কেন্টের গ্রেস বেল এবং তার সঙ্গী স্টিভ পাওয়েল ১০ সপ্তাহ বয়সী হুগোকে স্বাগত জানিয়েছেন, যিনি যুক্তরাজ্যের প্রথম শিশুটি যাকে মৃত দাতার গর্ভধারণের অঙ্গ প্রতিস্থাপন করে জন্মানো হয়েছে। বেল ৩০-এর দশকে ছিলেন এবং জন্মের সময়ই গর্ভধারণের অঙ্গের অনুপস্থিতি নিয়ে জন্মেছিলেন।
বেল ও পাওয়েল দাতা পরিবার এবং অক্সফোর্ড ও লন্ডনের চিকিৎসা দলকে তাদের উদারতা ও সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। দাতার পরিবারকে “অসাধারণ উপহার” হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা এই অনন্য গর্ভধারণের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
অংশগ্রহণকারী সার্জনরা এই জন্মকে “অগ্রণী মুহূর্ত” বলে উল্লেখ করেছেন, যা একই রোগে আক্রান্ত নারীদের জন্য নতুন আশা জাগাতে পারে। গর্ভধারণের অঙ্গের সফল প্রতিস্থাপন ভবিষ্যতে চিকিৎসা গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে।
হুগো ২০২৫ সালের ক্রিসমাসের আগে কুইন চার্লটস অ্যান্ড চেলসি হাসপাতাল, লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেন, ওজন প্রায় ৩.২ কেজি (৭ পাউন্ডের কাছাকাছি)। তার জন্মের সময় পরিবার ও চিকিৎসা কর্মীরা উল্লাসে মেতে উঠেছিলেন।
গ্রেস বেল MRKH সিনড্রোমে আক্রান্ত, যা যুক্তরাজ্যে প্রায় ৫,০০০ নারীকে প্রভাবিত করে। এই রোগে গর্ভধারণের অঙ্গ অনুপস্থিত থাকে, তবে ডিম্বাশয় স্বাভাবিক থাকে এবং মাসিক চক্র দেখা যায় না।
১৬ বছর বয়সে তাকে জানানো হয় যে নিজের সন্তান গর্ভধারণ করা তার জন্য সম্ভব নয়। তখন তার একমাত্র বিকল্প ছিল গর্ভধারণের অঙ্গ প্রতিস্থাপন বা সারোগেসি। উভয় পথই উচ্চ ঝুঁকি ও জটিলতা বহন করে।
একটি দাতা অঙ্গের কল পাওয়ার পর বেল “সম্পূর্ণ শক” এবং “অত্যন্ত উত্তেজনা” অনুভব করেন। একই সঙ্গে তিনি দাতা পরিবারের উপহারকে গভীর সম্মান ও কৃতজ্ঞতা দিয়ে স্বীকার করেন, কারণ এই অঙ্গই তাকে নিজের সন্তান গর্ভধারণের সুযোগ দিয়েছে।
বেল প্রতিদিন দাতা ও তার পরিবারকে স্মরণ করেন এবং তাদের শান্তি কামনা করেন। তিনি বিশ্বাস করেন দাতার সন্তান জন্মের মাধ্যমে জীবনের সর্বোচ্চ উপহার প্রদান করা হয়েছে, এবং দাতার আত্মা চিরকাল তার সঙ্গে থাকবে।
গর্ভধারণের অঙ্গ প্রতিস্থাপন অপারেশন জুন ২০২৪-এ অক্সফোর্ডের চার্চিল হাসপাতালে দশ ঘণ্টা ধরে চালানো হয়। অপারেশনের পর কয়েক মাসের মধ্যে লন্ডনের লিস্টার ফার্টিলিটি ক্লিনিকে আইভিএফ চিকিৎসা ও ভ্রূণ স্থানান্তর করা হয়, যা শেষ পর্যন্ত হুগোর জন্মে পরিণত হয়।
হুগোর জন্মের পর বেল তার অভিজ্ঞতা “একটি অলৌকিক ঘটনা” হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি প্রথম সকালে শিশুর ছোট মুখ ও দুধের নলটি দেখার মুহূর্তকে অমলিন স্মৃতি হিসেবে উল্লেখ করেন।
চিকিৎসা দল এই সফলতাকে একই রোগে আক্রান্ত নারীদের জন্য নতুন পথ হিসেবে দেখছে, তবে দীর্ঘমেয়াদী ফলাফল ও সম্ভাব্য জটিলতা এখনও পর্যবেক্ষণাধীন। গর্ভধারণের অঙ্গের দীর্ঘস্থায়ী কার্যকারিতা ও শিশুর স্বাস্থ্যের উপর আরও গবেষণা প্রয়োজন।
গর্ভধারণের অঙ্গ প্রতিস্থাপন এখনও সীমিত সংখ্যক কেন্দ্রে করা হয়, এবং রোগীর নির্বাচন কঠোর মানদণ্ডের ভিত্তিতে হয়। দাতা অঙ্গের প্রাপ্যতা, দাতা পরিবারের সম্মতি এবং নৈতিক বিবেচনা সবই প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
রোগী ও পরিবারকে শারীরিক ও মানসিক সহায়তা প্রদান করা হয়, কারণ অপারেশন ও গর্ভধারণের পুরো প্রক্রিয়া শারীরিক ও মানসিকভাবে চ্যালেঞ্জিং। মনোবিদ ও পরামর্শদাতারা রোগীর মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেন।
এই ঘটনা যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার গবেষণা ও নীতি নির্ধারণে নতুন দিক নির্দেশ করতে পারে। দাতা অঙ্গের নৈতিকতা, দাতা পরিবারের অধিকার ও রোগীর অধিকার নিয়ে ভবিষ্যতে আরও আলোচনা ও নীতি নির্ধারণের প্রয়োজন হবে।
শেষে, রোগী ও দাতা পরিবারের পারস্পরিক সম্মান ও কৃতজ্ঞতা এই সফলতার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ চিকিৎসা প্রচেষ্টার জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।



