মোমিনুল হক ৮৩ রান ৮২ ball‑এ স্কোর করে ইস্ট জোনের পরাজয়ে অংশ নেওয়ার পর বগুড়ায় সাংবাদিকদের সামনে টেস্ট‑শুধু খেলোয়াড়ের লেবেল নিয়ে তার অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই ধরণের ট্যাগ তাকে সাদা বলের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে চলেছে।
বঙ্গের তৃতীয় সর্বোচ্চ টেস্ট রান সংগ্রাহক হিসেবে মোমিনুলের নাম টেস্ট ক্রিকেটে প্রায়ই শোনায়। তার অবদান টেস্ট দলে অপরিহার্য, তবে একই সময়ে তিনি সাদা বলের ফরম্যাটে কম সুযোগ পাচ্ছেন।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মোমিনুলের সাদা বলের উপস্থিতি বহু বছর বন্ধ। শেষ ওডিআই ম্যাচটি সেপ্টেম্বর ২০১৮-এ, আর শেষ টি২০ই আন্তর্জাতিক ২০১৪ সালে। এরপর থেকে তিনি শুধুমাত্র লাল বলের দায়িত্বে সীমাবদ্ধ।
দেশীয় টুর্নামেন্টেও একই ধারা চলেছে। ২০২৬ সালের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে সিলেট টাইটান্স তাকে তালিকাভুক্ত করলেও তিনি কোনো ম্যাচে মাঠে নামেননি, পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে বেঞ্চে বসে ছিলেন। অন্যদিকে, ন্যাশনাল ক্রিকেট লীগ টি২০-তে চট্টগ্রাম বিভাগের সব ম্যাচে তিনি সক্রিয় ছিলেন।
মোমিনুলের মতে, খেলোয়াড়ের নির্বাচন পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে হওয়া উচিত, ফরম্যাটের ভিত্তিতে নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সাদা বলের দেশীয় টুর্নামেন্টে সুযোগ না দিলে খেলোয়াড়ের বিকাশে বাধা সৃষ্টি হয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, শুধুমাত্র লাল বলের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া টেস্ট ক্রিকেটের জন্য ক্ষতিকর উদাহরণ তৈরি করে। এমন পদ্ধতি ভবিষ্যতে টেস্ট বিশেষজ্ঞদের সংখ্যা কমিয়ে দিতে পারে।
মোমিনুল শাদমান ইসলাম এবং নিজের উদাহরণ দিয়ে বলেন, যদি তরুণ খেলোয়াড় দেখেন যে টেস্টে পারফর্ম করেও সাদা বলের লিগে অংশ নিতে পারছেন না, তবে তাদের টেস্ট ক্রিকেটের স্বপ্ন ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে যাবে।
এছাড়া তিনি আর্থিক দিকের প্রভাবের কথাও তুলে ধরেন। সাদা বলের টুর্নামেন্টে অংশ না নিতে পারলে খেলোয়াড়ের আয় সীমিত হয়ে যায়, যা ক্যারিয়ার পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলে।
মোমিনুলের এই মন্তব্যগুলো বাংলাদেশের ক্রিকেট কাঠামোর মধ্যে ফরম্যাট ভিত্তিক নির্বাচন প্রক্রিয়ার পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে সব ফরম্যাটে সমান সুযোগের পরিবেশ গড়ে উঠবে।
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ব্যবস্থাপনা ও নির্বাচনী কমিটি এখন এই উদ্বেগের দিকে নজর দিতে পারে। মোমিনুলের মতামত শোনার পর যদি নীতি পরিবর্তন হয়, তবে তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য আরও উন্মুক্ত পথ তৈরি হবে।
সর্বশেষে, মোমিনুলের ৮৩ রান এবং তার বক্তব্য বগুড়ার মাঠে উপস্থিত দর্শকদের জন্য একটি স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে রইল। তিনি বলছেন, পারফরম্যান্সই একমাত্র সঠিক নির্বাচন মানদণ্ড হওয়া উচিত।
এই পরিস্থিতি যদি সঠিকভাবে সমাধান না হয়, তবে টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য চ্যালেঞ্জ বাড়তে পারে। মোমিনুলের আহ্বান হল, সব ফরম্যাটে সমান সুযোগের মাধ্যমে দেশের ক্রিকেটের সামগ্রিক উন্নতি নিশ্চিত করা।



