রবিবার টটেনহ্যাম হটস্পার স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে আর্সেনাল ৪-১ গোলে টটেনহ্যামকে পরাজিত করেছে। সুইডেনের ফরোয়ার্ড ভিক্টর গ্যোকারেস এবং ইংরেজ মিডফিল্ডার এবেরেচি ইজে প্রত্যেকেই দু’টি করে গোল করে দলকে বড় জয় এনে দিয়েছেন। এই জয়টি আর্সেনালের সমালোচকদের কাছে একটি স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
গ্যোকারেসের প্রথম গোলটি মাঝখানে টটেনহ্যামের ডিফেন্সকে ফাঁদে ফেলতে পারার পর দৌড়ে গিয়ে করা হয়। দ্বিতীয় গোলটি তিনি পেনাল্টি এলাকায় দ্রুত চলাচল করে, সঠিক সময়ে শুট করে সম্পন্ন করেন। এবেরেচি ইজে প্রথম গোলটি ডানফ্ল্যাঙ্ক থেকে কৌণিক শট দিয়ে স্কোর করেন, আর দ্বিতীয়টি তিনি মাঝখানে পাস গ্রহণ করে একধাপের মধ্যে গোলের দিকে গিয়ে সম্পন্ন করেন। উভয় খেলোয়াড়ই ম্যাচের শেষার্ধে অতিরিক্ত গোল করে দলকে নিরাপদ জয় নিশ্চিত করেন।
গ্যোকারেস ম্যাচের পর মিডিয়াতে জানিয়েছেন, “ওলভসের বিরুদ্ধে ড্রের পর যে কঠিন পরিস্থিতি ছিল, তা মোকাবেলা করা কঠিন, তবে আমরা কীভাবে সাড়া দিই তা গুরুত্বপূর্ণ। আজকের পারফরম্যান্সই আমাদের জন্য পারফেক্ট রেসপন্স ছিল।” তিনি আরও যোগ করেন, “দীর্ঘ সিজন বাকি আছে, যদি আমরা এভাবে খেলতে পারি তবে ফলাফল ভালো হবে।” তার এই মন্তব্যগুলো আর্সেনালের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে।
আর্সেনাল মাত্র চার দিন আগে ওলভসের সঙ্গে ২-২ ড্র করে পয়েন্ট হারায়, যা দলের মানসিক স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। তবে টটেনহ্যামের বিরুদ্ধে এই জয়টি সেই সন্দেহ দূর করে এবং দলকে শিরোপা লড়াইয়ে পুনরায় শক্তিশালী করে তুলেছে। গ্যোকারেস এই সিজনে ইতিমধ্যে দশটি লিগ গোলের মালিক, যা তার আক্রমণাত্মক ক্ষমতা প্রমাণ করে।
এই জয়ের ফলে আর্সেনাল টেবিলে শীর্ষে অবস্থান বজায় রেখেছে এবং ম্যানচেস্টার সিটি থেকে পাঁচ পয়েন্টের পার্থক্য তৈরি করেছে। শিরোপা শিরোনাম নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্রতর হয়েছে, তবে আর্সেনালের ধারাবাহিক জয় তাদেরকে শীর্ষে রাখছে।
আর্সেনাল চ্যাম্পিয়ন্স লিগ প্লে-অফ থেকে মুক্তি পেয়েছে এবং এই সপ্তাহে কোনো মধ্য-সপ্তাহের ম্যাচ নেই, যা দলকে বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধারের সুযোগ দেবে। অন্যদিকে ম্যানচেস্টার সিটি পরের সপ্তাহে লিডসের সঙ্গে এল্ল্যান্ড রোডে ম্যাচ খেলবে। পেপ গুয়ার্দিওলা এই সময়ে খেলোয়াড়দেরকে কয়েকটি ককটেল দিয়ে বিশ্রাম নিতে অনুমতি দেবেন বলে জানিয়েছেন।
আর্সেনালের প্রধান কোচ মিকেল আর্টেটা পেপ গুয়ার্দিওলার ককটেল পরিকল্পনার প্রতি হাস্যকরভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বললেন, “ককটেল? আমি ককটেল পান করি না, তাই আমরা আমাদের পদ্ধতিতে কাজ চালিয়ে যাব।” তার এই মন্তব্যটি দলের মনোভাবকে আরও দৃঢ় করেছে এবং খেলোয়াড়দেরকে স্বতন্ত্র প্রস্তুতির দিকে উৎসাহিত করেছে।
আর্সেনালের এই জয় এবং গ্যোকারেসের মন্তব্যগুলো শিরোপা লড়াইয়ে দলের অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে। পরবর্তী ম্যাচে দলকে কীভাবে রক্ষা করবে এবং ম্যানচেস্টার সিটি কীভাবে পয়েন্টের ফাঁক কমাবে, তা শীঘ্রই স্পষ্ট হবে।



