30.1 C
Dhaka
Tuesday, February 24, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধঝাড়খণ্ডে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ধসে ৭ জনের মৃত্যু, রাঁচি-দিল্লি রুটে দুর্ঘটনা

ঝাড়খণ্ডে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ধসে ৭ জনের মৃত্যু, রাঁচি-দিল্লি রুটে দুর্ঘটনা

গত রাত ঝাড়খণ্ডের চাতরা জেলায় রাঁচি থেকে দিল্লি গন্তব্যে উড়ে যাওয়া একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স অপ্রত্যাশিতভাবে বিধ্বস্ত হয়ে সাতজনের প্রাণ নেওয়া হয়। বিমানটি বেসরকারি এয়ারলাইন রেডবার্ড এয়ারওয়েজের মালিকানাধীন এবং জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদানকারী হিসেবে কাজ করছিল। দুর্ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দা ও নিরাপত্তা কর্মীদের মধ্যে বিশাল শোকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিমানটি সন্ধ্যা ৭টা ১১ মিনিটে রাঁচি বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে, এবং প্রায় অর্ধ ঘন্টার মধ্যে ৭টা ৩০ মিনিটের দিকে যোগাযোগ হারায়। রেকর্ড অনুযায়ী, উড়োজাহাজটি নির্ধারিত পথে দিল্লি দিকে অগ্রসর হচ্ছিল, তবে হঠাৎ করে সিমারিয়ার ঘন জঙ্গলভূমি পার হয়ে বারিয়াতু পঞ্চায়েতের সীমান্তে ধসে পড়ে।

সন্ধ্যাবেলায় এলাকায় তীব্র বাতাস, ভারী বৃষ্টি এবং বজ্রপাতের প্রতিবেশী অবস্থার রিপোর্ট পাওয়া যায়। স্থানীয় মানুষদের মতে, দুর্ঘটনার মুহূর্তে আকাশে গর্জনময় শব্দ শোনা গিয়েছিল এবং উড়োজাহাজটি তীব্র ঝড়ের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধসে পড়ে। এই প্রাকৃতিক অবস্থাগুলি দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর দ্রুত উদ্ধার দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। স্থানীয় পুলিশ, ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসকিউ ফোর্স (NDRF) এবং স্বাস্থ্য সেবা কর্মীরা সমন্বিতভাবে কাজ করে, তবে সব সত্ত্বেও যাত্রী ও ক্রুদের দেহই উদ্ধার করা যায়। মৃতদের তালিকায় দুইজন ক্যাপ্টেন, পাঁচজন সহকারী কর্মী ও চিকিৎসক অন্তর্ভুক্ত, যার নাম হল ক্যাপ্টেন বিবেক বিকাশ ভগত, ক্যাপ্টেন সরাজদীপ সিং, সঞ্জয় কুমার, বিকাশ কুমার গুপ্ত, শচীন কুমার মিশ্র, অর্চনা দেবী ও ধুরু কুমার।

দুর্ঘটনা সম্পর্কে জানার পর রাজ্য সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, উড়োজাহাজের গন্তব্য রাঁচি থেকে দিল্লি ছিল এবং দুর্ঘটনায় সকল যাত্রী ও ক্রু সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। উপকমিশনার কীর্তিশ্রী জি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রাথমিক তথ্য প্রদান করেন এবং জানান যে, বিমানটি নির্ধারিত সময়ে উড়ে গিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই নিখোঁজ হয়।

স্থানীয় পুলিশ বিভাগের উপ-ডিভিশনাল পুলিশ অফিসার শুভম খন্ডেলওয়ালও নিশ্চিত করেন যে, মৃতদেহগুলোই সম্পূর্ণভাবে উদ্ধার করা হয়েছে এবং দেহের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, মৃতদের পরিবারকে দ্রুত জানানো হবে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।

দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় পুলিশ একটি FIR (প্রথম তথ্য প্রতিবেদন) দায়ের করে এবং তদন্তের দায়িত্বকে উচ্চতর পর্যায়ে স্থানান্তর করে। তদন্তে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ, সিভিল এভিয়েশন অথরিটি (CAA) এবং ফরেনসিক টিমের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে।

ফরেনসিক দল উড়োজাহাজের অবশিষ্টাংশ সংগ্রহ করে, রেকর্ডার ডেটা ও ব্ল্যাক বক্সের বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য ত্রুটি বা মানবিক ভুলের সন্ধান করবে। এছাড়া, আবহাওয়া বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে ঐ সময়ের বায়ুমণ্ডলীয় তথ্য সংগ্রহ করা হবে, যাতে ঝড়ের তীব্রতা ও বাতাসের গতি দুর্ঘটনায় কীভাবে প্রভাব ফেলেছে তা নির্ণয় করা যায়।

প্রাথমিক তদন্তে জানা যায় যে, উড়োজাহাজটি রেডবার্ড এয়ারওয়েজের মালিকানাধীন এবং জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদানকারী হিসেবে কাজ করছিল। এয়ারলাইনটি পূর্বে কোনো বড় নিরাপত্তা লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়নি, তবে এই ঘটনার পর কোম্পানির নিরাপত্তা প্রোটোকল ও রক্ষণাবেক্ষণ রেকর্ডের পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা করা হবে।

আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, যদি কোনো ত্রুটি বা অবহেলা প্রমাণিত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক অভিযোগ আনা হতে পারে। এয়ারলাইন ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়িত্বশীলতা নির্ধারণের জন্য আদালতে ফৌজদারি মামলা দায়েরের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে, বেঁচে থাকা পরিবারের ক্ষতিপূরণ ও সমর্থনের জন্য নাগরিক আদালতে ন্যায়বিচার চাওয়া হবে।

সামগ্রিকভাবে, এই দুঃখজনক দুর্ঘটনা ঝাড়খণ্ডের বিমান চলাচল নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটন করা হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments