বিবিসি বাফ্টা ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডসের রেড কার্পেট অনুষ্ঠানে টোয়েটার সিনড্রোমে আক্রান্ত অতিথি জন ডেভিডসন অপ্রত্যাশিতভাবে একটি বর্ণবৈষম্যমূলক শব্দ উচ্চারণের পর সংস্থাটি জনসাধারণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছে।
ইভেন্টটি রবিবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে মাইকেল বি জর্ডান ও ডেলরয় লিন্ডো প্রথম পুরস্কার উপস্থাপন করছিলেন। উপস্থাপনার সময় ডেভিডসন, যিনি ‘আই সোয়ার’ ছবির জীবনীমূলক চরিত্রের ভিত্তিতে পরিচিত, হঠাৎ করে ‘N‑word’ উচ্চারণ করেন।
বিবিসি এক ঘণ্টা দেরি করে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানটি সম্পাদনা না করে সরাসরি দেখানো হয়, ফলে ঐ শব্দটি দর্শকদের কাছে পৌঁছায়। দুই ঘণ্টা দেরি করা পুনরাবৃত্তি সংস্করণে শব্দটি মুছে ফেলা হয়নি, এবং সোমবার সকালে iPlayer-এও তা উপলব্ধ ছিল, যতক্ষণ না বিবিসি তা অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয়।
বিবিসি একটি মুখপাত্রের মাধ্যমে জানায়, “প্রসারিত সম্প্রচারের আগে শব্দটি মুছে না ফেলার জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি এবং এখন iPlayer‑এর সংস্করণ থেকে তা সরিয়ে দিচ্ছি।” সংস্থাটি উল্লেখ করে যে, শব্দটি টোয়েটার সিনড্রোমের অপ্রত্যাশিত টিকের অংশ এবং ইচ্ছাকৃতভাবে বলা হয়নি।
কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি বেডেনকোচ ঘটনাটিকে “ভয়ানক ভুল” বলে সমালোচনা করেন এবং “কেন শব্দটি বীপ করা হয়নি, তা ব্যাখ্যা করা জরুরি” বলে দাবি করেন। তার মন্তব্যের পর বিবিসি অতিরিক্ত কোনো ব্যাখ্যা না দিয়ে বিষয়টি শেষ করে।
বাফ্টা পক্ষও ঘটনাটির পর একটি বিবৃতি প্রকাশ করে, যেখানে তারা “এই ঘটনার ফলে সৃষ্ট ক্ষতি স্বীকার করে, যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে ক্ষমা চায়” বলে জানায়। লিন্ডো অনুষ্ঠান শেষে উল্লেখ করেন, তারা পুরস্কার উপস্থাপন চালিয়ে গেছেন, তবে “বাফ্টা থেকে পরে কোনো যোগাযোগ না পেয়ে আমরা কিছুটা হতাশ”।
টোয়েটার সিনড্রোম একটি স্নায়বিক ব্যাধি, যার বৈশিষ্ট্য হল হঠাৎ, অপ্রত্যাশিত এবং পুনরাবৃত্তি আন্দোলন বা শব্দের টিক। রোগীর মধ্যে ১০ থেকে ৩০ শতাংশের মধ্যে এমন টিক দেখা যায়, যা সামাজিকভাবে অগ্রহণযোগ্য শব্দ, যেমন গালি বা বর্ণবাদী শব্দ, উৎপন্ন করতে পারে; এ ধরনের টিককে ‘কোপ্রোলালিয়া’ বলা হয়। টোয়েটার অ্যাকশন চ্যারিটি অনুযায়ী, এই ধরনের টিক রোগীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে এবং ইচ্ছাকৃত নয়।
জন ডেভিডসন, স্কটল্যান্ডের গালাশিয়েলসের বাসিন্দা এবং টোয়েটার রোগীর অধিকার সংরক্ষণে সক্রিয় কর্মী, এই ঘটনার মাধ্যমে টিকের প্রকৃতি সম্পর্কে জনসাধারণের সচেতনতা বাড়াতে চেয়েছেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, বাফ্টা অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শক ও শিল্পীজনের জন্য এই শব্দটি অপ্রত্যাশিত ও আঘাতজনক হতে পারে।
বিবিসি এবং বাফ্টা উভয়ই এখন থেকে টেলিভিশন ও অনলাইন সম্প্রচারে অনিচ্ছাকৃত টিকের ফলে উদ্ভূত আপত্তিকর শব্দগুলোকে দ্রুত সনাক্ত ও মুছে ফেলার জন্য প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই প্রতিশ্রুতি অনুসারে, ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা ঘটলে তা তৎক্ষণাৎ বীপ করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট দর্শকদের জন্য একটি স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান করা হবে।
এই ঘটনাটি টোয়েটার রোগের সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি ও মিডিয়া দায়িত্বের প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। রোগীর অপ্রত্যাশিত টিকের ফলে সৃষ্ট শব্দের জন্য দায়িত্ব কার, কীভাবে মিডিয়া সংস্থা এই ধরনের টিককে সঠিকভাবে পরিচালনা করবে, এবং দর্শকদের জন্য কী ধরনের সতর্কতা ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত—এগুলো এখন আলোচনার মূল বিষয়।
বিবিসি এবং বাফ্টা উভয়ই এই ঘটনার পর পুনরায় ক্ষমা চেয়ে, ভবিষ্যতে টিক-সম্পর্কিত অপ্রত্যাশিত শব্দের জন্য দ্রুত সম্পাদনা ও স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো টোয়েটার রোগীর অধিকার রক্ষা এবং দর্শকদের জন্য নিরাপদ সম্প্রচার পরিবেশ নিশ্চিত করার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশ করে।



