30.1 C
Dhaka
Tuesday, February 24, 2026
Google search engine
Homeস্বাস্থ্যকুমিল্লা দাউদকান্দিতে গ্যাস লিকেজে বিস্ফোরণ, চারজন দগ্ধ

কুমিল্লা দাউদকান্দিতে গ্যাস লিকেজে বিস্ফোরণ, চারজন দগ্ধ

মঙ্গলবার সকাল প্রায় ছয়টায় কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার লদাখাল গ্রামাঞ্চলের পশ্চিম মাইজপাড়া এলাকায় গ্যাস লিকেজের ফলে বিস্ফোরণ ঘটেছে। ঘটনাস্থলে তৎক্ষণাৎ চারজন দগ্ধ হয়ে পাওয়া যায়; তাদের মধ্যে দুই বছর বয়সী একটি শিশুও অন্তর্ভুক্ত। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদান করে এবং আহতদের নিকটস্থ হাসপাতালগুলোতে স্থানান্তর করে।

বিস্ফোরণটি তিনতলা ভবনের নিচ তলায় ঘটেছে, যেখানে গ্যাসের লিকেজের সূত্রপাতের সন্দেহ রয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের একজন ইন্সপেক্টর জানান, গ্যাসের লাইন থেকে লিক হওয়া গ্যাসের সঞ্চয় ঘটনার মূল কারণ। ঘটনাস্থলে গ্যাসের সিলিন্ডার অক্ষত অবস্থায় পাওয়া যায়, যা নির্দেশ করে যে সিলিন্ডার নিজেই ফাটল বা ত্রুটি সৃষ্টি করেনি।

দগ্ধদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে: ৬০ বছর বয়সী মনোয়ারা, ৩৭ বছর বয়সী জিল হক, ৩০ বছর বয়সী উম্মে হুমায়রা এবং দুই বছর বয়সী হুররাম। সকলেই একই পরিবারের সদস্য, এবং গ্যাসের লিকেজের কারণে বাড়ির ভিতরে ধোঁয়া ও তাপের সংস্পর্শে এসে দগ্ধ হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের দল দ্রুত আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করে, যার মধ্যে শীতল পানির মাধ্যমে ত্বকের তাপ কমানো এবং শ্বাসযন্ত্রের সুরক্ষা অন্তর্ভুক্ত ছিল। এরপর তিনজনকে ঢাকা শহরের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে রেফার করা হয়, যেখানে তীব্র দাহজনিত আঘাতের জন্য বিশেষায়িত শল্যচিকিৎসা ও পুনর্বাসন সেবা প্রদান করা হয়। অবশিষ্ট একজনকে গৌরীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়, যেখানে স্থানীয় চিকিৎসকরা ত্বকের ক্ষতি নিয়ন্ত্রণ এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

দাহজনিত আঘাতের ক্ষেত্রে ত্বকের গভীরতা ও বিস্তার নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ। তীব্র দাহের ক্ষেত্রে ত্বকের গভীর স্তরে ক্ষতি হলে শল্যচিকিৎসা প্রয়োজন, আর ত্বকের পৃষ্ঠতলীয় দাহে শীতলকরণ ও ব্যান্ডেজের মাধ্যমে চিকিৎসা করা যায়। রোগীর বয়স ও শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী পুনর্বাসন প্রোগ্রাম নির্ধারিত হয়, যাতে দাগ কমে এবং চলাচল স্বাভাবিক হয়।

গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারের সময় সঠিক সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। সিলিন্ডারকে সরাসরি সূর্যালোক, তাপের উৎস বা অগ্নিকাণ্ডের কাছাকাছি রাখা উচিত নয়; নিয়মিত লিকেজ পরীক্ষা এবং সিলিন্ডারের ভল্টেজ চেক করা উচিত। এছাড়া গ্যাস লাইন সংযোগের সময় পেশাদার টেকনিশিয়ানের সাহায্য নেওয়া এবং লিকেজের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে তৎক্ষণাৎ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে স্থানীয় গ্যাস সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করা প্রয়োজন।

ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর দ্রুত গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে এবং আশেপাশের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। তারা স্থানীয় এলাকায় গ্যাস নিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য জরুরি নির্দেশনা প্রদান করে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে প্রশিক্ষণ সেশন আয়োজনের পরিকল্পনা জানায়।

এই ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বাসিন্দাদের উচিত গ্যাস সিলিন্ডার ও লাইন নিয়মিত পরীক্ষা করা, অস্বাভাবিক গন্ধ বা শ্বাসকষ্টের লক্ষণ দেখা দিলে তৎক্ষণাৎ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করা এবং পেশাদার সাহায্য নেওয়া। গৃহস্থালিতে অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রের উপস্থিতি এবং তার সঠিক ব্যবহারও জরুরি, যাতে অল্প সময়ের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।

অবশেষে, আহত পরিবারকে দ্রুত সঠিক চিকিৎসা সেবা প্রদান এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করা জরুরি। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও ফায়ার সার্ভিসের সমন্বিত প্রচেষ্টা ভবিষ্যতে গ্যাস সংক্রান্ত দুর্ঘটনা কমাতে সহায়তা করবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
AI-powered স্বাস্থ্য content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments