চাদ সরকার সোমবার থেকে পূর্বের সুদান সীমান্তকে অস্থায়ীভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত জানায়, যাতে সুদানের সশস্ত্র গোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান অনুপ্রবেশ রোধ করা যায়। এই পদক্ষেপটি “অধিক সময়ের জন্য” কার্যকর থাকবে এবং সীমান্ত পারাপারের সব ধরনের কার্যক্রম থামানো হবে।
সরকারি মুখপাত্র উল্লেখ করেন, সীমান্ত বন্ধের মূল উদ্দেশ্য চাদের নাগরিক ও শরণার্থী সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তবে মানবিক কারণে জরুরি প্রয়োজন হলে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পেলে বিশেষ ছাড় প্রদান করা হবে।
সীমান্ত বন্ধের ঘোষণার আগে আল‑টিনা শহরে দ্রুত সহায়তা বাহিনী ও সুদানের সেনাবাহিনীর সমর্থিত স্থানীয় যোদ্ধাদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষে রক্তপাত হয়। এই লড়াইয়ের ফলে সীমান্তের নিকটবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা হুমকি বৃদ্ধি পায়।
২০২৩ সালে শুরু হওয়া সুদানের গৃহযুদ্ধের পর থেকে প্রায় এক মিলিয়ন সুদানি নাগরিক চাদের সীমান্ত অতিক্রম করে আশ্রয় নিয়েছে। শরণার্থীদের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চাদের মানবিক সহায়তার চাহিদা তীব্রতর হয়েছে।
চাদ দেশের ভূগোলিক অবস্থান তাকে সুদানের সংঘাতের প্রভাবশালী প্রবেশদ্বার করে তুলেছে; আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা ও কনভয়গুলো প্রায়ই এই পথে দেশীয় ও বিদেশি সাহায্য পৌঁছে দেয়। সীমান্ত বন্ধের ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে বাধা সৃষ্টি হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
যোগাযোগ মন্ত্রী মাহামত গাসিম চেরিফের মতে, সীমান্ত বন্ধের মাধ্যমে সংঘাতের বিস্তার রোধ করা এবং নাগরিক ও শরণার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রধান লক্ষ্য। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই ব্যবস্থা সাময়িক এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নত হলে পুনরায় বিবেচনা করা হবে।
সুদানের অভ্যন্তরীণ যুদ্ধ এপ্রিল ২০২৩ থেকে তীব্রতর হয়েছে; জাতীয় সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আবদেল ফতাহ আল‑বুরহান ও দ্রুত সহায়তা বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল মোহাম্মদ হামদান দাগালো (হেমেদতি) এর মধ্যে ক্ষমতার লড়াই চালু হয়। দ্রুত সহায়তা বাহিনীর নিয়মিত সেনাবাহিনীতে একীভূতকরণের বিষয়টি নিয়ে মতবিরোধ দ্রুত পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপান্তরিত হয়।
চাদ সরকার এছাড়াও জানায় যে কোনো আক্রমণ বা সীমান্ত লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়া জানাতে অধিকার সংরক্ষিত রয়েছে। নাগরিকদের শান্ত থাকা, সতর্ক থাকা এবং নতুন সীমান্ত বিধি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আল‑টিনা শহরে সংঘর্ষের ফলে পাঁচজন চাদ সৈনিক ও তিনজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে, অন্তত বারোজন আহত হয়েছে বলে রয়টার্সের তথ্য পাওয়া গেছে। এই ঘটনা চাদের নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে।
সীমান্ত বন্ধের ফলে চাদ ও সুদানের মধ্যে মানবিক সহায়তার প্রবাহে প্রভাব পড়তে পারে, তবে সরকার দাবি করে যে নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই পদক্ষেপ অপরিহার্য। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে উভয় পক্ষের সংলাপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছেন।



