ভ্যাঙ্কুভার ফিল্ম ক্রিটিক্স সর্কল সোমবার রাতের অনুষ্ঠান শেষে ২০২৫ সালের সেরা চলচ্চিত্রের তালিকায় পল থমাস অ্যান্ডারসনের ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’কে বেছে নিয়েছে। এই পুরস্কারটি ভ্যানকুভারের প্রধান চলচ্চিত্র সমালোচকদের সমাবেশে প্রদান করা হয়, যেখানে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের জন্য একাধিক ক্যাটেগরি নির্ধারিত ছিল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিল্পী ও সমালোচকরা এই নির্বাচনের গুরুত্বকে উল্লেখ করে ভবিষ্যৎ অস্কার পুরস্কার অনুষ্ঠানের পূর্বাভাস হিসেবে তুলে ধরেছেন।
‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’ পূর্বে সর্কলের সাতটি ক্যাটেগরিতে নামাঙ্কিত ছিল, যার মধ্যে সেরা পরিচালক, সেরা চিত্রনাট্য এবং সেরা অভিনেতা ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই বিস্তৃত মনোনয়ন তালিকা চলচ্চিত্রের শিল্পগত মান ও সামাজিক প্রাসঙ্গিকতা উভয়ই স্বীকৃতির ইঙ্গিত দেয়। শেষ পর্যন্ত সেরা ছবির পুরস্কার জয়ী হওয়ায় চলচ্চিত্রটি অস্কার জয়ের পথে আরও দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সিন পেনকে সেরা সমর্থনকারী পুরুষ অভিনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, তার রাজনৈতিক থ্রিলার ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’এ অভিনয়কৃত চরিত্রের জন্য। পেনের পারফরম্যান্সকে সমালোচকরা তীক্ষ্ণতা ও গভীরতা সম্পন্ন বলে প্রশংসা করেন, যা ছবির মূল থিমকে শক্তিশালী করে। এই পুরস্কারটি তার ক্যারিয়ারের দীর্ঘস্থায়ী সাফল্যের আরেকটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।
রায়ান কুগ্লার ‘সিনার্স’ ছবির জন্য সেরা পরিচালক ও সেরা চিত্রনাট্য দুইটি পুরস্কার একসাথে জিতেছেন। ভ্যাম্পায়ার থিমে আধুনিক সমাজের অন্ধকার দিককে তুলে ধরতে কুগ্লারের দৃষ্টিভঙ্গি সমালোচকদের কাছ থেকে উচ্চ প্রশংসা পেয়েছে। ‘সিনার্স’ তার চমৎকার ভিজ্যুয়াল স্টাইল এবং সূক্ষ্ম গল্প বলার পদ্ধতির জন্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’ এবং ‘সিনার্স’ দুটোই ২০২৬ সালের অস্কার পুরস্কার অনুষ্ঠানের জন্য শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভ্যাঙ্কুভার সমালোচকদের এই স্বীকৃতি উভয় ছবির আন্তর্জাতিক বাজারে প্রচার বাড়াবে এবং দর্শকদের আগ্রহ জাগাবে। বিশেষ করে ‘সিনার্স’ এর ভ্যাম্পায়ার উপাদান ও সামাজিক মন্তব্যের মিশ্রণকে অস্কার জয়ের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলেছে।
টিমোথি শ্যালামেটকে সেরা পুরুষ অভিনেতা পুরস্কার প্রদান করা হয়, জোশ সাফডির পরিচালিত ‘মার্টি সুপ্রিম’ ছবিতে তার পারফরম্যান্সের জন্য। এই চলচ্চিত্রটি পিং-পং গেমের পটভূমিতে গড়ে ওঠা একটি রোমাঞ্চকর কেপার, যেখানে শ্যালামেটের চরিত্রের চঞ্চলতা ও তীব্রতা সমালোচকদের দৃষ্টিতে আলাদা স্বাদ যোগ করেছে। তার অভিনয়কে চলচ্চিত্রের সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে ধরা হয়েছে।
