গোল্ডেন স্টেট ওয়ারিয়র্সের প্রধান কোচ স্টিভ কের নভেম্বর মাসের একটি এনবিএ গেমের প্রেস কনফারেন্সে গন হিংসা বিরোধী তার অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি সম্প্রতি নেটফ্লিক্সে স্ট্রিমিং হচ্ছে এমন ডকুমেন্টারি “All the Empty Rooms”‑এর এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসার হিসেবে কাজ করছেন বলে জানিয়ে দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। একই সময়ে ল্যানি কমিউনিটি কলেজের অ্যাথলেটিক ডিরেক্টর ও “Last Chance U”‑এর কোচ জন বীমের গুলি হত্যার শোক প্রকাশের জন্য তিনি সমবেদনা জানিয়ে সংস্কার দাবি করেন।
কেরের ক্যারিয়ার এনবিএ ইতিহাসে এক অনন্য স্থান দখল করে। তিনি মোট নয়টি চ্যাম্পিয়নশিপ রিং অর্জন করেছেন—পাঁচটি খেলোয়াড় হিসেবে এবং চারটি কোচ হিসেবে। তাছাড়া তিনি ক্যারিয়ার ৩-পয়েন্ট শুটিং পারসেন্টেজের রেকর্ড ধারক, যা তাকে শুটিং দক্ষতার দিক থেকে সর্বোচ্চ মানদণ্ডে স্থাপন করেছে। এসব সাফল্য তাকে কোর্টের বাইরে সামাজিক বিষয়েও প্রভাবশালী করে তুলেছে।
স্টিভ কেরের ব্যক্তিগত দুঃখের মূল কারণ তার পিতা মালকম কেরের হত্যাকাণ্ড। ১৯৮৪ সালে লেবাননের আমেরিকান ইউনিভার্সিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করছিলেন মালকম, যখন তিনি দুইজন গনম্যানের হাতে গুলি করে নিহত হন। এই হামলা ইসলামিক জিহাদ অর্গানাইজেশন দাবি করেছিল, যা হেজবুলার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কযুক্ত। পিতার মৃত্যুর আগে তিনি লেবাননের নাগরিকদের শূন্য ভবন ব্যবহার করে ইসরায়েলি আক্রমণ থেকে রক্ষা করার ব্যবস্থা করলেও, ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের তদারকি অনুমোদন করেননি।
পিতার এই ট্র্যাজেডি কেরকে গন সেফটির পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করে। তিনি বারবার যুক্তরাষ্ট্রের গন সংস্কার নিয়ে আলোচনা করার আহ্বান জানান এবং সাধারণ যুক্তি ভিত্তিক নিরাপত্তা নীতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। কোর্টে তার সাফল্য ও ব্যক্তিগত দুঃখের সংযোগ তাকে গন হিংসা বিরোধী আন্দোলনের এক স্বীকৃত মুখে পরিণত করেছে।
জন বীমের হত্যাকাণ্ড কেরের গন সেফটি বার্তাকে আরও তীব্র করে তুলেছে। বীম ল্যানি কমিউনিটি কলেজের অ্যাথলেটিক ডিরেক্টর এবং “Last Chance U”‑এর পঞ্চম সিজনের হেড ফুটবল কোচ ছিলেন। কলেজের ক্যাম্পাসে গুলি চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়, যা ওয়ারিয়র্সের হোম স্টেডিয়ামের প্রায় বারো মাইল দূরে ঘটেছিল। এই ঘটনা গন হিংসার বিস্তৃত প্রভাবকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।
প্রেস কনফারেন্সে কের বীমের স্মরণে একটি সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা দেন। তিনি বীমের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে গন হিংসা বন্ধের জন্য জাতীয় স্তরে পদক্ষেপের আহ্বান জানান। কেরের মতে, কোর্টের বাইরে গন নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করা সমাজের দায়িত্ব, এবং এই ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে নীতি পরিবর্তন জরুরি।
এই প্রেক্ষাপটে কেরের এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। জোশুয়া সেফটেল পরিচালিত “All the Empty Rooms” শিরোনামের ডকুমেন্টারিটি গন হিংসায় নিহত শিশুদের শোবার ঘরগুলোকে কেন্দ্র করে তৈরি, এবং বর্তমানে নেটফ্লিক্সে স্ট্রিমিং হচ্ছে। চলচ্চিত্রটি অস্কার প্রার্থী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে, যা গন হিংসা সংক্রান্ত আলোচনাকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরতে সহায়তা করবে। কেরের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তুর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, ফলে তিনি প্রকল্পের এক গুরুত্বপূর্ণ সমর্থক হিসেবে কাজ করছেন।
কেরের মন্তব্যে তিনি একধরনের বিদ্রূপাত্মক স্বীকৃতি প্রকাশ করেন, যে এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসার হওয়া “মৃত সত্য”—অর্থাৎ গন হিংসার শূন্য ঘরগুলোকে চিত্রায়িত করা প্রকল্পের মূল সত্যকে তিনি স্বীকার করেন। এই রসিকতা তার গভীর উদ্বেগকে হালকা করে উপস্থাপন করার একটি পদ্ধতি হিসেবে দেখা যায়।
ওয়ারিয়র্সের আসন্ন ম্যাচগুলোতে কেরের চুক্তি শীঘ্রই শেষ হতে চলেছে, তবে তিনি গন সেফটি বিষয়ক তার প্রচার চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। কোর্টে তার নেতৃত্ব এবং সামাজিক দায়িত্বের মিশ্রণ তাকে ভবিষ্যতে কী ভূমিকা পালন করবে তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে তার বর্তমান কাজগুলো ইতিমধ্যে ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।
স্টিভ কেরের কোর্টের সাফল্য, পিতার ট্র্যাজেডি এবং গন হিংসা বিরোধী সক্রিয়তা একত্রে তাকে ক্রীড়া ও সামাজিক ক্ষেত্রের এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বে রূপান্তরিত করেছে। নেটফ্লিক্সে প্রকাশিত “All the Empty Rooms” চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি গন হিংসা দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কণ্ঠস্বরকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে চান, এবং আশা করেন এই উদ্যোগটি গন সংস্কার নিয়ে বাস্তবিক আলোচনা শুরু করবে।



