১৪ ফেব্রুয়ারি, উত্তরা-৭ নম্বর সেক্টরের এক গৃহকর্মী অজানা পরিচয়ে কাজ করছিলেন। তিনি মাসিক পাঁচ হাজার টাকার পারিশ্রমিকের বিনিময়ে আয়শা আক্তার ও তার স্বামী আনোয়ার হোসেনের বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। গৃহকর্মী তার পরিচয় কেয়ারটেকারকে “মমতাজ” বলে জানিয়েছেন, আর বাড়ির সদস্যদের কাছে “মারুফা” নামে পরিচয় দিয়েছেন এবং পরে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান করবেন বলে উল্লেখ করলেও তা এখনও সরবরাহ করা হয়নি।
১৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় পরিবার সদস্যরা বাড়ি ফিরে এসে আয়শা আক্তার ও তার স্বামী আনোয়ার হোসেনকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। দুজনেই তৎক্ষণাৎ নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা আয়শা আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন, আর আনোয়ার হোসেনকে জরুরি চিকিৎসা প্রদান করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত সিসিটিভি ক্যামেরা থেকে প্রাপ্ত ফুটেজে দুজনের চেহারা স্পষ্টভাবে দেখা যায় না এবং কোনো অতিরিক্ত সূত্র পাওয়া যায়নি। ক্যামেরা রেকর্ডে দেখা যায় দুজনের হাঁটার ভঙ্গি স্বাভাবিকের থেকে ভিন্ন, তবে তা থেকে সরাসরি কোনো অপরাধমূলক ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায় গৃহকর্মী কাজের সময় বাড়িতে একা ছিলেন এবং কোনো বাহ্যিক হস্তক্ষেপের স্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া যায়নি। পুলিশ দল বাড়ির দরজা, জানালা ও অন্যান্য প্রবেশপথের ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও DNA নমুনা সংগ্রহ করেছে এবং গৃহকর্মীর পরিচয় যাচাইয়ের জন্য তার জাতীয় পরিচয়পত্রের আবেদনপত্রের কপি চেয়ে নিয়েছে।
ফোরেনসিক দলও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মৃতদেহের অটোপসি করে মৃতের মৃত্যুর কারণ নির্ধারণের জন্য রক্ত, মূত্র ও টিস্যু নমুনা সংগ্রহ করেছে। প্রাথমিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে আয়শা আক্তারের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত করা হয়নি এবং অতিরিক্ত পরীক্ষার জন্য রক্তের টক্সিকোলজি রেজাল্ট অপেক্ষা করা হচ্ছে।
পুলিশের বিবৃতি অনুযায়ী, গৃহকর্মীর পরিচয় ও তার পূর্বের কর্মস্থল সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। তার পরিচয় যাচাই না হওয়া পর্যন্ত তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়নি, তবে তদন্তের অংশ হিসেবে তাকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। গৃহকর্মীকে বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
আনোয়ার হোসেনের চিকিৎসা অবস্থা স্থিতিশীল, তবে তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। হাসপাতালের চিকিৎসক দল জানিয়েছে যে রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক, তবে আঘাতের পরিমাণ ও তার পুনরুদ্ধার সময়ের বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যাবে।
আইনগত দিক থেকে, ঘটনাটির জন্য স্থানীয় থানা থেকে অপরাধের রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে এবং মামলাটি ডিপার্টমেন্টের তদন্ত বিভাগের অধীনে চালু হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী, যদি গৃহকর্মীর পরিচয় ও তার পূর্বের কাজের ইতিহাসে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড না পাওয়া যায়, তবে মামলাটি আদালতে উপস্থাপন করে যথাযথ শাস্তি নির্ধারণের জন্য প্রমাণ সংগ্রহ চালিয়ে যাবে।
স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ উভয়ই ঘটনাটির প্রতি সংবেদনশীলতা প্রকাশ করে জনগণকে আশ্বস্ত করেছে যে সব প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। তারা উল্লেখ করেছে যে গৃহকর্মীর পরিচয় স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত তদন্তে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।
এই ঘটনার পর, উত্তরা-৭ এলাকার অন্যান্য গৃহকর্মী ও নিয়োগকর্তা নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে গৃহকর্মীর পরিচয় যাচাই, জাতীয় পরিচয়পত্রের প্রমাণ এবং কাজের সময় পর্যবেক্ষণকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
পরবর্তী আদালত শোনানির তারিখ এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী শীঘ্রই নির্ধারিত হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। আইনগত প্রক্রিয়ার সকল ধাপের তথ্য জনসাধারণের কাছে প্রকাশ করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষকে যথাযথ সময়ে জানানো হবে।
এই ঘটনায় কোনো অতিরিক্ত শারীরিক প্রমাণ বা সাক্ষীর বিবৃতি পাওয়া না যাওয়ায়, তদন্তের গতি ও ফলাফল নির্ভর করবে ফরেনসিক বিশ্লেষণ ও গৃহকর্মীর পরিচয় যাচাইয়ের ওপর। শেষ পর্যন্ত, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সকল প্রয়োজনীয় আইনি ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে।



