ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) গতকাল ইউএস‑ইউরোপ বাণিজ্য চুক্তির অনুমোদন প্রক্রিয়া স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বাণিজ্য কমিটি জরুরি বৈঠক ডেকে এই পদক্ষেপের আনুষ্ঠানিকতা নিশ্চিত করেছে। সিদ্ধান্তের পেছনে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর স্বচ্ছতা ও আইনি স্পষ্টতার দাবি রয়েছে।
ইইউর বাণিজ্য প্রতিনিধি জেলজোনা জোভকো ব্লুমবার্গকে জানায়, ইইউ আর কোনো বিকল্প পথ দেখতে পাচ্ছে না এবং চুক্তি অনুমোদনের প্রক্রিয়া বিলম্ব ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি পরিষ্কার না হলে ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ও বাজারের পূর্বাভাসে বড় ধাক্কা লাগতে পারে।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বাণিজ্য কমিটির চেয়ারম্যান জরুরি বৈঠকের আহ্বান জানিয়ে, সদস্যদেরকে তৎক্ষণাৎ উপস্থিত হতে নির্দেশ দেন। এই বৈঠকে ইইউর দূতদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে, যা চুক্তি সংক্রান্ত আলোচনার গুরুত্বকে তুলে ধরে।
বৈঠকের মূল এজেন্ডা হল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য‑সমঝোতা পুনরায় মূল্যায়ন করা এবং সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা। ইইউ কমিশনও এই আলোচনার অংশ হিসেবে ওয়াশিংটনের কাছে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা দাবি করেছে।
কমিশনের বিবৃতি অনুযায়ী, ইইউর ব্যবসায়ীদের আইনি স্বচ্ছতা এবং বাজারের পূর্বাভাসযোগ্যতা জানার অধিকার রয়েছে। বর্তমান সময়ে এই অধিকারগুলো পূরণ হচ্ছে না বলে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
ইইউ কমিশন উল্লেখ করে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তি উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক হতে পারত। তবে চুক্তির ভবিষ্যৎ কী হবে তা স্পষ্ট না হওয়ায় ব্যবসায়িক ঝুঁকি বাড়ছে।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার গতি ধীর হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে ইইউ কমিশন ওয়াশিংটনের কাছে চুক্তির শর্তাবলী ও প্রয়োগের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য চায়।
ইইউ কর্তৃপক্ষের মতে, স্বচ্ছতা না থাকলে ইউরোপীয় বাজারে অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি পাবে, যা বিনিয়োগের প্রবাহ ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই তারা দ্রুত স্পষ্টতা অর্জনের জন্য চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বাণিজ্য‑কমিটির জরুরি বৈঠকে ইইউর দূতদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার দিকনির্দেশনা নির্ধারণের চেষ্টা করা হবে। বৈঠকে চুক্তির সম্ভাব্য সুবিধা, ঝুঁকি এবং পরবর্তী পদক্ষেপের রূপরেখা তৈরি করা হবে।
ইইউ কমিশন জোর দিয়ে বলেছে, ব্যবসায়িক পরিবেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা অপরিহার্য। বর্তমান অনিশ্চয়তা বাজারের পূর্বাভাসযোগ্যতা হ্রাস করে, যা ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর কৌশলগত পরিকল্পনাকে প্রভাবিত করে।
চুক্তির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে স্পষ্টতা না থাকলে ইউরোপীয় রপ্তানি ও আমদানি উভয়ই প্রভাবিত হবে। বিশেষ করে অটোমোবাইল, কৃষি ও প্রযুক্তি সেক্টরে চুক্তির সুবিধা প্রত্যাশা করা হচ্ছিল, যা এখন অস্থিরতার মুখে।
ইইউ কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি উভয় পক্ষের জন্য অর্থনৈতিক সুবিধা এনে দিতে পারত। তবে স্বচ্ছতা ও আইনি নিশ্চয়তা না থাকলে এই সম্ভাবনা বাস্তবায়িত হওয়া কঠিন।
বাজার বিশ্লেষকরা ইইউর এই পদক্ষেপকে একটি সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখছেন, যা বাণিজ্য‑নির্ভর সেক্টরে অস্থায়ী অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। তবে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হলে দীর্ঘমেয়াদে চুক্তি পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়ে যায়।
সারসংক্ষেপে, ইইউ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির অনুমোদন প্রক্রিয়া স্থগিত করেছে, স্বচ্ছতা ও আইনি স্পষ্টতার দাবি তুলে ধরে। এই পদক্ষেপের ফলে ইউরোপীয় বাজারে স্বল্পমেয়াদী অনিশ্চয়তা বাড়লেও, দীর্ঘমেয়াদে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হলে চুক্তি পুনরায় আলোচনার সম্ভাবনা রয়ে যাবে।