জেসি বাকলি ‘হ্যামনেট’ ছবিতে তার ভূমিকায় সেরা নারী অভিনেতা পুরস্কার জিতেছেন। ক্লোয়ে ঝাও পরিচালিত এই শেক্সপিয়ারিক নাটকটি মানবিক দুঃখ ও প্রেমের জটিলতা তুলে ধরে, যেখানে বাকলির পারফরম্যান্সকে সূক্ষ্ম ও হৃদয়স্পর্শী বলা হয়েছে। এই স্বীকৃতি তার ক্যারিয়ারের নতুন শীর্ষবিন্দু হিসেবে বিবেচিত।
অ্যামি মাডিগানকে সেরা সমর্থনকারী নারী অভিনেতা পুরস্কার প্রদান করা হয়, জ্যাক ক্রেগারের ‘ওয়েপন্স’ ছবিতে তার অদ্ভুত এবং অশুভ চাচার চরিত্রের জন্য। মাডিগানের অভিনয়কে ভয় এবং হাস্যরসের মিশ্রণ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা ছবির টোনকে সমৃদ্ধ করেছে। এই পুরস্কার তার বহুমুখী অভিনয় দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে গণ্য।
ডকুমেন্টারি বিভাগে গীতা গাঁধবীরের ‘দ্য পারফেক্ট নেবার’ চলচ্চিত্রটি সেরা ডকুমেন্টারি পুরস্কার পেয়েছে। এই কাজটি ২০২৩ সালের এক মারাত্মক গুলিবিদ্ধ ঘটনার মাধ্যমে ‘স্ট্যান্ড ইউর গ্রাউন্ড’ আইনগুলোর সামাজিক প্রভাব বিশ্লেষণ করে। গাঁধবীরের গবেষণামূলক পদ্ধতি ও মানবিক দৃষ্টিকোণকে সমালোচকরা প্রশংসা করেছেন, যা চলচ্চিত্রকে তথ্যবহুল ও আবেগপূর্ণ করে তুলেছে।
আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র বিভাগে ইরানীয় পরিচালক জাফার পানাহিরের ‘ইট ওয়াজ জাস্ট অ্যান এক্সিডেন্ট’কে সেরা পুরস্কার দেওয়া হয়, যা ইংরেজি ব্যতীত অন্য কোনো ভাষায় নির্মিত। এই চলচ্চিত্রটি সামাজিক বাস্তবতা ও মানবিক ত্রুটিগুলোকে সূক্ষ্মভাবে উপস্থাপন করে, যা আন্তর্জাতিক সমালোচকদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। পানাহিরের কাজকে স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাণের মডেল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সার্বিকভাবে, ভ্যাঙ্কুভার ফিল্ম ক্রিটিক্স সর্কলের এই পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান চলচ্চিত্র শিল্পের বর্তমান প্রবণতা ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা উন্মোচন করেছে। পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রগুলো কেবল শিল্পগত উৎকর্ষই নয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়গুলোর প্রতি সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গি প্রদর্শন করে। এই স্বীকৃতি চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য নতুন দৃষ্টিকোণ ও আলোচনার সুযোগ তৈরি করবে।
উল্লেখযোগ্য যে, এই পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রগুলো শীঘ্রই বিশ্বব্যাপী বড় স্ক্রিনে প্রদর্শিত হবে, তাই দর্শকরা এখনই সেগুলো দেখার পরিকল্পনা করতে পারেন। আপনার পছন্দের জেনার অনুযায়ী ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’, ‘সিনার্স’, ‘মার্টি সুপ্রিম’ অথবা ‘হ্যামনেট’ যেকোনোটি বেছে নিন, প্রতিটি চলচ্চিত্রই আপনাকে নতুন অভিজ্ঞতা প্রদান করবে।



