সারাইল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া—রুমিন ফারহানা (এমপি, ব্যারিস্টার) শাহীদ মিনারে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়ার অভিযোগের পর তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে একটি কাউন্টার মামলা আজ (রবিবার) দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে নিবন্ধিত এবং ঘটনাটির মূল কারণ হিসেবে সমাবেশে সৃষ্ট উত্তেজনা উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলটি তামিম মিয়া, যিনি অ্যানোয়ার হোসেনের (অ্যানোয়ার মাস্টার নামে পরিচিত) ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী, সারাইল থানা-এ দাখিল করেন। তামিমের মতে, তিনি অ্যানোয়ার হোসেনের ফারজানা অ্যানোয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও তার বাড়ির সামনে গোষ্ঠীর মুখোমুখি হন, যেখানে শত্রুভাবাপন্ন শব্দ ও হুমকি ছড়িয়ে পড়ে।
দাখিলকৃত অভিযোগে মোট ১৭ জনকে নামকরা অভিযুক্ত হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, আর অতিরিক্ত ১০০ থেকে ১৫০ জনকে অচিহ্নিত অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নামকরা অভিযুক্তদের মধ্যে অ্যানোয়ার হোসেনের পরিবারিক সম্পত্তিতে হিংসা ও লুটের অভিযোগও অন্তর্ভুক্ত।
সারাইল থানার অফিসার‑ইন‑চার্জ মানজুর কাদের ভূঁইয়া মামলাটির দাখিল নিশ্চিত করেন এবং জানান যে তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান। তিনি উল্লেখ করেন যে FIR‑এ উল্লিখিত ঘটনার সময়কাল ও স্থান স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা তদন্তে সহায়ক হবে।
FIR‑এর বিবরণে বলা হয়েছে, ২১ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টার পর গোষ্ঠীটি অ্যানোয়ার হোসেনের ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও তার বাসার সামনে জড়ো হয়ে তীব্র শব্দে গালি-গালাজ করে। তামিম মিয়া যখন হস্তক্ষেপের চেষ্টা করেন, তখন তাকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করা হয় এবং কিছু মূল্যবান সামগ্রী চুরি হয়।
তামিমের অভিযোগে রুমিন ফারহানার সমর্থকরা শাহীদ মিনারে স্লোগান গাইয়ে উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়। অভিযোগকারী বলেন, সমর্থকরা স্লোগান গাইতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও উপস্থিতদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করে, যা পরবর্তীতে হিংসাত্মক সংঘাতে রূপ নেয়।
সেই একই দিনে, রুমিন ফারহানার একজন সমর্থকও আলাদা একটি মামলা দায়ের করে, যেখানে অ্যানোয়ার হোসেনকে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই মামলায় আরও চারজনকে নামকরা অভিযুক্ত হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত ১৫০ জনকে অচিহ্নিত অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনাটি ২১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে ঘটেছে, যখন রুমিন ফারহানা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্মরণে সারাইল সেন্ট্রাল শাহীদ মিনারে গিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে গিয়েছিলেন। তবে সেখানে তাকে বাধা দেওয়া হয়, সমর্থকদের ওপর হিংসা চালানো হয় এবং শেষ পর্যন্ত তিনি কোনো অনুষ্ঠান সম্পন্ন না করে স্থান ত্যাগ করেন।
এই ঘটনাটি স্থানীয় রাজনীতিতে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে। রুমিন ফারহানার সমর্থকরা দাবি করেন যে তাদের অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে, আর অ্যানোয়ার হোসেনের সমর্থকরা তামিম মিয়ার অভিযোগকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে দেখছেন। উভয় পক্ষই আইনগত পদক্ষেপের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান রক্ষা করতে চাচ্ছে।
পরবর্তী ধাপে, সংশ্লিষ্ট থানা ও জেলা পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাবে এবং মামলাগুলি আদালতে উপস্থাপন করা হবে। যদি আদালত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রমাণিত অপরাধ স্বীকার করে, তবে তা স্থানীয় রাজনৈতিক গতিবিদ্যায় প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতিতে। বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং আইনগত প্রক্রিয়ার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের কৌশল নির্ধারণ করবে।



