ব্রিটিশ একাডেমি ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন আর্টস (বাফ্টা) পুরস্কার অনুষ্ঠানে টোয়েটার রোগে আক্রান্ত অধিকার কর্মী জন ডেভিডসন অপ্রত্যাশিতভাবে মাইকেল বি. জর্ডান ও ডেলরয় লিন্ডোর দিকে একটি বর্ণবাদী শব্দ উচ্চারণ করেন, যা তৎক্ষণাৎ তীব্র বিতর্কের জন্ম দেয়। ঘটনাটির পর ডেভিডসন একটি প্রকাশনা প্রকাশ করে তার আচরণকে অপ্রত্যাশিত টিকের ফলাফল বলে ব্যাখ্যা করেন এবং জনসাধারণের কাছে ক্ষমা চান।
ডেভিডসন টোয়েটার রোগের সক্রিয় সমর্থক, তার জীবনকাহিনী বাফ্টা-নোমিনেটেড চলচ্চিত্র “আই স্বেয়ার”‑এর মূল অনুপ্রেরণা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। তিনি এই ছবির এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসার হিসেবে কাজ করেছেন, যা টোয়েটার রোগের উৎপত্তি, বৈশিষ্ট্য এবং প্রকাশের পদ্ধতি বিশদভাবে তুলে ধরে। ছবিটি রবার্ট আরামায়োকে সর্বোত্তম অভিনেতা পুরস্কার জিততে সহায়তা করে, যা পুরস্কার জগতে অপ্রত্যাশিত সাফল্য হিসেবে স্বীকৃত হয়।
অনুষ্ঠানের সময় ডেভিডসন মঞ্চে উঠে মাইকেল বি. জর্ডান ও ডেলরয় লিন্ডোর দিকে একটি বর্ণবাদী শব্দ উচ্চারণ করেন, যা তৎক্ষণাৎ দর্শক ও মিডিয়ার তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। বাফ্টা কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে দ্রুতই জানিয়ে দেয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলাপচারিতা চালু করে। ডেভিডসন পরবর্তীতে প্রকাশ্যে বলেন, তার টিকগুলো স্বয়ংক্রিয় এবং কোনো ইচ্ছাকৃত অর্থ বহন করে না।
ডেভিডসন তার বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলেন, “আমি এবং সর্বদা গভীরভাবে দুঃখিত যদি কেউ আমার অপ্রত্যাশিত টিকগুলোকে ইচ্ছাকৃত বা কোনো অর্থবহ হিসেবে বিবেচনা করে”। তিনি এই বক্তব্যে টোয়েটার রোগের স্বভাবকে স্পষ্ট করে তুলে ধরেছেন এবং রোগীর প্রতি ভুল ধারণা দূর করার আহ্বান জানিয়েছেন।
বাফ্টা পুরস্কার সমাবেশের আগে ডেভিডসনকে জানানো হয়েছিল যে তার টিকগুলো অপ্রত্যাশিত এবং তা তার ব্যক্তিগত বিশ্বাসের প্রতিফলন নয়। এই তথ্যটি দর্শকদের সামনে একটি ঘোষণার মাধ্যমে জানানো হয়, যার পর উপস্থিতি থেকে একধরনের তালি শোনা যায়। ডেভিডসন এই স্বীকৃতিকে প্রশংসা করে বলেন, এটি তাকে স্বাগত ও সমর্থনবোধ করিয়েছে, যা তার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মানসিক সান্ত্বনা।
ডেভিডসন উল্লেখ করেন, তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তার জীবনের গল্পকে তুলে ধরা “আই স্বেয়ার” চলচ্চিত্রের উদযাপন করতে। তিনি বলেন, এই চলচ্চিত্রটি টোয়েটার রোগের মূল বিষয়গুলোকে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ডকুমেন্টারির চেয়ে বেশি স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে। তার লক্ষ্য সবসময় টোয়েটার সম্প্রদায়কে সমর্থন ও ক্ষমতায়ন করা, এবং সমাজে সহানুভূতি ও বোঝাপড়া গড়ে তোলা।
টিকের স্বভাব সম্পর্কে ডেভিডসন ব্যাখ্যা করেন, টোয়েটার রোগে হঠাৎ, অপ্রত্যাশিত এবং পুনরাবৃত্তিমূলক আন্দোলন বা শব্দ প্রকাশ পায়, যাকে টিক বলা হয়। কখনো কখনো এই টিকগুলোতে উচ্চস্বরে গালি বা অশ্লীল শব্দ অন্তর্ভুক্ত হতে পারে, যা দর্শকদের জন্য অপ্রত্যাশিত হতে পারে। বাফ্টা অনুষ্ঠানের আগে এই বিষয়টি সকল অংশগ্রহণকারীকে জানানো হয়েছিল, যাতে কোনো ভুল বোঝাবুঝি না হয়।
অনুষ্ঠানের মাঝামাঝি ডেভিডসন অনুভব করেন যে তার টিকগুলো অন্যদের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে, তাই তিনি অনুষ্ঠানটি আগে শেষ করে বেরিয়ে যান। তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছিল যাতে অন্যদের উপর অপ্রয়োজনীয় চাপ না পড়ে এবং তার নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষা বজায় থাকে।
ডেভিডসন শেষ পর্যন্ত বলেন, টোয়েটার রোগের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করা তার অব্যাহত লক্ষ্য। তিনি ভবিষ্যতে আরও বেশি সচেতনতা সৃষ্টি করতে এবং রোগী ও তাদের পরিবারকে সহায়তা করার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ চালিয়ে যাবেন। তার এই প্রতিশ্রুতি টোয়েটার রোগী সম্প্রদায়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সঙ্কেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



