লর্ড ম্যান্ডেলসনকে পাবলিক অফিসে দায়িত্বদায়কতার অপব্যবহারের সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়েছে। ৭২ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদকে সোমবার লন্ডনের ক্যামডেন, উত্তর লন্ডনের একটি ঠিকানায় মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্মকর্তারা আটক করে জিজ্ঞাসাবাদীর জন্য পুলিশ স্টেশনে নিয়ে গেছেন। গ্রেফতারটি সংশ্লিষ্ট অপরাধের সন্দেহের ভিত্তিতে করা হয়েছে। অপরাধের সন্দেহের মধ্যে সরকারি তথ্যের অননুমোদিত প্রকাশ ও আর্থিক স্বার্থের সম্ভাবনা অন্তর্ভুক্ত।
পুলিশের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে ক্যামডেনের পাশাপাশি উইল্টশায়ার জেলায় দুটি ঠিকানায় অনুসন্ধানী ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিল। এই অনুসন্ধানগুলো গ্রেফতারকে পূর্বাভাস দেয়া তথ্যের সাথে সংযুক্ত। সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিগুলোতে প্রাসঙ্গিক নথি ও প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে।
এই গ্রেফতারের পেছনে এই মাসের শুরুর দিকে শুরু হওয়া একটি তদন্তের সূত্র রয়েছে, যেখানে অভিযোগ করা হয়েছে লর্ড ম্যান্ডেলসন তার মন্ত্রিপদকালে মৃত দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে সংবেদনশীল সরকারি তথ্য ভাগ করে নিয়েছিলেন। অভিযোগ অনুসারে তিনি বাজারের দামের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এমন নীতি সংক্রান্ত তথ্য এপস্টেইনকে প্রদান করেছিলেন। প্রকাশিত তথ্যের মধ্যে আর্থিক নীতি, সম্পদ বিক্রয় এবং ইউরো বেলআউটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।
লর্ড ম্যান্ডেলসন সাম্প্রতিক সপ্তাহে এপস্টেইন ফাইল নিয়ে কোনো প্রকাশ্য মন্তব্য করেননি। তিনি নিজেকে অপরাধমূলক কোনো কাজের সঙ্গে যুক্ত না বলে এবং আর্থিক স্বার্থের ভিত্তিতে কাজ করেননি বলে দাবি করেছেন। তার এই অবস্থান এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি হিসেবে প্রকাশিত হয়নি।
গ্রেফতারকালে লর্ড ম্যান্ডেলসনকে নগ্ন পোশাকের কর্মকর্তারা লন্ডনের তার বাড়ি থেকে বের করে অচিহ্নিত গাড়ির পেছনের সিটে বসিয়ে নিয়ে গেছেন। তিনি সরাসরি কোনো চিহ্নিত পুলিশ গাড়িতে না গিয়ে অচিহ্নিত গাড়িতে স্থানান্তরিত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিতদের মতে তিনি শান্তভাবে অনুসরণ করা হয়েছিলেন। গ্রেফতারের সময় প্রতিবেশীরা ঘটনাটি লক্ষ্য করে এবং পুলিশকে ফোন করে জানায়।
মেট্রোপলিটন পুলিশের কেন্দ্রীয় স্পেশালিস্ট ক্রাইম ডিভিশনের কর্মকর্তারা এই গ্রেফতার পরিচালনা করেছেন। বর্তমানে গ্রেফতার সংক্রান্ত বিষয়গুলো মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং ক্রাউন প্রোসিকিউশন সার্ভিসের মধ্যে পরামর্শের পর্যায়ে রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপগুলো নির্ধারণের জন্য উভয় সংস্থা সমন্বয় করছে।
ম্যান্ডেলসনের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিসের সাম্প্রতিক নথি প্রকাশের পর উন্মোচিত হয়। ওই নথিগুলোর মধ্যে ম্যান্ডেলসন ও এপস্টেইনের মধ্যে ইমেইল বিনিময় অন্তর্ভুক্ত ছিল। ২০০৯ সালের একটি ইমেইলে তিনি গর্ডন ব্রাউনকে উপদেষ্টার মূল্যায়ন পাঠিয়ে দেন, যেখানে সম্পদ বিক্রয় পরিকল্পনা এবং ব্যাংকারদের বোনাসের উপর কর সংক্রান্ত প্রস্তাবনা ছিল। ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিসের এই নথি প্রকাশের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে সম্পর্কের ব্যাপক তদন্ত শুরু হয়।
ইমেইলে আরও দেখা যায় যে তিনি ইউরোর জরুরি বেলআউট প্যাকেজের অনুমোদন সম্পর্কে পূর্বেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, যা ২০১০ সালে সরকারীভাবে প্রকাশের এক দিন আগে ছিল। এই তথ্যগুলো বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারত বলে অভিযোগের ভিত্তি গঠিত হয়েছে। ম্যান্ডেলসন



