বান্দরবান জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলার মুরং বাজারে আজ বিকেল পাঁচটায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জেএসএস (মূল) সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে একটি সমন্বিত অভিযান চালায়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গৃহীত পদক্ষেপে সেনাবাহিনীর টহল দল সন্ত্রাসীদের অবৈধ চাঁদা সংগ্রহের সময় শনাক্ত করে, ফলে সরাসরি মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ পায়।
অভিযানটি গোয়েন্দা শাখার সরবরাহকৃত তথ্যের ওপর নির্ভরশীল ছিল, যা সন্ত্রাসীদের নির্দিষ্ট সময়ে বাজারে উপস্থিতি ও চাঁদা আদায়ের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছিল। এই তথ্যের ভিত্তিতে টহল দল দ্রুত স্থানীয় বাজারে উপস্থিত হয়ে সম্ভাব্য হুমকির মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি নেয়।
সেনাবাহিনীর টহল দল উপস্থিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সন্ত্রাসীরা পালানোর চেষ্টা করে এবং টহল সদস্যদের ওপর গুলি চালায়। গুলিবর্ষণের পর সেনারা তৎক্ষণাৎ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে গুলি বর্ষণ করে, ফলে সন্ত্রাসীরা প্রাথমিকভাবে নিকটবর্তী একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিতে চায়। তবে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তারা দ্রুত সেই স্থান ত্যাগ করে।
টহল দল ঘটনাস্থল তল্লাশি চালিয়ে হ্লামংনু মার্মা নামের এক সশস্ত্র সদস্যকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে। আহত সদস্যকে জরুরি চিকিৎসার জন্য পুলিশ সহায়তায় বান্দরবান সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসা চলাকালীন তার পরিচয় ও সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর সঙ্গে তার সংযোগ যাচাই করা হবে।
অভিযানের সময় টহল দল থেকে একাধিক অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা যায়। উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে একটি সাবমেশিনগান, ১৪৩ রাউন্ড সাবমেশিনগান অ্যামোনিশন, ১৪ রাউন্ড পিস্তল অ্যামোনিশন, ৫ রাউন্ড ব্ল্যাঙ্ক অ্যামোনিশন, দুইটি অস্ত্রের ম্যাগাজিন এবং অন্যান্য সহায়ক সরঞ্জাম। এই সামগ্রীগুলো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর অবৈধ কার্যক্রমে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জানিয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সকল জাতিগোষ্ঠীর নিরাপত্তা রক্ষায় তারা সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভবিষ্যতেও সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করে, যাতে এই অঞ্চলে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় থাকে।
হ্লামংনু মার্মা গুলিবিদ্ধ হওয়ায় এখন তিনি আইনগত প্রক্রিয়ার অধীন। সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তাকে গ্রেফতার করে তদন্তের জন্য হেফাজতে রাখবে এবং অপরাধের প্রকৃতি অনুসারে আদালতে দায়ের করা হবে। তার বিরুদ্ধে গৃহীত প্রমাণের ভিত্তিতে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযানের পরবর্তী ধাপ হিসেবে স্থানীয় পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা সমন্বিতভাবে ঘটনাস্থল ও আশেপাশের এলাকা তল্লাশি চালিয়ে অতিরিক্ত সন্ত্রাসী উপাদান বা সহায়ক নেটওয়ার্কের সন্ধান করবে। এছাড়া, স্থানীয় জনগণকে নিরাপত্তা সচেতনতা বাড়াতে এবং অবৈধ চাঁদা সংগ্রহের বিরুদ্ধে সতর্কতা প্রদান করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এই সফল অভিযানের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দৃঢ় সংকল্প পুনরায় প্রকাশ পেয়েছে, এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে ত্বরিত ও কার্যকর পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।



