সালমান খান মালিকানাধীন বিইং হিউম্যান ক্লোথিং ১৪ ফেব্রুয়ারি মার্ভেল স্টুডিওসের নতুন চলচ্চিত্র “ক্যাপ্টেন আমেরিকা: ব্রেভ নিউ ওয়ার্ল্ড”ের সঙ্গে সমন্বয় করে মার্ভেল-অনুপ্রাণিত পোশাক সংগ্রহ প্রকাশ করেছে। এই সংগ্রহটি ভক্তদের জন্য হিরোইজমের অনুভূতি জাগিয়ে তুলতে এবং ফ্যাশনকে সামাজিক বার্তার সঙ্গে যুক্ত করতে লক্ষ্য রাখে। প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে ব্র্যান্ডের স্টোরগুলোতে বিশেষ ইন-স্টোর প্রদর্শনীও শুরু হয়েছে।
সংগ্রহটিতে মোট আশি টিরও বেশি আইটেম অন্তর্ভুক্ত, যার মধ্যে টি-শার্ট, পোলো শার্ট, ড্রেস শার্ট, ডেনিম জ্যাকেট এবং জিন্স রয়েছে। প্রতিটি পণ্যকে সূক্ষ্মভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যাতে মার্ভেল মহাবিশ্বের আইকনিক চিহ্নগুলো স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। ক্যাপ্টেন আমেরিকার ঢাল, স্পাইডার-ম্যানের জাল, ব্ল্যাক প্যান্থারের প্যাটার্ন এবং থরের হাতুড়ি ইত্যাদি উপাদানগুলো আধুনিক ফ্যাশনের সঙ্গে মিশ্রিত হয়েছে।
বিইং হিউম্যানের “Unleash the Inner Hero” ক্যাম্পেইন এই সংগ্রহের মূল বার্তা প্রকাশ করে। আত্মবিশ্বাস, সাহস এবং ব্যক্তিত্বকে জোর দিয়ে, ব্র্যান্ডটি ফ্যাশনকে আত্মপ্রকাশের মাধ্যম হিসেবে উপস্থাপন করে। এই দৃষ্টিভঙ্গি কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদী মিশনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে পোশাকের মাধ্যমে সামাজিক পরিবর্তন আনা লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
ডিজাইন প্রক্রিয়ায় উচ্চমানের কটন এবং টেকসই উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে গুণগত মানের সঙ্গে পরিবেশগত দায়িত্বও বজায় থাকে। প্রতিটি পোশাকের সেলাই ও ফিনিশে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়েছে, ফলে পণ্যগুলো দীর্ঘস্থায়ী এবং স্টাইলিশ উভয়ই হয়। এই পদ্ধতি বিইং হিউম্যানের পূর্ববর্তী সংগ্রহের গুণগত মানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখে।
লঞ্চের অংশ হিসেবে, প্রধান শহরের বিইং হিউম্যান স্টোরগুলোতে ক্যাপ্টেন আমেরিকা-থিমযুক্ত ইনস্টলেশন এবং ইন্টারেক্টিভ জোন তৈরি করা হয়েছে। দর্শকরা এখানে ভার্চুয়াল শিল্ড টেস্টিং এবং হিরো পোশাকের ভার্চুয়াল ট্রাই-অন অভিজ্ঞতা নিতে পারে। এই ধরনের অভিজ্ঞতা ভোক্তাদের ব্র্যান্ডের সঙ্গে সংযোগ বাড়িয়ে দেয় এবং সামাজিক মিডিয়ায় শেয়ার করার সুযোগ তৈরি করে।
ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট @beinghumanclothing-এ একটি ডিজিটাল প্রতিযোগিতা চালু করা হয়েছে, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা তাদের প্রিয় হিরো লুক শেয়ার করে পুরস্কার জেতার সুযোগ পায়। এই উদ্যোগটি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ব্র্যান্ডের দৃশ্যমানতা বাড়াতে এবং ব্যবহারকারীর সৃজনশীলতা উন্মোচন করতে সহায়তা করে।
বহুজন জনপ্রিয় ফ্যাশন ইনফ্লুয়েন্সারও এই সংগ্রহের প্রচারে অংশ নিয়েছেন। তারা নিজেদের স্টাইলে মার্ভেল-থিমেড পোশাক পরিধান করে সামাজিক নেটওয়ার্কে পোস্ট করে, ফলে ভক্তদের মধ্যে উত্তেজনা এবং আগ্রহ বাড়ে। ইনফ্লুয়েন্সারদের এই সক্রিয় অংশগ্রহণ ব্র্যান্ডের বাজারে পৌঁছানোর পরিধি বিস্তৃত করেছে।
বিইং হিউম্যানের সিওও উল্লেখ করেছেন, ফ্যাশনকে অর্থবহ করে তোলার জন্য নতুন উপায় অনুসন্ধান করা তাদের মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, এই সংগ্রহের মাধ্যমে ভোক্তারা শুধু স্টাইলই নয়, নিজের ভিতরের নায়ককে প্রকাশের সুযোগ পাবে। এভাবে ব্র্যান্ডটি সামাজিক দায়িত্ব এবং সৃজনশীলতা একসাথে সংযুক্ত করতে চায়।
প্রথম সপ্তাহেই স্টোরে ভক্তদের সংখ্যা বাড়ে, এবং অনলাইন বিক্রয়েও ইতিবাচক সাড়া দেখা যায়। ভোক্তারা বিশেষ করে ক্যাপ্টেন আমেরিকা-থিমযুক্ত জ্যাকেট এবং স্পাইডার-ম্যানের গ্রাফিক টি-শার্টকে পছন্দের তালিকায় রাখে। এই সাড়া ব্র্যান্ডের ভবিষ্যৎ সংগ্রহের পরিকল্পনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, মার্ভেল-অনুপ্রাণিত এই পোশাক সংগ্রহটি ফ্যাশন এবং পপ সংস্কৃতির সংযোগকে নতুন মাত্রা দেয়। বিইং হিউম্যানের লক্ষ্য হল ভোক্তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তোলা এবং একই সঙ্গে সামাজিক বার্তা পৌঁছে দেওয়া। এই উদ্যোগটি শিল্পের মধ্যে দায়িত্বশীল ফ্যাশনের উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।



