22.7 C
Dhaka
Tuesday, February 24, 2026
Google search engine
Homeস্বাস্থ্যগ্যাস লিকের কারণ ও নিরাপদ ব্যবস্থার মূল নির্দেশনা

গ্যাস লিকের কারণ ও নিরাপদ ব্যবস্থার মূল নির্দেশনা

গ্যাস সংযোগ প্রতিটি বাড়ির রান্নাঘরের অপরিহার্য অংশ, যা চুলার জন্য জ্বালানি সরবরাহ করে। তবে পাইপলাইন বা সংযোগস্থলে কোনো ত্রুটি ঘটলে গ্যাস লিকের ঝুঁকি বাড়ে, যা গুরুতর দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

গ্যাস সাধারণত উচ্চচাপের অবস্থায় সংরক্ষিত থাকে, যাতে তা পাইপের মাধ্যমে সরঞ্জামে পৌঁছায়। জয়েন্ট, সিল বা ফিটিং যদি ঢিলা, জংধরা বা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়, তখন চাপ গ্যাসকে বাইরে বেরিয়ে আসতে বাধ্য করে।

সময়ের সাথে ধাতব পাইপের ওপর আর্দ্রতা, মাটির সরে যাওয়া বা অন্যান্য পরিবেশগত কারণের প্রভাব পড়ে, ফলে পৃষ্ঠে ফাটল ও ছিদ্র তৈরি হয়। এই ধরনের ক্ষতি গ্যাসের অপ্রত্যাশিত নিঃসরণকে সহজ করে।

চুলা ভুলভাবে ব্যবহার করা বা সঠিকভাবে ইনস্টল না করা আরেকটি সাধারণ কারণ। কখনো কখনো শিখা নিভে যাওয়ার পরও চুলা চালু থাকে, ফলে গ্যাস জমে এবং লিকের সম্ভাবনা বাড়ে।

পুরনো বা অনুপযুক্ত উপকরণ ব্যবহার করেও লিকের ঝুঁকি বাড়ে, বিশেষ করে যখন সেগুলো আধুনিক যন্ত্রপাতির চাহিদা মেটাতে সক্ষম নয়। তাই নিয়মিত পরীক্ষা এবং প্রশিক্ষিত গ্যাস ফিটারদের কাজ করা অত্যন্ত জরুরি।

গ্যাস সিস্টেমের রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত কোনো অপ্রশিক্ষিত ব্যক্তি নিজে করা উচিত নয়। আইন অনুযায়ী, লাইসেন্সধারী গ্যাস ফিটার ছাড়া কেউ গ্যাস সংযোগ স্থাপন, মেরামত বা পরিবর্তন করতে পারে না।

দুর্ভাগ্যবশত, অনেক সময় বাড়িওয়ালা বা অপ্রশিক্ষিত কর্মী খরচ কমাতে নিজে কাজ করে, যা নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায়। এমন অনভিজ্ঞ হস্তক্ষেপ গ্যাস লিকের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।

গ্যাস সিলিন্ডার সর্বদা উল্লম্বভাবে রাখা উচিত; অস্থির অবস্থান বা আর্দ্র পরিবেশ সিলিন্ডারের ক্ষয় ঘটাতে পারে। এছাড়া বন্ধ পরিবেশে দীর্ঘ সময় গ্যাস সংরক্ষণ করাও সমস্যার কারণ হতে পারে।

ফিটিংয়ের থ্রেড যদি অতিরিক্ত টাইট করা হয় বা ক্রস-থ্রেডেড হয়, তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা ফেটে যেতে পারে। এই ধরনের ত্রুটি গ্যাস লিকের সরাসরি উৎস।

ব্যবহার শেষে ভালভ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ না করা আরেকটি সাধারণ ভুল। ভালভ আংশিকভাবে খোলা থাকলে গ্যাস ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসে, যা অদৃশ্য লিকের দিকে নিয়ে যায়।

প্রাকৃতিক গ্যাসের স্বয়ং কোনো গন্ধ থাকে না, তাই লিক সনাক্ত করা কঠিন। এই সমস্যার সমাধানে গ্যাস প্রক্রিয়াকরণের সময় মারক্যাপটান নামক একটি নিরাপদ রাসায়নিক যোগ করা হয়, যার গন্ধ গন্ধহীন গ্যাসকে তীব্র গন্ধে রূপান্তরিত করে।

মারক্যাপটানের গন্ধ সাধারণত গন্ধক বা পচা ডিমের মতো হয়, যা গ্যাস লিকের সূচনা মুহূর্তেই মানুষকে সতর্ক করে। তাই গন্ধ অনুভব হলে তৎক্ষণাৎ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে, জানালার বাতাস চলাচল বাড়িয়ে এবং পেশাদার ফিটারের সাহায্য নেয়া উচিত।

সারসংক্ষেপে, গ্যাস লিকের মূল কারণগুলো হল পুরনো পাইপ, ঢিলা ফিটিং, ভুল ইনস্টলেশন এবং অপ্রশিক্ষিত হস্তক্ষেপ। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, লাইসেন্সধারী ফিটারের কাজ এবং গ্যাসের গন্ধ সনাক্ত করার সচেতনতা এই ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ।

আপনার বাড়িতে গ্যাস ব্যবহারের সময় এই নির্দেশনাগুলো মেনে চললে দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব। গ্যাসের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে কি আপনি আপনার গ্যাস সংযোগের নিয়মিত পরীক্ষা করাচ্ছেন?

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
AI-powered স্বাস্থ্য content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments