সিডনি শহরের উত্তর রাইডে ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রভাতে ৮৫ বছর বয়সী বিধবা ক্রিস বাগসারিয়ানকে গোপনীয়ভাবে গাড়িতে বাধা দিয়ে নেওয়া হয়; দুই সপ্তাহের অনুসন্ধানের পর পুলিশ গলফ কোর্সের প্রান্তে মানব অবশেষ আবিষ্কার করেছে।
সকালবেলায় বাগসারিয়ানের বাড়ি থেকে তাকে তাড়া করে একটি সেডান গাড়িতে নিয়ে যাওয়ার সময় সিসিটিভি ক্যামেরায় মাস্ক পরা কয়েকজন পুরুষের দল দৃশ্যমান হয়। গাড়িটি দ্রুতই শহরের বাইরে অদৃশ্য হয়ে যায়, ফলে পুলিশকে তৎক্ষণাৎ অনুসন্ধান শুরু করতে হয়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, এই অপহরণ সম্ভবত ভুল পরিচয়ের ফলে ঘটেছে। সংশ্লিষ্ট অপরাধী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তির আত্মীয়কে লক্ষ্য করে অপারেশন চালানো হয়েছিল, তবে ভুল করে বাগসারিয়ানকে টেনে নেওয়া হয়েছে। এই তথ্য স্থানীয় মিডিয়ার সূত্রে প্রকাশ পায়।
অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে পুলিশ একটি পুড়ে যাওয়া গাড়ি খুঁজে পায়, যার ট্রাঙ্কে রক্তমাখা কার্পেট পাওয়া যায়। এই কার্পেটটি সন্দেহভাজনদের সঙ্গে যুক্ত বলে ধারণা করা হয় এবং একই সঙ্গে একটি পরিত্যক্ত বাড়ি চিহ্নিত করা হয়, যেখানে বাগসারিয়ানকে আটক রাখা হয়েছিল বলে অনুমান করা হয়।
মঙ্গলবার, গলফ কোর্সের প্রান্তে অবস্থিত এক অপ্রকাশিত এলাকায় মানব অবশেষ পাওয়া যায়। এই আবিষ্কারটি অপহরণ মামলায় নতুন মোড় এনে দেয় এবং মৃতদেহের সনাক্তকরণে ফরেনসিক দল কাজ শুরু করেছে।
অপহরণ ঘটার পর সিডনির অপরাধ জগতের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে বাগসারিয়ানকে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় দেখা যায়। তিনি দীর্ঘস্থায়ী রোগে ভুগছিলেন এবং প্রতিদিনের ওষুধের প্রয়োজন ছিল, যা পুলিশকে তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন করে তুলেছিল।
পুলিশ ধারাবাহিকভাবে অপরাধীদের কাছে বাগসারিয়ানের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের আবেদন জানিয়ে আসছে। ডিটিএস অ্যান্ড্রু মার্কস, যিনি ঘটনাটির তদারকি করছেন, উল্লেখ করেন যে অপরাধীরা ভুল ব্যক্তি নিয়ে কাজ করেছে এবং পরিবার এখনো তার ফিরে আসার অপেক্ষায়।
নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রধানমন্ত্রীর ক্রিস মিন্সও এই ঘটনার পর সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেছিলেন, অপরাধীরা বাগসারিয়ানকে শপিং সেন্টার, জরুরি বিভাগ বা এমনকি নার্সিং হোমে ফেলে দিতে পারে। এই ধরনের সম্ভাবনা বিবেচনা করে পুলিশকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
সিডনির অপরাধ জগতে ভুল পরিচয়ের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে বাড়ছে। সিডনি মর্নিং হেরাল্ডের রিপোর্ট অনুযায়ী, বড় আকারের অপরাধী নেটওয়ার্কগুলো এখন কাজের অংশ হিসেবে অপরাধের সাব-কন্ট্রাক্টিং করে, যা ভুল সনাক্তকরণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। গত বছর কন্ডেল পার্কে ২৩ বছর বয়সী এক প্লাম্বারকে গুলিয়ে মেরে ফেলা হয়, যা একই ধরণের ভুল পরিচয়ের ফলাফল হিসেবে বিবেচিত হয়।
মার্কস এই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, অপরাধীরা এত বড় ভুল করেছে যে তা সমাজের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে। তিনি আরও জানান, তদন্তে আরও গভীর ফরেনসিক বিশ্লেষণ, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ট্রেসিং এবং সন্দেহভাজনদের আর্থিক লেনদেনের ওপর নজর দেওয়া হবে।
অপরাধী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তির আত্মীয়ের পরিচয় ও তাদের অপরাধমূলক নেটওয়ার্কের কাঠামো উন্মোচনের জন্য বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এখনো কোনো গ্রেফতার প্রকাশ করেনি, তবে সন্দেহভাজনদের উপর নজরদারি বাড়িয়ে তোলা হয়েছে।
ফরেনসিক দল মানব অবশেষের সনাক্তকরণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং ফলাফল পাওয়া মাত্রই পরিবারকে জানানো হবে। একই সঙ্গে, বাগসারিয়ানের পরিবারকে মানসিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
এই ঘটনার পর, সিডনি পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও রাজনীতিবিদরা একত্রে অপরাধমূলক গোষ্ঠীর ভুল সনাক্তকরণ ও অপহরণ প্রতিরোধে নতুন নীতি প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে তথ্য শেয়ারিং, দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে।
বাগসারিয়ানের কেস এখনও তদন্তাধীন, এবং মানব অবশেষের সনাক্তকরণ, সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার এবং অপরাধী নেটওয়ার্কের বিচ্ছিন্নতা নিশ্চিত করার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।



