৩৮ বছর বয়সী রব জেট্টেন নেদারল্যান্ডের সর্বকনিষ্ঠ এবং প্রথম উন্মুক্ত সমকামী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। ডেমোক্র্যাটস ৬৬ (D66) পার্টির নেতৃত্বে তিনি অক্টোবরের নির্বাচনে হালকা পার্থক্যে জিওর্ট উইল্ডার্সের অ্যান্টি‑ইসলামিক পার্টিকে পরাজিত করে সরকার গঠন করেন।
জেট্টেনের দল VVD (পিপলস পার্টি ফর ফ্রিডম অ্যান্ড ডেমোক্রেসি) ও CDA (ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স) সঙ্গে কেন্দ্র‑ডান সংখ্যালঘু সরকার গঠন করেছে। এই সংখ্যালঘু ক্যাবিনেটের অর্থে প্রতিটি বড় সংস্কার—যেমন প্রতিরক্ষা বাজেটের অতিরিক্ত ১৯ বিলিয়ন ইউরো বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য ও কল্যাণে কাটছাঁট—দুই সংসদীয় ঘরে এক‑এক ভোটে অনুমোদন পেতে হবে।
কোয়ালিশন চুক্তিতে শরণার্থী নীতি কঠোর করা হয়েছে; শরণার্থীকে ইউরোপে প্রবেশের আগে অন্য দেশে আবেদন করতে হবে। শরণার্থী বিষয় নেদারল্যান্ডের রাজনীতিতে সংবেদনশীল, যা পূর্বের দুইটি সরকার পতনের কারণও ছিল।
ডিক শোফের পর জেট্টেন প্রধানমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত হন; শোফের সরকার নেদারল্যান্ডের ইতিহাসে সবচেয়ে স্বল্পমেয়াদী সরকারগুলোর একটি ছিল। D66 সাতজন মন্ত্রী, VVD ছয়জন এবং CDA পাঁচজন মন্ত্রী নিয়োগ করেছে, প্রতিটি পার্টি তিনজন স্টেট সেক্রেটারিও যুক্ত করেছে।
শপথ অনুষ্ঠানটি হ্যাগের হুইস টেন বশ প্যালেসে রাজা উইলেম‑আলেকজান্ডার উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়। শপথের আগে জেট্টেন এক স্ব-সেলফি পোস্ট করে নতুন দায়িত্বের প্রতি গর্ব ও সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের উন্নয়নের জন্য সমস্যার উপর নয়, সমাধানের উপর মনোযোগ দিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর পদে আসার আগে জেট্টেনকে “রোবট জেট্টেন” নামে উপহাস করা হতো, তার টেলিভিশন উপস্থিতি কঠোর ও পুনরাবৃত্তিমূলক বলে সমালোচনা করা হতো। তবে নির্বাচনের রাত লেইডেনের একটি সঙ্গীত ভেন্যুতে তিনি আত্মবিশ্বাসী ও স্বাভাবিকভাবে উপস্থিত ছিলেন, যা তার নতুন রাজনৈতিক চিত্রকে দৃঢ় করেছে।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, জিওর্ট উইল্ডার্সের অ্যান্টি‑ইসলামিক দল ভোটের ঘাটতি সত্ত্বেও উল্লেখযোগ্য সমর্থন পেয়েছে, যা নেদারল্যান্ডের অভিবাসন ও ধর্মীয় নীতি নিয়ে বিতর্ককে তীব্র করেছে। জেট্টেনের সরকারকে এখন এই সংবেদনশীল বিষয়গুলোতে সমঝোতা গড়ে তুলতে হবে, বিশেষ করে শরণার্থী প্রবাহ ও সামাজিক কল্যাণের ক্ষেত্রে।
ভবিষ্যতে, সংখ্যালঘু সরকারকে প্রতিটি আইনগত পদক্ষেপের জন্য পার্লামেন্টের দু’টি ঘরে সমর্থন সংগ্রহ করতে হবে, যা নীতি বাস্তবায়নে সময়সীমা বাড়াতে পারে। প্রতিরক্ষা বাজেটের বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যসেবা কাটছাঁটের মতো বিষয়গুলোতে বিরোধী পার্টির চাপে সমঝোতা হতে পারে।
এদিকে, জেট্টেনের সরকার শরণার্থী নীতি কঠোর করার মাধ্যমে ইউরোপীয় শরণার্থী সংকটের সমাধানে নেদারল্যান্ডের অবস্থান স্পষ্ট করতে চায়। এই পদক্ষেপটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভ্যন্তরে বিতর্কের সৃষ্টি করতে পারে, কারণ অন্যান্য দেশ শরণার্থী প্রবাহে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করে।
সংকটময় রাজনৈতিক পরিবেশে, জেট্টেনের নেতৃত্বের স্থিতিশীলতা এবং তার দলগুলোর সমন্বয় ক্ষমতা দেশের ভবিষ্যৎ দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে। সংখ্যালঘু সরকার কীভাবে প্রতিটি সংস্কারকে ভোটে পাস করে, তা নেদারল্যান্ডের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নীতিতে প্রভাব ফেলবে।
সারসংক্ষেপে, রব জেট্টেনের শপথ গ্রহণ নেদারল্যান্ডের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক, যেখানে বয়স, যৌন পরিচয় ও সংখ্যালঘু সরকার গঠন একসাথে যুক্ত হয়েছে। তার সরকারকে এখন প্রতিটি নীতি পদক্ষেপে পার্লামেন্টের সমর্থন অর্জন করতে হবে, যা দেশের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



