20.8 C
Dhaka
Tuesday, February 24, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকপেরুর আরেকুয়িপা অঞ্চলে বন্যা রেসকিউ হেলিকপ্টার ধসে ১৫ জনের মৃত্যু

পেরুর আরেকুয়িপা অঞ্চলে বন্যা রেসকিউ হেলিকপ্টার ধসে ১৫ জনের মৃত্যু

দক্ষিণ পেরুর আরেকুয়িপা অঞ্চলে তীব্র বন্যা মোকাবিলার জন্য পাঠানো সামরিক হেলিকপ্টারটি রবিবার আকাশে রেডিও সংযোগ হারিয়ে পরে ধসে পড়ে, ফলে ১৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। দুর্ঘটনা ঘটে যখন পেরু বিমান বাহিনীর মি-১৭ হেলিকপ্টারটি পিস্কো শহর থেকে চালা জেলার দিকে রেসকিউ মিশন চালাচ্ছিল।

পেরু বিমান বাহিনী জানায়, হেলিকপ্টারটি আকাশে রেডিও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর চালা জেলার চালা ভিয়েজো গ্রামের কাছে ধ্বংসাবশেষে ধরা পড়ে। উদ্ধারকারী দলগুলো সোমবার ধ্বংসাবশেষের স্থান চিহ্নিত করে, যেখানে মোট ১৫ জনের দেহ উদ্ধার করা যায়।

বিপর্যয়কালে হেলিকপ্টারে মোট ১১ জন যাত্রী এবং ৪ জন ক্রু সদস্য ছিলেন; তাদের মধ্যে সাতজন শিশু। মৃতদের মধ্যে তিন বছর বয়সী একটি শিশুও অন্তর্ভুক্ত। পরিবারিক সম্পর্কযুক্ত সামরিক কর্মীও গাড়িতে ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্র জানায়।

হেলিকপ্টারটি বন্যা-প্রবাহে আক্রান্ত এলাকায় অনুসন্ধান ও উদ্ধার কাজের সহায়তা করার জন্য পাঠানো হয়েছিল। অতিবৃষ্টির ফলে ভূমি স্লাইড, নদীর অতিরিক্ত প্রবাহ এবং বাড়িঘর ধসে পড়ার ঘটনা ব্যাপকভাবে ঘটেছে, যা স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলেছে।

যানবাহনটি পিস্কো থেকে প্রস্থান করে আরেকুয়িপা প্রদেশের চালা জেলার দিকে যাত্রা করছিল। ধ্বংসাবশেষ চালা ভিয়েজোর কাছাকাছি, প্রশান্ত মহাসাগরের তীরে অবস্থিত একটি ছোট গ্রামে পাওয়া যায়।

দুর্ঘটনা ঘটার পর পেরু বিমান বাহিনী একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তের লক্ষ্য হেলিকপ্টারের যান্ত্রিক ত্রুটি, আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং রেডিও সংযোগ বিচ্ছিন্নের কারণ নির্ণয় করা।

বন্যা পরিস্থিতি আরেকুয়িপা প্রদেশে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে। তীব্র বৃষ্টিপাতের ফলে মাটি পিচ্ছিল হয়ে গিয়েছে, রাস্তা ও বাড়ি পানিতে ডুবে গেছে এবং গাছপালা ভেঙে পড়েছে।

স্থানীয় মিডিয়া জানায়, বন্যার প্রভাবের ফলে কমপক্ষে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। কায়মা জেলার একটি বয়স্ক মহিলা বন্যার জলে ভেসে গিয়ে মারা গেছেন, আর অন্য এক ব্যক্তি বজ্রপাতের আঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন।

আঞ্চলিক গভর্নর রোহেল সানচেজের মতে, বন্যার ফলে বহু বাড়ি অযোগ্য হয়ে পড়েছে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জাতীয় সরকারের সহায়তা চেয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, পুনর্বাসন ও ত্রাণ কাজের জন্য অতিরিক্ত সম্পদ প্রয়োজন।

অঞ্চল থেকে প্রেরিত ভিডিওতে বন্যার ধারা গাছের শিকড় ও মাটি নিয়ে গড়িয়ে নিচে নামছে, রাস্তার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাড়ির দরজায় আঘাত হানে। এই দৃশ্যগুলো আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

সংযুক্ত জাতরাষ্ট্রের মানবিক সহায়তা সমন্বয় কেন্দ্র (OCHA) ইতিমধ্যে পেরুর সরকারকে জরুরি ত্রাণ সামগ্রী ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। চিলি ও বলিভিয়ার সরকারও সীমান্ত পারাপার করে ত্রাণ সামগ্রী পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

একজন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক উল্লেখ করেছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সামরিক সম্পদের ব্যবহার দেশীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মেলবন্ধন ঘটায়। তিনি বলেন, পেরুর বিমান বাহিনীর দ্রুত প্রতিক্রিয়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তবে দুর্ঘটনা ঘটলে তা ত্রাণ কার্যক্রমে অস্থায়ী বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

পেরু সরকার ইতিমধ্যে জাতীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা অনুযায়ী পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যে পুনর্বাসন শিবির স্থাপন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সড়ক মেরামত এবং পানির সরবরাহ পুনরুদ্ধার কাজ শুরু করবে। তদন্তের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে হেলিকপ্টার পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ নীতিমালায় সংশোধন আনা হবে বলে সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments