বের প্রতীক। তারা এই পদক্ষেপকে নিজের স্বপ্নের পথে এক নতুন সোপান হিসেবে দেখছেন। তার সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ছবিগুলো তার নান্দনিক রুচি ও জীবনধারার সূক্ষ্ম দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছে।
বাড়ির অভ্যন্তরে ব্যবহৃত ভিনটেজ ও আধুনিক ফার্নিচারের সমন্বয়, সূক্ষ্ম আলো এবং শিল্পকর্মের উপস্থিতি তার সৃজনশীলতা ও স্বাদকে প্রকাশ করে। এছাড়া, পিয়ানো ও সঙ্গীত কোণার উপস্থিতি তার শিল্পী পরিচয়কে বাড়ির প্রতিটি কোণে সংযুক্ত করেছে।
ফ্যানদের প্রতিক্রিয়াও তীব্রভাবে দেখা গেছে; অনেকই তার নতুন বাড়ির ছবি শেয়ার করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তারা নিজে এই মুহূর্তকে “নতুন শুরু” হিসেবে উল্লেখ করে, জীবনের নতুন অধ্যায়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পা বাড়ানোর সংকেত দিয়েছেন।
এই ধরনের ব্যক্তিগত মাইলফলককে উদযাপন করা তরুণ পেশাজীবীদের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে। নিজের স্বপ্নের বাড়ি গড়ে তোলার পথে পরিকল্পনা, সঞ্চয় এবং সঠিক সময়ের নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া, নিজের পেশাগত লক্ষ্যকে সমর্থন করে এমন পরিবেশ তৈরি করা মানসিক শান্তি ও সৃজনশীলতা বাড়ায়।
সুতরাং, যারা নিজের জীবনে নতুন দিক খুঁজছেন, তাদের জন্য তারা সুতরিয়ার এই পদক্ষেপ একটি উদাহরণ হতে পারে। ছোটখাটো লক্ষ্য নির্ধারণ করে ধীরে ধীরে এগিয়ে গেলে বড় স্বপ্নও বাস্তবায়িত হতে পারে। নিজের জন্য একটি নিরাপদ ও সৃজনশীল স্থান তৈরি করা, ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শক্তি যোগায়।
শেষে, পাঠকদের জন্য একটি পরামর্শ: আপনার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোকে নথিভুক্ত করুন, তা ছবি হোক বা লিখিত নোট, এবং সেগুলোকে উৎসাহের উৎস হিসেবে ব্যবহার করুন। নিজের স্বপ্নের পথে অগ্রসর হতে আত্মবিশ্বাস বজায় রাখুন এবং প্রয়োজনীয় সমর্থন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলুন।



