বগুড়ার কাহালু উপজেলায় ৫৬ বছর বয়সী পি এম বেলাল হোসেনকে স্থানীয় লোকজন আটক করে পুলিশে হস্তান্তর করা হয়েছে। হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগ সহসভাপতি ও কাহালু সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সোমবার দুপুরে ঘটনার কেন্দ্রে ছিলেন।
বেলাল হোসেন তেলিয়ান গ্রামের মৃত লজাবত প্রামাণিকের পুত্র এবং রাজনৈতিক দিক থেকে স্থানীয় স্তরে সক্রিয়। তার নাম ও পদবী স্থানীয় মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে উল্লেখিত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, হোসেন আটক হওয়ার আগে উপজেলায় অনুষ্ঠিত একটি সভায় অংশগ্রহণ করেন। সভা শেষের পর তিনি কাহালু রেলগেইট এলাকায় গিয়ে ছিলেন, যেখানে লোকজন তাকে আটক করে পুলিশে হস্তান্তর করে।
কাহালু থানার ওয়ানডি অফিসার গোলাম মোস্তফা জানান, “সোমবার দুপুরে কিছু লোক বেলাল হোসেনকে থানায় হস্তান্তর করে।” তিনি আরও যোগ করেন, “তারপর তাকে পূর্বে বীরকেদার ইউনিয়নের একটি বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”
ওসি উল্লেখ করেন, হোসেনকে যে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে তা আগের একটি বিস্ফোরক ঘটনার সাথে সম্পর্কিত, যদিও তিনি স্পষ্ট করে বলেন না যে সেই মামলায় তার ভূমিকা কী। তিনি আরও বলেন, “তাকে কে প্রথমে আটক করে পুলিশে দিল তা আমি বলতে পারছি না।”
হোসেনকে থানায় হস্তান্তর করার পর, তাকে গ্রেফতার শংসাপত্র দেখিয়ে আদালতে উপস্থাপন করা হয়। আদালতের নির্দেশ অনুসারে, তাকে জেলখানায় স্থানান্তর করা হয় এবং বর্তমানে জেলে রাখা হয়েছে।
কাহালু পৌর বিএনপির সভাপতি আনিছুর রহমান আনিছের মতে, হোসেন আগে থেকে পলাতক ছিলেন এবং হঠাৎ করে দেখা গিয়েছিল। তিনি বলেন, “উপজেলা মিটিংয়ে আসছিলেন, সেখান থেকে বের হচ্ছিলেন, তখনই লোকজন তাকে আটক করে পুলিশে দিল।”
স্থানীয় কিছু বাসিন্দা ঘটনাটিকে অস্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেন, তবে অধিকাংশই আইনগত প্রক্রিয়ার যথাযথতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। কেউ কেউ হোসেনের পূর্বের বিস্ফোরক মামলার তথ্যের স্বচ্ছতা চায়।
পুলিশের মতে, হোসেনের গ্রেফতার প্রক্রিয়া আইনি পদ্ধতি অনুসরণ করে সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমান জেলখানায় তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। তদন্ত চলমান থাকায় অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
আইনগত দিক থেকে, হোসেনের বিরুদ্ধে থাকা বিস্ফোরক মামলার বিচার এখনো শেষ হয়নি। আদালত থেকে পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারিত হলে তা জনসাধারণের জানাতে হবে।
এই ঘটনার পর, স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর কাছ থেকে অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়া হয়েছে যাতে অনুরূপ ঘটনা পুনরায় না ঘটে। ভবিষ্যতে হোসেনের মামলায় কী সিদ্ধান্ত হবে তা বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল।



