ইতালির লাক্সারি স্পোর্টস কার নির্মাতা ল্যাম্বোরগিনি, ২০২৯ সালে বাজারে আসার কথা ছিল এমন সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক সুপারকার লাঞ্জাডোরের উৎপাদন পরিকল্পনা শেষ করেছে। কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তা স্টিফেন উইঙ্কেলম্যানের মতে, গ্রাহকদের কাছ থেকে ব্যাটারি‑চালিত গাড়ির প্রতি আগ্রহ প্রায় শূন্য, ফলে প্রকল্পটি আর্থিক দৃষ্টিকোণ থেকে টেকসই নয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান ইলেকট্রিক গাড়ি ল্যাম্বোরগিনির ঐতিহ্যবাহী ‘ইমোশনাল কানেকশন’ সরবরাহে ব্যর্থ, বিশেষ করে গাড়ির স্বতন্ত্র ইঞ্জিনের গর্জা না থাকলে গ্রাহকদের আকর্ষণ কমে যায়।
লাঞ্জাডোর প্রথমবার প্রকাশিত হয়েছিল আগস্ট ২০২৩-এ, যখন ল্যাম্বোরগিনি তার প্রথম সম্পূর্ণ ইলেকট্রিক সুপারকারের ধারণা উপস্থাপন করেছিল। তবে বছরের শেষের দিকে অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনার পর, কোম্পানি এই মডেলকে বাতিল করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। এখন ল্যাম্বোরগিনি হাইব্রিড পদ্ধতিতে ফিরে যাচ্ছে; রেভুল্টো এবং উরুসের মতো প্লাগ‑ইন হাইব্রিড মডেলগুলোকে নতুন পণ্য হিসেবে উন্নত করা হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে পুরো লাইনআপ হাইব্রিড সিস্টেমের মাধ্যমে চালিত হবে, আর অভ্যন্তরীণ দহন ইঞ্জিনের উৎপাদন বাজারের চাহিদা অনুমোদন করলে যতদূর সম্ভব চালু থাকবে।
এই সিদ্ধান্তের ব্যবসায়িক প্রভাব বেশ স্পষ্ট। সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক সুপারকারের উন্নয়ন বন্ধ করা মানে ব্যাটারি প্যাক, উচ্চ ভোল্টেজ সিস্টেম এবং সংশ্লিষ্ট সরবরাহ চেইনের জন্য নির্ধারিত বিনিয়োগের কিছু অংশ হ্রাস পাবে। একই সঙ্গে, ল্যাম্বোরগিনির সরবরাহকারীরা এখন হাইব্রিড প্রযুক্তির দিকে মনোযোগ দিতে হবে, যা কোম্পানির আর্থিক পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে পারে।
বাজারের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, বিনিয়োগকারীরা এই পদক্ষেপকে ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের একটি বুদ্ধিমান সিদ্ধান্ত হিসেবে মূল্যায়ন করতে পারেন। সম্পূর্ণ ইলেকট্রিক সুপারকারের চাহিদা অনিশ্চিত থাকায়, অপ্রত্যাশিত বিক্রয় হ্রাসের ঝুঁকি কমে যায়। তবে টেসলা, পোরশে এবং রিভিয়ান মতো প্রতিদ্বন্দ্বীরা বৈদ্যুতিক গাড়িতে দ্রুত অগ্রসর হওয়ায়, ল্যাম্বোরগিনির ইলেকট্রিক সেগমেন্টে প্রবেশের সুযোগ হারাতে পারে।
ইলেকট্রিক গাড়ির প্রতি ভোক্তাদের আবেগগত সংযোগের অভাব ল্যাম্বোরগিনির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সুপারকারের উচ্ছ্বাসের মূল উপাদান হল ইঞ্জিনের গর্জা এবং ত্বরান্বিত গতি, যা বর্তমান ইলেকট্রিক প্রযুক্তি সম্পূর্ণভাবে পুনরায় তৈরি করতে পারেনি। তাই হাইব্রিড পদ্ধতি গ্রহণের মাধ্যমে, কোম্পানি ইলেকট্রিক মোটরের ত্বরান্বিত গতি এবং ঐতিহ্যবাহী ইঞ্জিনের শব্দ উভয়ই বজায় রাখতে পারে, যা ব্র্যান্ডের পরিচয় রক্ষা করে।
আর্থিক দৃষ্টিকোণ থেকে, হাইব্রিড মডেলে ফোকাস করা ল্যাম্বোরগিনিকে বিদ্যমান ইঞ্জিন প্রযুক্তি ব্যবহার করে নতুন বৈদ্যুতিক উপাদান ধীরে ধীরে সংযোজনের সুযোগ দেয়। এই কৌশল মূলধন ব্যয়কে দীর্ঘমেয়াদে ছড়িয়ে দেয়, ফলে নগদ প্রবাহ স্থিতিশীল থাকে এবং মুনাফা মার্জিন রক্ষা পায়। একই সঙ্গে, হাইব্রিড গাড়ির চাহিদা বিশ্বব্যাপী বাড়ছে, বিশেষ করে ইউরোপ ও এশিয়ার কঠোর নির্গমন নিয়মের ফলে, যা ল্যাম্বোরগিনির বিক্রয় লক্ষ্যকে সমর্থন করবে।
ভবিষ্যৎ দৃষ্টিকোণ থেকে, উইঙ্কেলম্যানের মন্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে ল্যাম্বোরগিনি সম্পূর্ণ ইলেকট্রিক মডেল পুনরায় বিবেচনা করতে পারে, তবে তা তখনই হবে যখন প্রযুক্তি এবং বাজারের শর্তাবলী যথাযথ হবে। অর্থাৎ, কোম্পানি এখনই ইলেকট্রিকের পথে পুরোপুরি ঝাঁপিয়ে না দিয়ে, ধাপে ধাপে হাইব্রিডের মাধ্যমে রূপান্তরিত হচ্ছে। এই পদ্ধতি ল্যাম্বোরগিনিকে ব্র্যান্ডের ঐতিহ্য বজায় রেখে, বৈশ্বিক ইলেকট্রিক রূপান্তরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখবে।
সারসংক্ষেপে, ল্যাম্বোরগিনির লাঞ্জাডোর প্রকল্পের বাতিল উচ্চ‑প্রদর্শনশীল লাক্সারি গাড়ি বাজারে বর্তমান ইলেকট্রিক প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করে। হাইব্রিড কৌশলে রূপান্তর কোম্পানির আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং ব্র্যান্ডের আবেগগত সংযোগ রক্ষার জন্য একটি বাস্তবিক পদক্ষেপ, যা ২০২০-এর দশকের শেষ পর্যন্ত ল্যাম্বোরগিনিকে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে রাখতে সহায়তা করবে।



