২৭ আগস্ট ২০২৪ তারিখে প্রফেসর নিয়াজ আহমদ খানকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। ছাত্র-জনতার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং প্রায় আঠারো মাসের কাজের পর পদত্যাগের চিঠি জমা দেন।
কান্না সময়ে তিনি জানিয়েছেন যে, তিনি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছেছিলেন তখন প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ অচল অবস্থায় ছিল। তার দৃষ্টিভঙ্গি ছিল এই অস্থিরতা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়কে পুনরুজ্জীবিত করা, তাই তিনি এই পদকে সাধারণ চাকরি হিসেবে নয়, একটি উদ্ধার মিশন হিসেবে দেখেছিলেন। তার নিয়োগপত্রেও অস্থায়ী নিয়োগের উল্লেখ ছিল।
দায়িত্বের প্রথম দিকে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পুনরায় চালু করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেন। শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে ক্লাসের সময়সূচি পুনঃনির্ধারণ, প্রশাসনিক কাজের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং অবকাঠামো মেরামতে অগ্রাধিকার দেন। তার মতে, এই সব প্রচেষ্টার ফলে বিশ্ববিদ্যালয় এখন বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে মোটামুটি উন্নত অবস্থায় রয়েছে।
যখন তিনি শিক্ষা মন্ত্রীর কাছে পদত্যাগের চিঠি দেন, মন্ত্রী তার সিদ্ধান্ত নিয়ে পুনরায় জিজ্ঞাসা করেন। নিয়াজ আহমদ স্পষ্টভাবে জানান যে, তার পদত্যাগের ইচ্ছা দীর্ঘদিনের চিন্তা ও পরিকল্পনার ফল এবং তিনি কোনো মুহূর্তে মন পরিবর্তন করেননি। তবে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে শূন্যতা না রেখে সমঝোতার মাধ্যমে প্রস্থান করতে চান, এ কারণেই তিনি সমঝোতার পথ বেছে নেন।
কিছু বিশ্লেষক অনুমান করেন যে, রাজনৈতিক দলীয় লোকদের বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, যদি তিনি পদে দৃঢ়ভাবে আটকে থাকেন, তবে তা কাজের বদলে চাকরি হয়ে যাবে এবং প্রকৃত দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হবে না। তিনি স্বীকার করেন যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা এমন যে, সরকারী নীতি ও চিন্তাধারা প্রভাব ফেলতে পারে, তবে সেগুলোকে তাদের নিজস্ব পদ্ধতিতে কাজ করতে দেওয়া উচিত।
তার ১৮ মাসের মেয়াদে তিনি তিনটি প্রধান কাজকে সর্বোচ্চ সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন। প্রথমটি হল বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক সংস্থাগুলোর সংহতি বৃদ্ধি। কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ও কেন্দ্রীয় ছাত্র ইউনিয়নের কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে এবং সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট টিমের কাজকে সিন্ডিকেটের অনুমোদিত কাঠামোর মধ্যে আনয়ন করা হয়েছে। ফলে উপাচার্য ইচ্ছা করলেও সব ক্ষমতা একতরফা ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
দ্বিতীয় অর্জন হল গবেষণা ক্ষেত্রের উন্নতি। সীমিত সম্পদ সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। প্রশাসন গবেষকদের জন্য আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা বাড়িয়ে, বিভাগীয় সীমানা অতিক্রম করে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো গবেষণার গুণগত মান ও প্রকাশনার সংখ্যা বৃদ্ধি করেছে।
তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হল প্রশাসনিক কাঠামোর সংস্কার। সিন্ডিকেটের অনুমোদিত একটি সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট টিম গঠন করা হয়েছে, যা পূর্বে অনিয়মিতভাবে কাজ করত। এখন এই টিমের সিদ্ধান্তগুলো স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গৃহীত হয় এবং উপাচার্য একা সবকিছু পরিবর্তন করতে পারে না। এই সংস্কারগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বাড়িয়েছে।
এছাড়াও তিনি উল্লেখ করেন যে, যদিও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে, তবুও বিশ্ববিদ্যালয় সম্পূর্ণ বন্ধের অবস্থা থেকে কার্যকরী অবস্থায় ফিরে এসেছে। শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উভয়েরই এখন স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশে অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে।
অবশেষে তিনি বলেন, তার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি আর উপাচার্য হিসেবে কাজ চালিয়ে যেতে চান না, কারণ তার মূল মিশন সম্পন্ন হয়েছে এবং তিনি অস্থায়ী নিয়োগের শর্তে কাজ করছিলেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সম্প্রদায়ের জন্য এখন সময় এসেছে অর্জিত সাফল্য বজায় রাখার এবং নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার। তিনি সবাইকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাসনব্যবস্থায় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান, যাতে স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক নীতি আরও দৃঢ় হয়।
আপনার মতামত কী? আপনি কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে নিজের ভূমিকা রাখতে পারেন, তা নিয়ে চিন্তা করুন এবং আপনার ধারণা শেয়ার করুন।



