স্ট. অ্যান্ড্রুজের জিমের মালিক ডাঃ ক্যারি রাক্সটন ফেসবুকে তার পুরোনো ট্যান্ডেম সাইকেল বিক্রির বিজ্ঞাপন দিলেন, যেখানে তিনি স্থানীয় চাহিদা আশা করছিলেন। তবে পোস্টের পর কয়েকদিনের মধ্যে কেনিয়ার জাতীয় প্যারাসাইক্লিং দলের একজন সদস্যের বার্তা এসে গেল, যাঁরা দৃষ্টিহীন সাইক্লিস্টদের জন্য উপযুক্ত ট্যান্ডেম খুঁজে পেতে সমস্যার মুখোমুখি।
সাইকেলটি মূলত ক্যারির মেয়ে এরিনের জন্য ব্যবহার করা হতো; ছোটবেলায় এটাই তার প্রথম সাইকেল ছিল, কিন্তু বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এটির বদলে নতুন সাইকেল দরকার হয়ে পড়ে। বছর আগে ক্যারি ফেসবুকে সাইকেলটি বিক্রির জন্য পোস্ট করেন, তবে তেমন কোনো আগ্রহ না পেয়ে শেষ পর্যন্ত এটি কোনো ভালো বাড়িতে দান করা হবে বলে ঘোষণা করেন এবং ফিফের কুপার থেকে সংগ্রহের সুযোগ দেন।
কেনিয়ার সাইক্লিস্ট অ্যালিস মিরিং’উ, যিনি প্যারাসাইক্লিং দলের পাইলট হিসেবে দৃষ্টিহীন সাইক্লিস্টদের সঙ্গে রেসে অংশ নেন, তিনি এই পোস্টটি লক্ষ্য করে সরাসরি ক্যারির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি জানান, কেনিয়ায় ট্যান্ডেম সাইকেল তৈরি হয় না এবং দান ছাড়া তাদের দলকে এই ধরনের সরঞ্জাম পাওয়া কঠিন। ক্যারির প্রথমে এই অনুরোধে অবাক হওয়া সত্ত্বেও, তিনি সাহায্যের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
ক্যারি জানান, কেনিয়ার প্যারাসাইক্লিং দলের জন্য ট্যান্ডেম সাইকেল দান করা একটি চমৎকার উদ্যোগ হবে। তিনি উল্লেখ করেন, কেনিয়ায় ট্যান্ডেম সাইকেল উৎপাদন হয় না, ফলে দাতাদের ওপর নির্ভরশীলতা থাকে। তাই তিনি সাইকেলটি সরাসরি কুপার থেকে পাঠানোর পরিবর্তে বিকল্প ব্যবস্থা খোঁজেন।
লজিস্টিকের দিক থেকে গ্লাসগোরে বসবাসকারী একজন কেনিয়ান, যিনি নিয়মিত কন্টেইনারে পণ্য পাঠান, তিনি এই সাইকেলটি নিজের পরবর্তী শিপমেন্টে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেন। ফলে সাইকেলটি গ্লাসগোরে থেকে কন্টেইনারে লোড হয়ে আফ্রিকায় পাঠানো সম্ভব হয়। এই প্রক্রিয়ায় ক্যারির জন্য দূরত্বের চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও, তিনি আশাবাদী ছিলেন যে সাইকেলটি নিরাপদে পৌঁছাবে।
শুক্রবারের শেষের দিকে ক্যারিকে একটি বার্তা আসে, জানিয়ে যে সাইকেলটি নায়রোবিতে পৌঁছে গেছে। বার্তায় উল্লেখ করা হয়, সাইকেলটি ভ্যালেন্টাইন ডে-ইয়েই, ১৪ ফেব্রুয়ারি, নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছেছে। এই খবর ক্যারির জন্য বড় আনন্দের কারণ হয়ে ওঠে, কারণ তিনি দীর্ঘ সময়ের পরেও সাইকেলটি তার নতুন মালিকের হাতে পৌঁছেছে দেখে সন্তুষ্ট।
নায়রোবিতে পৌঁছানোর পর সাইকেলটি রেসের উপযোগী করার জন্য কিছু পরিবর্তন করা হবে। নতুন গিয়ার, হ্যান্ডেলবার এবং অন্যান্য রেসিং উপাদান যুক্ত করে সাইকেলটি আধুনিক মানে আপডেট করা হবে। আপগ্রেড সম্পন্ন হলে, এটি স্থানীয় ট্র্যাকে পরীক্ষা করা হবে এবং আন্তর্জাতিক প্যারাসাইক্লিং প্রতিযোগিতায় ব্যবহার করা হবে।
কেনিয়ার প্যারাসাইক্লিং দলের জন্য এই দানটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। দৃষ্টিহীন সাইক্লিস্টদের জন্য উপযুক্ত ট্যান্ডেম সরবরাহের অভাব দীর্ঘদিনের সমস্যা ছিল, এবং এই সাইকেলটি তাদের প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতায় বড় সহায়তা করবে। ক্যারির উদ্যোগ স্থানীয় ক্রীড়া সম্প্রদায়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সহযোগিতার একটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে এক দেশের ব্যক্তিগত উদ্যোগ অন্য দেশের বিশেষ চাহিদা পূরণে সহায়তা করে। ভবিষ্যতে আরও এমন দান ও সহযোগিতা বাড়বে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে, যাতে দৃষ্টিহীন সাইক্লিস্টদের মতো বিশেষ গোষ্ঠীর ক্রীড়া উন্নয়নে সহায়তা করা যায়।



