20.8 C
Dhaka
Tuesday, February 24, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধডেলি স্টার, প্রথম আলো ও ছায়ানাটের ওপর দহলাত্মক হামলা, ফেসবুক উস্কানির ফল

ডেলি স্টার, প্রথম আলো ও ছায়ানাটের ওপর দহলাত্মক হামলা, ফেসবুক উস্কানির ফল

ডিসেম্বর ১৮, ২০২৫ রাতের দিকে ঢাকার কিছু প্রধান মিডিয়া সংস্থা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিত দল আক্রমণ করে অগ্নিকাণ্ড ঘটায়। দ্য ডেইলি স্টার, প্রথম আলো এবং ছায়ানাটের অফিসে আগুন জ্বালানো হয়, আর পরের দিন উডিচি শিল্পগোষ্ঠীর সদর দফতরেও একই রকম হামলা হয়। এই ঘটনাগুলো অনলাইন উস্কানির ধারাবাহিকতা এবং তাৎক্ষণিক বাস্তবায়নের ফলাফল হিসেবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

দ্য ডেইলি স্টার এবং Dismislab, একটি ফ্যাক্ট‑চেকিং সংস্থা, ডিসেম্বর ১৩ থেকে ১৯ পর্যন্ত ফেসবুকে প্রকাশিত ৩,০৬৪টি পোস্টের ডেটা পরীক্ষা করে দেখেছে যে হুমকি কয়েক দিন, কখনো কখনো মাসের পরিমাণে দৃশ্যমান ছিল। পোস্টগুলোতে মিডিয়াগুলোকে “ইন্ডিয়ান এজেন্ট” ও “অ্যান্টি‑ন্যাশনাল ফোর্স” বলে চিহ্নিত করে ধ্বংসের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিশ্লেষণ থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে ডানপন্থী কর্মী ও প্রভাবশালীরা ধারাবাহিকভাবে বিরোধপূর্ণ বর্ণনা গড়ে তুলেছেন। তারা সামাজিক মাধ্যমে নেতিবাচক মন্তব্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ধীরে ধীরে আক্রমণের প্রস্তুতি নেয়। শেষ পর্যন্ত সরাসরি “বিল্ডিং জ্বালিয়ে ফেলো” এবং নির্দিষ্ট ঠিকানার নাম উল্লেখ করে আহ্বান করা হয়।

ফেসবুকে রিয়েল‑টাইমে পোস্ট হওয়া আহ্বানগুলো অনুসরণ করে দলগুলো একত্রিত হয় এবং লক্ষ্যবস্তু স্থানে পৌঁছে আক্রমণ চালায়। এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গতি বজায় রেখে তারা পোস্টে উল্লেখিত ঠিকানাগুলোতে প্রবেশ করে, যা ঘটনার সমন্বয়কে স্পষ্ট করে। এই ধারাবাহিকতা দেখায় যে অনলাইন উস্কানির সঙ্গে বাস্তব আক্রমণ সরাসরি সংযুক্ত ছিল।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও ফেসবুকের মেটা প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধিরা হুমকি প্রকাশের পর ২০ ঘণ্টার বেশি সময় কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। একই সময়ে ঘটনাগুলো লাইভস্ট্রিমে প্রচারিত হচ্ছিল, তবু কোনো হস্তক্ষেপ করা হয়নি। এই দেরি ঘটনার তীব্রতা বাড়িয়ে দেয়।

ফেসবুকে প্রচলিত কিছু বাক্যাংশের মধ্যে “Tonight”, “Right now” এবং “Joy Bangla kore dite hobe” অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা সরাসরি ধ্বংসের আদেশের মতো ব্যবহার করা হয়। এই বাক্যগুলোতে মিডিয়াগুলোকে বিদেশি এজেন্ট এবং দেশের বিরোধী বলার মাধ্যমে উস্কানিমূলক রঙ যোগ করা হয়।

হুমকির আহ্বান রাতভর অব্যাহত থাকলেও তা পর্যবেক্ষণ ও হস্তক্ষেপের স্তরে পৌঁছায়নি। ফলে উস্কানির ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকে এবং বাস্তব আক্রমণে রূপ নেয়।

বিশ্লেষণ থেকে দেখা যায় যে ক্ষতিকারক কন্টেন্টের পর্যবেক্ষণ, হিংসা প্রতিরোধের প্রোটোকল এবং সংশ্লিষ্ট সিস্টেমগুলো সময়মতো সক্রিয় হয়নি। এই ব্যর্থতা ঘটনার বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

হুমকি সৃষ্টিকারী পোস্টগুলোকে সনাক্ত করা সত্ত্বেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সামাজিক মাধ্যমের মডারেশন টিমের কার্যকরী পদক্ষেপের অভাব স্পষ্ট হয়েছে। এখন তদন্তকারী সংস্থাগুলো এই দেরি এবং ত্রুটিগুলোকে তদন্তের বিষয়বস্তু হিসেবে গ্রহণ করেছে।

অধিকাংশ মিডিয়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় পুলিশ এবং বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে অনলাইন উস্কানির দ্রুত সনাক্তকরণ ও তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপের জন্য নতুন নীতি প্রণয়নের দাবি বাড়ছে।

এই ঘটনার পর সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনলাইন হিংসা প্রতিরোধে আইনগত কাঠামো শক্তিশালী করার পরিকল্পনা জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন যে সামাজিক মাধ্যমের পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা উন্নত না হলে অনুরূপ ঘটনা পুনরাবৃত্তি হতে পারে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments