20 C
Dhaka
Tuesday, February 24, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধহাতকড়া পরা দুই ভাইয়ের বাবা নূর আহমদ (৯০) মারা, মা মোস্তফা (৮০)...

হাতকড়া পরা দুই ভাইয়ের বাবা নূর আহমদ (৯০) মারা, মা মোস্তফা (৮০) দুদিন আগে শেষ

কক্সবাজারের রামু উপজেলায় দুইদিন আগে হাতকড়া পরা অবস্থায় মায়ের শেষ দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া দুই ভাইয়ের ৯০ বছর বয়সী বাবা নূর আহমদের মৃত্যু ঘটেছে। নূর আহমদের মৃত্যু সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় তার নিজ বাড়িতে নথিভুক্ত হয়েছে। তার দুই দিন আগে, শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ৮০ বছর বয়সী মা মোস্তফা বেগম বার্ধক্যজনিত কারণে আরোগ্য হারিয়ে গেছেন।

মোস্তফা বেগমের দাফন অনুষ্ঠান মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রামুর দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের পানেরছড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন মাঠে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। একই সময়ে নূর আহমদের দাফনও পরিকল্পনা করা হয়েছে, তবে দুজনেরই দেহের অবস্থা ও পারিবারিক পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় শেষ মুহূর্তে কিছু পরিবর্তন ঘটতে পারে।

দুই ভাই, যাদের নাম সংবাদে প্রকাশ করা হয়নি, পূর্বে অপরাধমূলক মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে ছিলেন এবং সাম্প্রতিক সময়ে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে হাতকড়া পরা অবস্থায় মায়ের দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নেন। তাদের প্যারোলের শর্তে হাতকড়া বাধ্যতামূলক ছিল, যা স্থানীয় পুলিশ ও আদালত কর্তৃক নির্ধারিত। দাফন অনুষ্ঠানের পরপরই বাবা নূর আহমদের মৃত্যু ঘটায়, পরিবারকে দু’জনেরই শেষ দাফন একসাথে করার জন্য অতিরিক্ত প্যারোলের আবেদন করতে বাধ্য করে।

ইসমাইলের স্ত্রী কুলছুমা বেগম পরিবারের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে জানিয়েছেন যে, তাদের স্বামী কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত নয় এবং বর্তমানে চলমান মামলায় তাকে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। তিনি উল্লেখ করেন, বাবা-মা দুজনই মারা গেছেন, তবু সন্তান হিসেবে তাদের শেষ সেবার দায়িত্ব পালন করতে না পারা একটি বড় কষ্ট। কুলছুমা বেগমের এই বক্তব্য আদালতে বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপনের জন্য পরিবারের প্যারোল আবেদন পুনরায় দাখিল করা হয়েছে।

স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং রামু থানা থেকে জানানো হয়েছে যে, নূর আহমদ ও মোস্তফা বেগমের মৃত্যুর পর তদন্ত চালু রয়েছে। নূর আহমদের মৃত্যুর কারণ প্রাথমিকভাবে স্বাভাবিক বয়সজনিত বলে বিবেচিত হলেও, আদালত ও পুলিশ উভয়ই মৃত্যুর সময়ের পারিবারিক ও শারীরিক অবস্থা যাচাই করার জন্য ফরেনসিক পরীক্ষা চালাবে। একই সঙ্গে, দুই ভাইয়ের অপরাধমূলক মামলার অগ্রগতি ও প্যারোল শর্তাবলী পুনর্বিবেচনা করা হবে।

অভিযোগিত অপরাধের প্রকৃতি ও সংশ্লিষ্ট আইনি ধারা সম্পর্কে এখনও স্পষ্ট তথ্য প্রকাশিত হয়নি, তবে স্থানীয় মিডিয়া জানায় যে, মামলাটি দীর্ঘদিনের একটি গ্যাং-সংক্রান্ত অপরাধের সাথে যুক্ত হতে পারে। আদালত পূর্বে দুই ভাইকে নির্দিষ্ট শর্তে প্যারোল প্রদান করেছিল, যার মধ্যে হাতকড়া পরিধান এবং নির্দিষ্ট সময়ে পুলিশে রিপোর্ট করা অন্তর্ভুক্ত ছিল। প্যারোল শর্ত লঙ্ঘন হলে পুনরায় গ্রেফতার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে প্যারোল পুনরায় চাওয়ার মূল কারণ হল, বাবা নূর আহমদের দাফন অনুষ্ঠানে উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং শেষকৃত্য সম্পন্ন করার জন্য যথাযথ সময় পাওয়া। এছাড়া, কুলছুমা বেগমের দাবি অনুযায়ী, দুই ভাইকে অতিরিক্ত শাস্তি বা দীর্ঘ সময়ের কারাবাসে পাঠানো হলে তাদের মানবিক অধিকার লঙ্ঘিত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আইনি বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, প্যারোল শর্তাবলী পরিবর্তন করা হলে সংশ্লিষ্ট আদালতকে নতুন শর্ত নির্ধারণের জন্য যথাযথ নোটিশ ও শুনানির ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া, দাফন অনুষ্ঠানের সময় নিরাপত্তা বজায় রাখতে স্থানীয় পুলিশকে অতিরিক্ত তদারকি প্রদান করতে হবে।

এই ঘটনার পরবর্তী পর্যায়ে রামু থানা ও কক্সবাজার জেলা আদালত থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি, তবে সূত্র অনুযায়ী আগামী কয়েক দিনের মধ্যে প্যারোল আবেদন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পরিবার ও সংশ্লিষ্ট আইনগত প্রতিনিধিরা আদালতে উপস্থিত হয়ে প্যারোলের শর্তাবলী পুনর্বিবেচনা ও দাফন অনুষ্ঠানের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আবেদন করবে।

সামগ্রিকভাবে, দুই ভাইয়ের প্যারোল, তাদের বাবা-মার একসাথে মৃত্যুর ঘটনা এবং মামলার চলমান অবস্থা স্থানীয় সমাজে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতি আইনগত প্রক্রিয়া ও মানবিক দিক উভয়ই সমন্বিতভাবে সমাধান করা প্রয়োজন, যাতে সংশ্লিষ্ট সকলের অধিকার রক্ষা পায় এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments