নরায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মোডেল থানা অধিক্ষেত্রের মাসদাইর গুদারা ঘাটে রাত ৯টা নাগাদ ৩৯ বছর বয়সী ইলেকট্রিশিয়ান মো. এমনকে গোষ্ঠীভুক্ত কয়েকজন ব্যক্তি হ্যাকিং করে হত্যা করে। শিকারের মৃত্যু ঘটেছে মাত্র এক ঘন্টার বেশি সময়ে, যখন তিনি জামিন পেয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন।
পুলিশ অফিসার‑ইন‑চার্জ আবদুল মান্নান জানান, শিকারের সঙ্গে পূর্বে মাদক সংক্রান্ত বিরোধের কারণে শত্রুতা গড়ে উঠেছিল এবং এই বিরোধই হ্যাকিংয়ের মূল কারণ বলে অনুমান করা হচ্ছে। শিকারের পরিবারও একই রকম মত প্রকাশ করে, যে তিনি সাম্প্রতিক সময়ে কিছু লোকের সঙ্গে তীব্র মতবিরোধে লিপ্ত ছিলেন।
মো. এমনকে মাদক সংক্রান্ত মামলায় জেলায় রাখা হয়েছিল এবং সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটের কাছাকাছি তিনি জামিন পেয়ে রিলিজ হন। জামিনের পর বাড়ি ফেরার পথে তিনি ফোনের মাধ্যমে একদল অপরিচিতের আহ্বান পেয়ে গিয়ে গুদারা ঘাটের দিকে গিয়েছিলেন।
শিকারের পিতা ওমর খায়েমের মতে, তার ছেলে বাড়ি ফিরে কিছু সময়ের মধ্যে ফোনে ডাকা হয় এবং তিনি তা মেনে গিয়ে বেরিয়ে যান। তিনি আরও জানান, শিকারের সঙ্গে বহুজনের বিরোধ ছিল এবং পূর্বে তাকে ফাঁসিয়ে রাব (র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন) এর হাতে হস্তান্তর করা হয়েছিল।
ওমর খায়েম আরও উল্লেখ করেন, হ্যাকিংয়ের সময় শিকারের সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তি একই দিনে জামিন পেয়েছিলেন, যা ঘটনাটিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তিনি দাবি করেন, এই ব্যক্তির মুক্তি এবং শিকারের হঠাৎ হত্যা একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
অফিসার‑ইন‑চার্জ জানান, হ্যাকিংয়ের খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং মৃতদেহকে নরায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের অটোপ্সি বিভাগে পাঠানো হয়েছে। অটোপ্সি ফলাফল শিকারের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ ও গায়ে গায়ে আঘাতের মাত্রা নির্ধারণে সহায়তা করবে।
পুলিশের মতে, শিকারের মৃত্যুর সঙ্গে যুক্ত সন্দেহভাজনদের সনাক্তকরণ ও গ্রেফতার করার কাজ বর্তমানে ত্বরান্বিতভাবে চলছে। তদন্তের অংশ হিসেবে স্থানীয় গ্যাংয়ের সদস্যদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
শিকারের পরিবার এবং স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনায় শোক প্রকাশ করে, একই সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনও এই ধরনের হিংসাত্মক অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের কথা প্রকাশ করেছে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, শিকারের হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট সকলকে প্রমাণভিত্তিকভাবে অপরাধী সাব্যস্ত করা হবে এবং মাদক সংক্রান্ত পূর্বের মামলা ও বর্তমান হ্যাকিংয়ের সঙ্গে যুক্ত অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নরায়ণগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা বিভাগ এবং রাব উভয়ই সমন্বিতভাবে তদন্ত চালিয়ে যাবে, যাতে অপরাধী গোষ্ঠীর কাঠামো ও কার্যপদ্ধতি উন্মোচিত হয়। শেষ পর্যন্ত, শিকারের পরিবারকে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য যথাসাধ্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



