পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে ২৩ ফেব্রুয়ারি রাত আটটায় একটি যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় দুইজন নারী প্রাণ হারালেন এবং তৃতীয়জন গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। দুর্ঘটনা ঘটে দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের নতুনবন্দর, আব্দুলপুর এলাকায়, যেখানে বাসটি ঢাকায় যাওয়ার পথে ছিল।
মৃতদেহে পাওয়া যায় ৩৭ বছর বয়সী মমতা বেগম এবং তার সাত বছর বয়সী মেয়ে মুনতাহা। দুজনের পাশাপাশি মুম্বাইশিরা নামের আরেকটি মেয়ে, যেটি একই সময়ে মোটরসাইকেলে যাত্রা করছিল, তাকে গুরুতর আঘাতের শিকার করা হয়।
মমতা বেগম এবং তার দুই মেয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে দেবীগঞ্জ থেকে নাদার পরিবহনের বাসে চড়ে ঢাকার পথে যাচ্ছিল। সাইকেলটি চালাচ্ছিলেন মমতার ভাগ্নে মনিরুল ইসলাম, যিনি স্থানীয়ভাবে পরিচিত।
আঘাতের মুহূর্তে বাসটি নাদার পরিবহনের অধীনে পরিচালিত একটি যাত্রীবাহী গাড়ি, যা ঢাকা গন্তব্যে যাচ্ছিল। বাসের গতি ও সাইকেলের পথের অমিলের ফলে সংঘর্ষ ঘটায়, যার ফলে সাইকেলটি উল্টে যায় এবং দুজন নারী প্রাণ হারায়।
দুর্ঘটনা ঘটার পরই স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত বাসটি সোনাহার বাজারের নিকটে থামিয়ে পুলিশকে জানায়। কিছু সময়ের মধ্যে স্থানীয় পুলিশ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে, প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে।
দেবীগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ কেএম মনিরুজ্জামান ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বাসের চালক এবং গাড়িটিকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। গাড়ি এবং চালককে আটক করার পর, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিষ্কার করে।
আহত মুম্বাইশিরা দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তাকে গুরুতর আঘাতের শিকার হিসেবে ভর্তি করা হয়। অন্য দুজনের দেহ স্থানীয় হাসপাতালের মৃতদেহ বিভাগে পাঠানো হয়।
পুলিশের মতে, দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে প্রাথমিক তদন্তে গতি নিয়ন্ত্রণের লঙ্ঘন এবং সড়ক নিরাপত্তা মানদণ্ডের অবহেলা প্রধান সন্দেহভাজন। চালকের বিরুদ্ধে রোড সেফটি আইনের অধীনে অপরাধের অভিযোগ আনা হবে।
অধিক তদন্তের পর, সংশ্লিষ্ট বিভাগে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। মামলার ফাইলিং এবং আদালতে দায়েরের সময়সূচি শীঘ্রই নির্ধারিত হবে।
আইনি দিক থেকে, চালককে ট্রাফিক লঙ্ঘনের জন্য দণ্ডনীয় ব্যবস্থা এবং দুর্ঘটনায় সৃষ্ট মৃত্যুর জন্য ফৌজদারি দায়ের করা হতে পারে। এছাড়া, বাস সংস্থার নিরাপত্তা নীতি পুনর্বিবেচনা করার নির্দেশও দেওয়া হতে পারে।
দেবীগঞ্জে এই ধরনের সড়ক দুর্ঘটনা স্থানীয় জনগণের মধ্যে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও ট্রাফিক বিভাগকে আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে সড়ক ব্যবস্থাপনা ও গাড়ি চালকদের প্রশিক্ষণ শক্তিশালী করা যায়।
এই ঘটনার পর, স্থানীয় মানুষ এবং পরিবারগুলো শোক প্রকাশ করে, একই সঙ্গে সড়ক নিরাপত্তা সংক্রান্ত সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।



