ক্যান্ডির পাল্লেকেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ অনুষ্ঠিত সুপার ইটস ম্যাচে ইংল্যান্ড ও পাকিস্তান দু’দলই আইসিসি পুরুষ টি২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল টিকিটের জন্য লড়াই করবে। দু’দলই টুর্নামেন্টের শেষ পর্যায়ে প্রবেশের জন্য এক অপরিহার্য জয় দরকার।
ইংল্যান্ডের পূর্ববর্তী ম্যাচে তারা শ্রীলঙ্কা জাতীয় ক্রিকেট দলকে ১৪৬-৯ রান দিয়ে সীমাবদ্ধ রাখে এবং শ্রীলঙ্কা ৯৫ রান করে ৫১ রানের পার্থক্যে পরাজিত হয়। সীমিত স্কোর সত্ত্বেও ইংল্যান্ডের বোলাররা দলকে জয় নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বাটিং দিক থেকে ইংল্যান্ডের পারফরম্যান্স প্রত্যাশার নিচে ছিল, তবে জয় নিশ্চিত করতে বোলিং ইউনিটের দৃঢ়তা দেখা যায়। লিয়াম ডসন স্বীকার করেন, “ইংল্যান্ড আরও ভাল খেলতে পারে, তবে টুর্নামেন্টে ফলাফলই মূল বিষয়।” তিনি টিমের বর্তমান ফোকাসকে ফলাফলমুখী হিসেবে উল্লেখ করেন।
ইংল্যান্ডের পেসার জোফ্রা আর্চার, স্পিনার আদিল রাশিদ এবং অলরাউন্ডার উইল জ্যাকসের সমন্বয় দলকে কম স্কোর রক্ষা করতে সক্ষম করেছে। এই বৈচিত্র্য তাদেরকে নিম্ন স্কোরের পরেও প্রতিপক্ষকে চাপ দিতে সাহায্য করে।
আরেকটি জয় নিশ্চিত হলে ইংল্যান্ড এক ম্যাচ বাকি রেখে সেমিফাইনালে স্থান পাবে। তাই দলটি এই ম্যাচে জয় নিশ্চিত করার জন্য সবকিছু দেবে।
পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলটি নিউজিল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দলের সঙ্গে রেইনডাউনের পর কোনো ত্রুটি সহ্য করতে পারবে না। পূর্বের ম্যাচে বৃষ্টির কারণে খেলা বাতিল হওয়ায় তাদের কাছে এখন কোনো পয়েন্টের সুযোগ বাকি নেই।
পাকিস্তানের পরিকল্পনা স্পিনের মাধ্যমে ইংল্যান্ডের দুর্বল ব্যাটিং লাইনআপকে লক্ষ্য করা। দলটি জানে যে ইংল্যান্ডের স্পিনের বিরুদ্ধে পারফরম্যান্স তুলনামূলকভাবে দুর্বল।
টুর্নামেন্টের শীর্ষ রান স্কোরধারী সাহিবজাদা ফারহান ক্যান্ডির পিচকে ধীর ও ট্যাকি বলে উল্লেখ করেন, যা স্পিনের জন্য অনুকূল। তিনি বিশ্বাস করেন যে শর্তগুলো পাকিস্তানের স্পিনারদের জন্য সুবিধাজনক হবে।
পাকিস্তানের স্পিনাররা এখন পর্যন্ত ২৬টি উইকেট সংগ্রহ করেছে, যা তাদের সিমারদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এই পরিসংখ্যান দলকে স্পিনের ওপর নির্ভরশীল করে তুলেছে।
অবশ্যই দলটি যদি আব্রার আহমেদকে অন্তর্ভুক্ত করে তবে স্পিন আর্মার আরও শক্তিশালী হবে। তার যোগদানের সম্ভাবনা পাকিস্তানের আক্রমণকে আরও বহুমুখী করে তুলবে।
ইংল্যান্ডের পূর্ববর্তী ম্যাচে স্পিনের মুখে ব্যাটিং লাইনআপের সমস্যাগুলো স্পষ্ট হয়েছে, যেখানে বলটি তীক্ষ্ণভাবে ঘুরে ও গ্রিপ করেছে। পাকিস্তান এই দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে জয় অর্জনের পরিকল্পনা করেছে।
ইংল্যান্ডের নিজের স্পিন বিকল্পগুলোর মধ্যে ডসন এবং জ্যাকব বেটহেল অন্তর্ভুক্ত, যারা বামহাতি স্পিনার হিসেবে পরিচিত। এই বিকল্পগুলো ম্যাচে কৌশলগত সমতা বজায় রাখতে পারে।
ইতিহাসে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাকিস্তান টি২০ বিশ্বকাপে কোনো জয় অর্জন করতে পারেনি, তবে এখন টুর্নামেন্টের অগ্রগতি নির্ধারণের মুহূর্তে অতীতের রেকর্ডের প্রভাব কম।
যদি পিচ আবার ধীর ও ট্যাকি থাকে, তবে দুই দলের স্পিনারদের পারফরম্যান্সই ম্যাচের মূল নির্ধারক হবে। উভয় দিকই স্পিনের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় ম্যাচটি কৌশলগতভাবে তীব্র হবে।
ইংল্যান্ড ও পাকিস্তান উভয়ই সেমিফাইনাল টিকিটের জন্য একে অপরের সঙ্গে মুখোমুখি হবে, এবং ফলাফল নির্ভর করবে স্পিনারদের দক্ষতা ও ট্যাকি পিচের ব্যবহারিকতার ওপর।



