নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা উপজেলার ফতুল্লা জেল থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফেরার প্রায় এক ঘণ্টা পরই ৩৯ বছর বয়সী ইমন (ওমর খৈয়ামের পুত্র) সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হাতে গুলিয়ে মারা যান। ঘটনাটি সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাত প্রায় ৯ টার দিকে গুদারাঘাট মিস্ত্রিবাগের শেষ মাথায়, একটি বাড়ির সামনে ঘটেছে।
ইমন দীর্ঘ সময় কারাবাসের পর সাপ্তাহিক সন্ধ্যায়, প্রায় বিকাল ৭:৩০ টায় জামিন পেয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। তার বাড়ি থেকে বের হওয়ার কিছুক্ষণ পরই ফেরদৌস নামের এক ব্যক্তি ফোনে তাকে ডেকে গুদারাঘাট মিস্ত্রিবাগ এলাকায় নিয়ে যায়।
ফেরদৌসের সঙ্গে গিয়ে ইমনকে জাহিদ ও ‘চক্ষু’ হৃদয়সহ অন্য কয়েকজন সন্ত্রাসী হাতে তুলে দেয়া হয়। এরপর তারা ইমনকে একাধিকবার গুলিয়ে মারেন। গুলির পর ইমন পার্শ্ববর্তী একটি বাড়িতে আশ্রয় নিতে চেষ্টা করেন, কিন্তু সন্ত্রাসীরা আবার তাকে আক্রমণ করে এবং আহত অবস্থায় ছেড়ে দেন।
গুরুতর রক্তপাতের শিকার ইমনকে স্থানীয় খানপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর উপস্থিত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবারের দাবি অনুসারে, হৃদয় নামের সন্দেহভাজন সম্প্রতি কারাগার থেকে জামিনে বের হয়েছেন এবং ইমন সঙ্গে ইলেকট্রিক কাজ করতেন। এ তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ গুলিবিদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সনাক্তকরণে কাজ বাড়িয়ে দিয়েছে।
ফতুল্লা মডেল থানা ওসি আব্দুল মান্নান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, ঘটনাটি জানার সঙ্গে সঙ্গে তিনিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা现场ে উপস্থিত হন। গুলিবিদ্ধের সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার ও তদন্তের জন্য থানা একাধিক টিম গঠন করেছে।
পুলিশের মতে, গুলিবিদ্ধের সঙ্গে যুক্ত অপরাধীদের সনাক্তকরণ, সাক্ষ্য সংগ্রহ এবং ফরেনসিক বিশ্লেষণ চলমান। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলা দায়ের করা হবে এবং আদালতে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য প্রমাণ সংগ্রহে ত্বরান্বিত কাজ করা হবে।
অপরাধের তদন্তে স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও উচ্চতর পর্যায়ের তদন্তকারী দপ্তর একসঙ্গে কাজ করবে। সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার, আদালতে হাজিরা এবং মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে পরবর্তী তথ্য প্রকাশের জন্য পুলিশি সূত্র থেকে আপডেট দেওয়া হবে।
এই ধরনের সহিংস অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলি সতর্কতা বাড়িয়ে তুলেছে। সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিবেচনা করা হচ্ছে যে, গুলিবিদ্ধের সঙ্গে যুক্ত অপরাধীরা ইলেকট্রিক কাজের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন, যা তদন্তে নতুন দিক যোগ করতে পারে। সংশ্লিষ্ট সকল তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহের পর, আদালতে মামলার শোনানির তারিখ নির্ধারিত হবে।
সামাজিক সংবেদনশীলতা বজায় রেখে, এই ধরনের অপরাধের শিকার পরিবারকে সমর্থন ও সহায়তা প্রদান করা হবে এবং ভবিষ্যতে এধরনের ঘটনা রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে।



