ভোলা জেলার তজুমদ্দিন উপজেলায় রবিবার রাত ৯টার দিকে একটি মন্দিরে কীর্তন শোনার জন্য গিয়েছিলেন এক বাক্প্রতিবন্ধী গৃহবধূ। অনুষ্ঠান শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে তিনি স্থানীয় চালক রাকিবের ব্যাটারিচালিত অটো রিকশায় চড়েন, যেখানে চালকসহ তিনজন যুবক ছিলেন।
অটো রিকশা চলাকালে রাকিব ও তার দুই সহচর শাকিল ও রাসেল নারীকে হাতপা বেঁধে শারীরিক হিংসা করেন এবং যৌন নির্যাতন করেন। অপরাধের পর তারা ভোরের দিকে গৃহবধূকে রিকশা থেকে নামিয়ে ছেড়ে চলে যায়।
সকালবেলায় গ্রামের একটি সুপারিবাগানে রক্তাক্ত অবস্থায় গৃহবধূকে স্থানীয় লোকজন আবিষ্কার করে তৎক্ষণাৎ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে ভর্তি হওয়ার সময় তার রক্তক্ষরণ প্রচুর ছিল এবং শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা গিয়েছিল।
তজুমদ্দিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রোগীকে ভোলা সদর হাসপাতালের ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের গাইনিকোলজি বিভাগে রেফার করা হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ রোধে জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয় এবং বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন।
ভুক্তভোগীর বাবা-মা রাকিব (২৫ বছর) এবং তার দুই সহচর শাকিল ও রাসেলকে অপরাধের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ করেন। তারা দাবি করেন, রিকশা চালকের নেতৃত্বে যুবকরা গৃহবধূকে বেঁধে ধর্ষণ করে এবং পরে তাকে ছেড়ে চলে যায়।
ঘটনা ঘটার পর পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে। তজুমদ্দিন থানা থেকে এক সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তবে তার নাম প্রকাশ করা হয়নি। থানা কর্মকর্তার মতে, ভুক্তভোগী সুস্থ হলে আইনি প্রক্রিয়া চালু হবে এবং বর্তমানে অপরাধীর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
পুলিশের আলামত সংগ্রহের সময় গৃহবধূকে জবানবন্দি (বিবৃতি) নেওয়া হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা বলছেন, সংগ্রহকৃত তথ্যের ভিত্তিতে অপরাধের সম্পূর্ণ চিত্র তৈরি হবে এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে।
ভোলা জেলার পুলিশ সুপারিশকারী (এসপি) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ কাওসার জানান, ধর্ষণের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দায়ী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার অভিযান চালু হয়। বর্তমানে এক সন্দেহভাজন গ্রেফতার হয়েছে এবং বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মীরা উল্লেখ করেন, গৃহবধূকে জরুরি রক্তসঞ্চালন ও শল্যচিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে এবং তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি ধীরে ধীরে হচ্ছে। গাইনিকোলজি বিভাগে পর্যবেক্ষণ চালিয়ে রোগীর পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করা হবে।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আইনগত দিক থেকে, গৃহবধূ সুস্থ হলে তার বিবৃতি ও চিকিৎসা রেকর্ড আদালতে উপস্থাপন করা হবে। এছাড়া, স্থানীয় সমাজে এই ধরনের হিংসা রোধে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই ঘটনার পর স্থানীয় জনগণ শোক প্রকাশ করে এবং নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী নারীদের সুরক্ষার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি বাড়ছে।
প্রাসঙ্গিক কর্তৃপক্ষের মতে, তদন্ত চলাকালে অতিরিক্ত সাক্ষী ও ভিডিও প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে। অপরাধের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নির্ধারণের জন্য ফরেনসিক বিশ্লেষণ ও মেডিকেল রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে আইনি প্রক্রিয়া চালু হবে।
সামগ্রিকভাবে, তজুমদ্দিনে ঘটিত এই দলবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় এক সন্দেহভাজন গ্রেফতার হয়েছে এবং অবশিষ্ট অভিযুক্তদের ধরা পড়ার জন্য অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। ভুক্তভোগীর স্বাস্থ্যের উন্নতি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।



