যুক্তরাষ্ট্রের ন্যায়বিচার বিভাগ সম্প্রতি এপস্টেইন ফাইলের বিশাল পরিমাণ নথি প্রকাশ করেছে, যার মধ্যে ভারতীয় তেল‑গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর সঙ্গে জেফ্রি এপস্টেইনের ইমেইল আদান‑প্রদান অন্তর্ভুক্ত। এই প্রকাশের পর বিরোধী দলগুলো মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানিয়ে তীব্র বিতর্কের সূচনা করেছে।
এপস্টেইন ফাইলের মূল নথিগুলোতে দেখা যায়, এপস্টেইন ২০০৮ সালে যৌন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরও ২০১৪‑২০১৫ সালের মধ্যে পুরীর সঙ্গে ইলেকট্রনিক যোগাযোগ বজায় রেখেছেন। এ সময়ের ইমেইলগুলোতে দুজনের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ের আলোচনা রেকর্ড হয়েছে।
ইমেইলগুলোতে এপস্টেইন পুরীকে জানিয়ে দেন যে তিনি রিড হফম্যান নামের একজন আমেরিকান উদ্যোক্তার সঙ্গে কথা বলছেন, যিনি ভারত সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। হফম্যান হলেন লিঙ্কডইনের সহ‑প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রযুক্তি জগতে পরিচিত ব্যক্তিত্ব। এপস্টেইন এই সফরের জন্য পুরীর সহায়তা চেয়েছিলেন।
পুরী হফম্যানের সফরকে সহজতর করার ইচ্ছা প্রকাশ করে উত্তর দেন এবং জানান যে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে প্রস্তুত। এরপর এপস্টেইন হফম্যানকে পুরীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন, পুরীকে ভারতীয় ক্ষেত্রে সহায়তা প্রদানকারী ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।
হফম্যানের পরবর্তী ইমেইলে তিনি পুরীর সঙ্গে কথোপকথনকে প্রশংসা করেন এবং এপস্টেইনের মানুষের নির্বাচন সম্পর্কে মতামতকে ইতিবাচকভাবে উল্লেখ করেন। হফম্যানের এই বার্তায় এপস্টেইনের ব্যক্তিগত স্বাদকে প্রশংসা করা হয়েছে।
পুরী হফম্যানের মন্তব্যের জবাবে এপস্টেইনের প্রতি তার বিশ্বাস প্রকাশ করেন, বলেন যে এপস্টেইনের মানুষের বোঝাপড়া ও অন্তর্দৃষ্টি তার জন্য কোনো সন্দেহের বিষয় নয়। তিনি এপস্টেইনের অন্তর্দৃষ্টিকে প্রশংসা করে বলেন যে তা মানুষের স্বভাব চিহ্নিত করতে সক্ষম।
একটি অতিরিক্ত ইমেইলে পুরী হফম্যানকে জানিয়ে দেন যে তিনি সান ফ্রান্সিসকোতে একটি বৈঠকের জন্য উপস্থিত থাকবেন এবং হফম্যানের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করার পরিকল্পনা করছেন। হফম্যানের উত্তরেও তিনি এই বৈঠককে ইতিবাচকভাবে স্বাগত জানিয়ে বলেন যে পুরীর সঙ্গে আলাপচারিতা তাকে সন্তোষজনক লেগেছে।
এই নথিগুলোর প্রকাশের পর বিরোধী দলগুলো মন্ত্রীর নৈতিকতা ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন তুলেছে। তারা দাবি করে যে এপস্টেইনের সঙ্গে এমন কোনো যোগাযোগ, যদিও তা ব্যবসায়িক বা কূটনৈতিক উদ্দেশ্যেই হোক, রাজনৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য।
হরদীপ সিং পুরী এই অভিযোগের প্রত্যাখ্যান করে জানান যে এপস্টেইনের অপরাধমূলক কার্যকলাপের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই এবং তিনি কোনো অবৈধ কাজের অংশীদার ছিলেন না। তিনি বলেন যে তার সঙ্গে এপস্টেইনের যোগাযোগ শুধুমাত্র সাধারণ কূটনৈতিক ও ব্যবসায়িক আলোচনার সীমার মধ্যে ছিল।
বিরোধী দলগুলো মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানিয়ে সংসদে প্রশ্ন তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা দাবি করে যে জনসাধারণের বিশ্বাস পুনরুদ্ধারের জন্য মন্ত্রীর তৎক্ষণাৎ পদত্যাগ করা প্রয়োজন।
সরকারি পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি, তবে বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন যে এই বিষয়টি আগামী সপ্তাহের পার্লামেন্ট সেশনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে। মন্ত্রীর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান ও সরকারের সামগ্রিক স্বচ্ছতা নীতির ওপর এই ঘটনা কী প্রভাব ফেলবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
এই ঘটনায় এপস্টেইনের অপরাধমূলক ইতিহাস, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যায়বিচার বিভাগের নথি প্রকাশ এবং ভারতের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে তার ইমেইল সংলাপের সংমিশ্রণ রাজনৈতিক পরিসরে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। পরবর্তী সময়ে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশের উপর নির্ভরশীল।



