বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএসএ) সোমবার ঢাকা শহরে ইউনিফর্ম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের পুনর্বিবেচনা চেয়ে সরকারকে অনুরোধ জানায়। এই দাবি সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে প্রকাশিত হয়। বিপিএসএ উল্লেখ করে, নতুন পোশাকের জন্য ব্যয়বহুল খরচের বদলে বাহিনীর আধুনিকায়ন, থানা পর্যায়ে যানবাহন সরবরাহ এবং লজিস্টিকস সাপোর্ট বৃদ্ধি করা অধিক যুক্তিযুক্ত।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইউনিফর্ম পরিবর্তনের প্রস্তাবটি দ্রুতগতিতে নেওয়া হয়েছে এবং অধিকাংশ পুলিশ সদস্যের এ বিষয়ে আপত্তি রয়েছে। তারা জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান পোশাকটি বাংলাদেশ পুলিশের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের প্রতীক হিসেবে গণ্য হয়। এই ঐতিহ্যবাহী ইউনিফর্মের পরিবর্তন সদস্যদের মানসিকতা ও আত্মসম্মানে প্রভাব ফেলতে পারে বলে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে।
বিপিএসএ উল্লেখ করে, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় প্রায় সব পুলিশ সদস্যই ঐ ঐতিহ্যবাহী ইউনিফর্ম পরিধান করে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখেন। নির্বাচনের সময় তাদের পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশংসা পেয়েছে। এই সাফল্যকে ভিত্তি করে সংস্থা নতুন ইউনিফর্মের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
বিবৃতিতে নতুন ইউনিফর্মের ব্যয়কে বিশাল আর্থিক বোঝা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিপিএসএ দাবি করে, ইউনিফর্মের রং বা নকশা পরিবর্তনের চেয়ে পুলিশ সদস্যদের মানসিকতা, মনোবল এবং পেশাদারিত্বের উন্নয়নই অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
সংস্থা সরকারকে আহ্বান জানায়, ইউনিফর্ম পরিবর্তনের পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করে তহবিলকে আধুনিক সরঞ্জাম, থানা পর্যায়ের গাড়ি এবং লজিস্টিকস সাপোর্টে ব্যবহার করা উচিত। এভাবে বাহিনীর কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং জনসেবা মানোন্নয়ন সম্ভব হবে। বিপিএসএ জোর দিয়ে বলে, নতুন পোশাকের পরিবর্তে প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম আপগ্রেডে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।
বিপিএসএ আরও উল্লেখ করে, ইউনিফর্ম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তে সদস্যদের অনুভূতি ও বাস্তবিক দিকগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে গবেষণা ও জনমত যাচাই করা উচিত। তারা সরকারকে পরামর্শ দেয়, সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে বিস্তৃত পরামর্শ ও সমীক্ষা চালিয়ে নেয়া হোক। এভাবে নীতি গ্রহণে স্বচ্ছতা ও সমন্বয় নিশ্চিত হবে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমান ইউনিফর্মের পরিবর্তন কেবল রঙ বা নকশার বিষয় নয়, বরং এটি পুলিশ সদস্যদের পরিচয় ও গর্বের সঙ্গে যুক্ত। তাই পরিবর্তনের আগে সদস্যদের মতামত সংগ্রহ করা জরুরি। বিপিএসএ দাবি করে, এই প্রক্রিয়া না করলে বাহিনীর মনোবল হ্রাস পেতে পারে।
বিপিএসএ সরকারের প্রতি অনুরোধ জানায়, ইউনিফর্ম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তটি পুনরায় মূল্যায়ন করে, আর্থিক দিক ও সদস্যদের স্বার্থ বিবেচনা করে নীতি নির্ধারণ করা হোক। তারা উল্লেখ করে, অতিরিক্ত ব্যয় না করে আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
এই দাবি প্রকাশের পর, সরকারী পক্ষ থেকে কোনো সরাসরি মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে, ইউনিফর্ম পরিবর্তন সংক্রান্ত পূর্ববর্তী ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, নতুন পোশাকের মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীর চিত্র উন্নত করা হবে। বিপিএসএ এই দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে একমত নয় বলে স্পষ্ট করেছে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যদি ইউনিফর্ম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা না করা হয়, তবে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে পারে এবং কর্মক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে। অন্যদিকে, যদি তহবিল আধুনিকায়নে ব্যবহার করা হয়, তবে সেবা মানোন্নয়ন এবং জনসাধারণের বিশ্বাস বাড়তে পারে।
বিপিএসএ শেষাংশে উল্লেখ করে, ইউনিফর্ম পরিবর্তনের বিষয়ে সরকারী সিদ্ধান্তে আরও গবেষণা, জনমত যাচাই এবং সদস্যদের মতামত অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। এভাবে নীতি গ্রহণে সমন্বয় ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে এবং পুলিশ বাহিনীর দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন সম্ভব হবে।



