মঙ্গল গ্রহের মতো ঘন মেঘে ঢাকা ভেনাসের পৃষ্ঠে প্রথমবার একটি বিশাল লাভা টিউবের অস্তিত্ব নিশ্চিত হয়েছে। গবেষকরা ১৯৯০-এর দশকের নাসা ম্যাগেলান রাডার ডেটা পুনঃবিশ্লেষণ করে ছাদে একটি ধসে পড়া “স্কাইলাইট” চিহ্নিত করেন, যা টিউবের প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করে। এই আবিষ্কারটি ভেনাসের গঠন প্রক্রিয়া এবং ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত প্রদান করে।
পুনঃবিশ্লেষণে দেখা যায়, স্কাইলাইটটি প্রায় ১৫০ মিটার গভীর এবং এটি অন্তত ৩৭৫ মিটার গভীর একটি শূন্য লাভা টিউবের সঙ্গে যুক্ত। টিউবটি ভেনাসের বৃহৎ শিল্ড আগ্নেয়গিরি নিক্স মন্সের (Nyx Mons) কাছাকাছি অবস্থিত, যেখানে পূর্বে “পিট চেইন” নামে পরিচিত গর্তের সমষ্টি পাওয়া গিয়েছিল। এই গর্তগুলোকে ভূগর্ভস্থ লাভা টিউবের ধসে পড়া অংশ হিসেবে ধারণা করা হয়।
ভেনাসকে প্রায়শই পৃথিবীর “বোনসিস্টার” বলা হয়, কারণ এর আকার ও ভর প্রায় সমান, তবে ঘন মেঘের কারণে সরাসরি পর্যবেক্ষণ কঠিন। নাসার ম্যাগেলান মিশন ১৯৯০-এর দশকে ভেনাসের পৃষ্ঠের রাডার মানচিত্র তৈরি করেছিল, যা এখনো সবচেয়ে বিশদ তথ্য সরবরাহ করে। গবেষক দল বিশেষ ইমেজিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই পুরনো ডেটা থেকে নতুন বৈশিষ্ট্য বের করতে সক্ষম হয়েছে।
এই নতুন তথ্য দু’টি আসন্ন মহাকাশ মিশনের পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলবে। নাসার VERITAS মিশন, যা ২০৩১ সালের জুনের আগে উৎক্ষেপণ হবে, এবং ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির EnVision মিশন, যা একই বছরের পরে উৎক্ষেপণ হবে, উভয়ই উন্নত রাডার সরঞ্জাম নিয়ে ভেনাসের পৃষ্ঠের উচ্চ রেজোলিউশনের ছবি তোলার লক্ষ্য রাখে। এই মিশনগুলো স্কাইলাইট এবং লাভা টিউবের আরও বিশদ অনুসন্ধান করতে সক্ষম হবে।
উন্নত রাডার প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভবিষ্যৎ মিশনগুলো বর্তমানের তুলনায় অনেক বেশি স্পষ্ট চিত্র প্রদান করবে, যা ভেনাসের ভূতাত্ত্বিক গঠন এবং আগ্নেয় কার্যকলাপের গভীর বিশ্লেষণকে সম্ভব করবে। বিশেষজ্ঞরা আশা করেন, এই তথ্য ভেনাসে প্লেট টেকটোনিক্সের অনুপস্থিতি এবং সক্রিয় আগ্নেয়গিরির ভূমিকা সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি খুলে দেবে।
ভেনাসের পৃষ্ঠে লাভা টিউবের উপস্থিতি প্রমাণিত হওয়ায়, বিজ্ঞানী সম্প্রদায়ের মধ্যে এই গ্রহের অভ্যন্তরীণ গঠন সম্পর্কে আলোচনার নতুন দিক উন্মোচিত হয়েছে। ভবিষ্যৎ গবেষণায় টিউবের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং গঠনগত বৈশিষ্ট্য নির্ণয় করা সম্ভব হবে, যা ভেনাসের ভূতাত্ত্বিক ইতিহাসের পুনর্গঠনকে সহজ করবে।
পাঠকগণকে জানানো দরকার যে, এই আবিষ্কার কোনো তাত্ক্ষণিক ঝুঁকি বা হুমকি সৃষ্টি করে না; বরং এটি মানবজাতির গ্রহীয় বিজ্ঞান জ্ঞানের বিস্তারে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। ভেনাসের গোপনীয়তা ধীরে ধীরে উন্মোচিত হওয়ায়, আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হল বৈজ্ঞানিক তথ্যকে সঠিকভাবে গ্রহণ করা এবং ভবিষ্যৎ মিশনের ফলাফলকে নজরে রাখা।
আপনার মতামত কী? ভেনাসের লাভা টিউবের গবেষণা আমাদের গ্রহের ভবিষ্যৎ মিশন পরিকল্পনায় কী প্রভাব ফেলবে বলে আপনি মনে করেন?



