মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রীর এবিসি নিউজের সঙ্গে রবিবার সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতি এখনও একই রকম। তিনি উল্লেখ করেন, আইনি উপায়ে পরিবর্তন আসতে পারে, তবে নীতি নিজেই অপরিবর্তিত। এই মন্তব্য সর্বোচ্চ আদালতের সাম্প্রতিক রায়ের পর প্রকাশিত হয়।
শুল্ক হল আমদানি করা পণ্যের উপর আরোপিত কর, যা পণ্য আনা কোম্পানিগুলি সরকারকে প্রদান করে। এই করের মাধ্যমে দেশীয় শিল্প রক্ষা ও রাজস্ব সংগ্রহের উদ্দেশ্য থাকে। শুল্কের হার ও প্রয়োগের পদ্ধতি সরকার নির্ধারণ করে।
সর্বোচ্চ আদালত গত শুক্রবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক নির্দিষ্ট আইনি উপকরণ ব্যবহারকে অবৈধ ঘোষণা করে। আদালত রায়ে জানায়, ট্রাম্পের ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে গৃহীত বৈশ্বিক শুল্ক পরিকল্পনা আইনের সীমা অতিক্রম করেছে। রায়টি বিশেষভাবে ১৯৭৭ সালের আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (IEEPA) এর ব্যবহারকে লক্ষ্য করে।
IEEPA ছিল ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে বেশিরভাগ শুল্ক আরোপের ভিত্তি। এই আইন অনুযায়ী তিনি বিশ্বব্যাপী পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করতে সক্ষম ছিলেন। তবে সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে এই ক্ষমতার সীমা নির্ধারিত হয়েছে, ফলে ভবিষ্যতে একই পদ্ধতি ব্যবহার করা যাবে না।
IEEPA বাদেও মার্কিন সরকার ইতিমধ্যে বিভিন্ন নির্দিষ্ট পণ্যের জন্য আলাদা শুল্ক ব্যবস্থা চালু করেছে। এই পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট দেশ বা পণ্যের ওপর লক্ষ্যভিত্তিক শুল্ক আরোপ করা হয়। কিছু পণ্য এই শুল্ক থেকে অব্যাহতি পেয়েছে, ফলে পুরো সিস্টেমে জটিলতা রয়ে গেছে।
সেই রায়ের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প তৎক্ষণাৎ অন্য একটি আইন ব্যবহার করে নতুন শুল্ক ঘোষণা করেন। প্রথমে সব দেশের আমদানি পণ্যের ওপর ১০% শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই নতুন শুল্কের ভিত্তি পূর্বের IEEPA-র তুলনায় ভিন্ন, তবে একই লক্ষ্য রাখে।
শুক্রবার ডোনাল্ড ট্রাম্প শুল্কের হার ১৫% পর্যন্ত বাড়িয়ে দেন, যা মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হবে। নতুন হারটি সকল আমদানি পণ্যের ওপর সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। এই পদক্ষেপটি মার্কিন সরকারকে অতিরিক্ত রাজস্ব সংগ্রহের পাশাপাশি দেশীয় শিল্প রক্ষার সুযোগ দেবে।
গ্রীরের মতে, নতুন ১৫% শুল্কের প্রভাব IEEPA-র অধীনে আরোপিত শুল্কের সমতুল্য হবে। তিনি উল্লেখ করেন, যদিও নতুন আইনি ভিত্তি পূর্বের মতো নমনীয় নয়, তবু এটি দীর্ঘমেয়াদী টুল হিসেবে কাজ করবে। এই টুলের মাধ্যমে সরকার শুল্ক নীতি চালিয়ে যাবে।
নতুন আইনটি সর্বোচ্চ ১৫০ দিন পর্যন্ত প্রযোজ্য, এরপর কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। এই সময়সীমা শেষ হলে শুল্কের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে আইনসভার অনুমোদন নিতে হবে। তাই মার্কিন সরকারকে কংগ্রেসের সঙ্গে সমন্বয় করে শুল্ক নীতি চালু রাখতে হবে।
সেইসাথে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন অন্যান্য আইনি উপায় অনুসন্ধান করছে, যাতে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা যায়। গ্রীর জানান, তারা শুল্কের কাঠামো পুনর্গঠন করে নতুন টুল তৈরি করছেন। যদিও এই টুলগুলো পূর্বের IEEPA-র মতো স্বচ্ছন্দ নয়, তবু তারা দীর্ঘস্থায়ী সমাধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গ্রীরের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়, সরকার শুল্ক নীতি পুনর্গঠন করে আরও স্থিতিশীল ও টেকসই টুল তৈরি করেছে। তিনি বলেন, নতুন ব্যবস্থা পূর্বের তুলনায় কম নমনীয় হলেও দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হবে। এই পরিবর্তন মার্কিন বাণিজ্য নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করবে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, শুল্ক নীতির এই ধারাবাহিকতা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্কেও প্রভাব ফেলবে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতি অপরিবর্তিত থাকায় বিদেশি বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে। পরবর্তী ধাপ হিসেবে কংগ্রেসের অনুমোদন ও নতুন আইনি টুলের ব্যবহার নির্ধারক হবে।



