সনি লিভের নতুন ঐতিহাসিক নাট্য‑সিরিজ ‘দ্য ওয়েকিং অফ এ নেশন’ এর ট্রেলার আজ প্রকাশিত হয়েছে এবং সিরিজটি ৭ মার্চ থেকে একচেটিয়াভাবে সনি লিভে সম্প্রচারিত হবে। এই তথ্যটি স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের অফিসিয়াল ঘোষণায় জানানো হয়েছে। সিরিজটি দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যা দর্শকদের ইতিহাসের নতুন দৃষ্টিকোণ উপস্থাপন করবে।
‘দ্য ওয়েকিং অফ এ নেশন’ রাম মাধবানি পরিচালিত, যিনি জাতীয় পুরস্কারধারী এবং আন্তর্জাতিক এমি‑নোমিনি প্রাপ্ত চলচ্চিত্র নির্মাতা। তার পূর্বের কাজগুলোতে তিনি সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয়গুলোকে সূক্ষ্মভাবে উপস্থাপন করার জন্য প্রশংসা অর্জন করেছেন। এই সিরিজে তিনি একই দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখে ১৯১৯ সালের জালিয়ানওয়ালা বাগ হত্যাকাণ্ডের পরবর্তী তদন্তের ওপর আলোকপাত করছেন।
সিরিজের মূল কাহিনী জালিয়ানওয়ালা বাগের গৌরবময় কিন্তু অন্ধকার অধ্যায়কে কেন্দ্র করে, যেখানে হান্টার কমিশনের তদন্তের ফলাফলকে নতুন দৃষ্টিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে কান্তিলাল সাহনি নামের এক সাংবাদিক, যাকে তরুণ অভিনেতা তারুক রাইনা অভিনয় করছেন। তিনি এক জটিল ষড়যন্ত্রের সন্ধান পান, যা ঔপনিবেশিক শাসন ও বর্ণবাদী নীতির সঙ্গে যুক্ত।
রাম মাধবানি এই প্রকল্পকে তার ক্যারিয়ারের অন্যতম প্রিয় কাজ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে এই সিরিজটি শুধুমাত্র একটি টেলিভিশন শো নয়, বরং ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের গভীর ইতিহাসকে আধুনিক দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা। তিনি জালিয়ানওয়ালা বাগের ঘটনাকে পুনরায় তুলে ধরতে এবং তার পেছনের গোপন কাহিনীগুলো উন্মোচন করতে চেয়েছেন।
নির্মাণ প্রক্রিয়ায় রাম মাধবানি তার নিজস্ব প্রোডাকশন হাউস, রাম মাধবানি ফিল্মসের সঙ্গে কাজ করছেন এবং সনি লিভের সঙ্গে যৌথভাবে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছেন। তিনি বলছেন, এই সিরিজের মাধ্যমে তিনি ঐতিহাসিক সত্যকে নাট্যিক রূপে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন এবং দর্শকদের জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা নিয়ে আসতে চান।
প্রধান চরিত্র কান্তিলাল সাহনি চরিত্রে তারুক রাইনা তার অভিনয়কে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এই ভূমিকা তার ক্যারিয়ারের অন্যতম গভীর অভিজ্ঞতা, যেখানে তিনি স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগ করা অগণিত বীরদের সম্মান জানাতে চান। তারুকের মতে, কান্তিলাল সাহনি একজন এমন মানুষ, যিনি দায়িত্ব ও সত্যের মধ্যে দ্বন্দ্বে আটকে আছেন, এবং তার সংগ্রাম দর্শকদের ন্যায়বিচারের প্রতি সচেতনতা বাড়াবে।
সিরিজের অন্যান্য প্রধান চরিত্রে নিকিতা, সাহিল এবং ভাওশীলের অভিনয় রয়েছে, যারা প্রত্যেকেই ঐতিহাসিক ঘটনার বিভিন্ন দিককে তুলে ধরবে। এই কাস্টের সমন্বয় এবং রাম মাধবানির দৃষ্টিকোণ সিরিজকে সমৃদ্ধ করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
‘দ্য ওয়েকিং অফ এ নেশন’ জালিয়ানওয়ালা বাগের ঘটনাকে শুধু অতীতের একটি দুঃখজনক স্মৃতি হিসেবে নয়, বরং বর্তমানের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পুনর্বিবেচনা করার সুযোগ দেবে। হান্টার কমিশনের তদন্তের বিশ্লেষণকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখিয়ে সিরিজটি ঐতিহাসিক সত্যের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চায়।
এই সিরিজের মাধ্যমে রাম মাধবানি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের গৌরবময় মুহূর্তগুলোকে আধুনিক দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি ঔপনিবেশিক শাসনের গোপন কৌশলগুলোকে উন্মোচন করার লক্ষ্য রাখছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, এই কাজটি তার জন্য ব্যক্তিগতভাবে গভীর অর্থ বহন করে, কারণ এটি তার নিজস্ব পারিবারিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত।
প্রকাশিত ট্রেলারে সিরিজের ভিজ্যুয়াল স্টাইল এবং বর্ণনামূলক পদ্ধতি স্পষ্টভাবে দেখা যায়, যেখানে ঐতিহাসিক দৃশ্যগুলোকে আধুনিক সিনেমাটিক টেকনিকের সঙ্গে মিশ্রিত করা হয়েছে। দর্শকরা এই ট্রেলারে কান্তিলাল সাহনির অনুসন্ধানী যাত্রা এবং হান্টার কমিশনের গোপন নথিপত্রের সন্ধানকে দেখতে পাবেন।
সনি লিভের এই নতুন উদ্যোগটি স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের মূলধারার বিষয়বস্তুতে ঐতিহাসিক নাট্যকে অন্তর্ভুক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সিরিজটি ৭ মার্চের প্রিমিয়ার দিন থেকে সারা দেশে সবার জন্য উপলব্ধ হবে এবং দর্শকদের কাছ থেকে উচ্চ প্রত্যাশা রয়েছে।
‘দ্য ওয়েকিং অফ এ নেশন’ এর মাধ্যমে রাম মাধবানি এবং তার দল ইতিহাসের অন্ধকার দিকগুলোকে আলোকিত করে, একই সঙ্গে সাহস, ন্যায়বিচার এবং স্বাধীনতার মূল্যবোধকে পুনরায় জোরদার করতে চান। এই সিরিজটি ইতিহাসপ্রেমী ও নাট্যপ্রেমী উভয়ের জন্যই একটি আকর্ষণীয় প্রস্তাবনা, যা দেশের অতীতকে পুনরায় চিন্তা করার সুযোগ দেবে।



