মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে সাম্প্রতিক সতর্কবার্তাকে ‘ভুল’ বলে খণ্ডন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তার ইরান‑সংক্রান্ত ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্কতা প্রকাশের পর ট্রাম্প টুইটের মাধ্যমে তা ‘ফেক নিউজ’ হিসেবে চিহ্নিত করেন। এই বিবৃতি যুক্তরাষ্ট্রের ইরান নীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক অবস্থানকে কেন্দ্র করে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইন সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্পকে ইরানের ওপর সম্ভাব্য আক্রমণের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। কেইন উল্লেখ করেন, হঠাৎ সামরিক পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতে জড়িয়ে ফেলতে পারে এবং মার্কিন সেনাবাহিনীর ক্ষতির সম্ভাবনা বাড়াতে পারে। তদুপরি, ইরানের প্রতিক্রিয়ায় আঞ্চলিক মিত্রদের সমর্থন ও প্রয়োজনীয় অস্ত্র সরবরাহের প্রশ্নও উত্থাপিত হয়েছে।
ট্রাম্পের সামাজিক মাধ্যমের বার্তায় তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ড্যান কেইন কোনো যুদ্ধের বিরোধিতা করেননি এবং যদি পরিস্থিতি প্রয়োজনীয় হয়, যুক্তরাষ্ট্র জয়ী হবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইরান‑সংক্রান্ত তথ্যকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃত করা হয়েছে বলে দাবি করেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে তিনি পূর্বে প্রকাশিত সতর্কবার্তাকে ‘ফেক নিউজ’ বলে লেবেল করেন।
ড্যান কেইনের দফতর পরে স্পষ্ট করে জানায়, তার দায়িত্ব হল বেসামরিক নেতৃত্বকে সম্ভাব্য সামরিক বিকল্প, ঝুঁকি ও তার প্রভাব সম্পর্কে অবহিত করা। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রাজনৈতিক নেতৃত্বের হাতে, যা প্রেসিডেন্টের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। দফতরের এই ব্যাখ্যা ট্রাম্পের মন্তব্যের সঙ্গে পার্থক্য তুলে ধরে এবং সামরিক ও রাজনৈতিক স্তরের ভূমিকা আলাদা করে।
মার্কিন সরকার বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে তার সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়ে তুলেছে। ওয়াশিংটন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীর সমর্থন বন্ধের দাবি করে চাপ বাড়িয়ে চলেছে। একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা উন্মুক্ত রাখলেও, তার কঠোর শর্ত মেনে নেওয়া সম্ভব না বলে ইরান পক্ষের প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে।
ইরান সরকার বলছে, তারা আলোচনার পক্ষে থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের শর্তগুলো গ্রহণযোগ্য নয়। ইরানের এই অবস্থান নির্দেশ করে যে, কোনো সামরিক সংঘর্ষের আগে কূটনৈতিক সমঝোতার সুযোগ এখনও বিদ্যমান। তবে, যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি সামরিক উপস্থিতি এবং ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্পের প্রতি উদ্বেগ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, বর্তমান পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠছে এবং সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বাড়াতে পারে। ইরান‑যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের পুনর্গঠন বা নতুন সংঘাতের ঝুঁকি উভয়ই আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর প্রভাব ফেলবে। তাই, উভয় পক্ষের কূটনৈতিক পদক্ষেপ ও সামরিক প্রস্তুতি পরবর্তী সপ্তাহে কীভাবে বিকশিত হবে তা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে থাকবে।
পরবর্তী ধাপে, মার্কিন সরকার সম্ভবত ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রমের ওপর অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বিবেচনা করতে পারে, অথবা ইরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা চালিয়ে যাবে। ইরানও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে তার কূটনৈতিক কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে পারে, তবে তার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র নীতি পরিবর্তনের জন্য স্পষ্ট প্রণোদনা প্রয়োজন হবে। উভয় দেশের নেতৃত্বের সিদ্ধান্তই মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিবেশের দিক নির্ধারণ করবে।



