ট্রেন্ডি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ ম্যাচে, দক্ষিণ আফ্রিকা এ এবং ভারত এ দু’দল আহমেদাবাদে মুখোমুখি হয়। দক্ষিণ আফ্রিকা এ ১৮৭ রানে লক্ষ্য স্থাপন করে, ভারত এ ১১১ রানে আটকে যায় এবং ম্যাচ শেষ হয় দক্ষিণ আফ্রিকা এয়ের জয়ে। ডেভিড মিলার ৩৫ বলে ৬৩ রান সংগ্রহ করে ম্যান অব দা ম্যাচের উপাধি পান।
টস জিতে দক্ষিণ আফ্রিকা এ ব্যাটিংয়ে নামার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রথম চার ওভারে দলটি ২০ রান তোলার পর ৩ উইকেট হারায়, যা শুরুরই কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করে। তবু দলটি দ্রুত পুনরুদ্ধার করতে চায় এবং ডেভিড মিলারকে ক্রিজে পাঠায়।
মিলার ক্রিজে গিয়ে প্রথম বলেই বাউন্ডারি মারেন, যা তার আক্রমণাত্মক ইচ্ছা প্রকাশ করে। পরের বলেই আরশদিপ সিংয়ের ওপর দারুণ শটে চারটি রান যোগ করেন, ফলে তিনি দ্রুত নিজের শক্তির জোনে ফিরে আসেন। একই ওভারে আরশদিপ সিংয়ের ওপর দুইটি অতিরিক্ত চারও মারেন, যা দক্ষিণ আফ্রিকা এয়ের স্কোরে ত্বরান্বিত বৃদ্ধি ঘটায়।
মিলারের আক্রমণাত্মক খেলা ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকে এবং তিনি ডেওয়াল্ড ব্রেভিসের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারিত্ব গড়ে তোলেন। দুজনের মিলিত রান ৯৭, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এই অংশীদারিত্বের সময় মিলার ৬৩ রান, ব্রেভিস ৪৫ রান সংগ্রহ করেন, যা দলকে দ্রুত ১০০ রানের কাছাকাছি নিয়ে যায়।
ব্রেভিস ৫১ রান করে আউট হওয়ার পরও মিলার একা চালিয়ে যান। তিনি ৩৫ বলে ৬৩ রান করেন, তবে শেষ পর্যন্ত আউট হন। তার অবদান সত্ত্বেও, দক্ষিণ আফ্রিকা এ ১৮৭ রানে লক্ষ্য পূরণ করে, যা ভারত এয়ের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।
ভারত এয়ের শিকড়ে ট্রিস্টান স্টাবসের ২৪ রান ছিল, তবে তিনি ৪৪ বলে আটকে যান। তার পরের অংশীদারিত্বগুলো যথেষ্ট না হওয়ায় ভারত এ দ্রুত পতনের মুখোমুখি হয় এবং শেষ পর্যন্ত ১১১ রানে আটকে যায়। দক্ষিণ আফ্রিকা এয়ের বোলাররা ধারাবাহিক চাপ দিয়ে ভারত একে দ্রুত আউট করেন।
ম্যাচের শেষ পর্যায়ে ভারত এয়ের স্পিনার ভারুন চক্রবর্তি ৪ ওভারে ৪৭ রান দেন, যা তার ব্যয়বহুল পারফরম্যান্সকে নির্দেশ করে। তবে দক্ষিণ আফ্রিকা এয়ের বোলাররা সামগ্রিকভাবে ভারুনের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে এবং ভারত একে সীমিত স্কোরে আটকে রাখে।
ডেভিড মিলার ম্যাচের পর মিডিয়ার সামনে তার কৌশল ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, চাপের মুহূর্তে নিজের শক্তির জোনে অটল থাকতে চেয়েছেন এবং গভীর গর্তে না গিয়ে সরাসরি ফিল্ডারদের ওপর বল পাঠানোর চেষ্টা করেছেন। তিনি জুটি গড়ে তোলা, প্রান্ত বদল করা এবং নিজের জোনে বল পেলে তা কাজে লাগানোর কথা উল্লেখ করেন।
মিলার আরও জানান, ভারতীয় স্পিনারদের সামনে আক্রমণাত্মক হওয়া তাদের পরিকল্পনা ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বমানের সব বোলারদের সঙ্গে তারা বহুবার খেলেছে এবং স্পিনের সামনে আগ্রাসী খেলা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এই কৌশলই শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকা একে জয়ের পথে নিয়ে যায়।
দক্ষিণ আফ্রিকা এয়ের এই জয় দলকে পরবর্তী রাউন্ডে অগ্রসর করে। পরের ম্যাচের সময়সূচি এখনও নির্ধারিত, তবে দলটি এখন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরবর্তী প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হতে প্রস্তুত।



