সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠকের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানান, বর্তমান সরকার ব্যাংকিং খাতের চলমান সংস্কারকাজ চালিয়ে যাবে। তিনি উল্লেখ করেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, খেলাপি ঋণ হ্রাস এবং একীভূত ব্যাংকগুলোর স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সমন্বয় শক্তিশালী করা হবে।
বৈঠকে গভর্নর সরকারকে ব্যাংকিং সংস্কারের সামগ্রিক দিকনির্দেশনা উপস্থাপন করেন এবং অর্থমন্ত্রীকে সংক্ষিপ্ত ব্রিফ প্রদান করেন। তিনি জোর দেন, মুদ্রাস্ফীতি কমানো বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার, এবং এ বিষয়ে কোনো বিরোধী মতামত নেই।
খেলাপি ঋণ হ্রাসের জন্য গৃহীত পদক্ষেপগুলোতে বড় খেলাপিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা দৃঢ় করা, ঋণ পুনর্গঠন নীতিমালা কঠোর করা, ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের সনাক্তকরণ এবং ব্যাংকগুলোর শ্রেণিকরণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা অন্তর্ভুক্ত। এসব নীতি বাস্তবায়নে ব্যাংকিং খাতের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চালু রয়েছে।
গভর্নর উল্লেখ করেন, ব্যাংকিং সংস্থাগুলো থেকে প্রাপ্ত প্রতিক্রিয়ায় দেখা যাচ্ছে, গৃহীত সংস্কারমূলক পদক্ষেপগুলো ধীরে ধীরে ফলপ্রসূ হচ্ছে। অনেক ব্যাংকই ইতিমধ্যে এই পরিবর্তনগুলোকে ইতিবাচক প্রভাব হিসেবে মূল্যায়ন করছে।
একই বৈঠকে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকসহ একীভূত পাঁচটি ব্যাংকের বিষয়েও আলোচনা হয়। একীভূত হওয়ার পর এসব ব্যাংকের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এখন প্রধান লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর আমানত পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতি করছে, পুরনো আমানতধারীরা তাদের টাকা পাচ্ছেন এবং নতুন আমানতও প্রবাহিত হচ্ছে।
ব্যাংকিং সংস্কারের ধারাবাহিকতা আর্থিক বাজারে আস্থা জোগাতে সহায়ক হবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। ঋণ পুনর্গঠন ও খেলাপি ঋণ হ্রাসের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর ঝুঁকি কমে, ফলে ঋণ প্রদান ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
তবে, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য নীতি বাস্তবায়নের তীব্রতা বজায় রাখা জরুরি। উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ঋণগ্রহীতার পরিশোধ ক্ষমতা হ্রাস করতে পারে, যা ব্যাংকিং সেক্টরের সুস্থতায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
নতুন নীতি ও আইনি কাঠামোর কার্যকরী পর্যবেক্ষণ, খেলাপি ঋণের পুনরায় বৃদ্ধি রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সমন্বিত তদারকি এই লক্ষ্য অর্জনে মূল চাবিকাঠি হবে।
ভবিষ্যতে, ব্যাংকিং সংস্কারের ধারাবাহিকতা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় আর্থিক স্থিতিশীলতা ও ক্রেডিট প্রবাহকে সমর্থন করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া বিনিয়োগকারীর আস্থা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য অনুকূল পরিবেশ গড়ে তুলবে।
সারসংক্ষেপে, বাংলাদেশ সরকার ব্যাংকিং খাতের সংস্কার অব্যাহত রাখবে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, খেলাপি ঋণ হ্রাস এবং একীভূত ব্যাংকের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করবে। এই পদক্ষেপগুলো আর্থিক বাজারের স্বচ্ছতা ও স্থায়িত্বে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।



