প্যার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন, বিএনপি‑নেতৃত্বাধীন সরকারকে চট্টগ্রাম হিল ট্র্যাক্টস বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অ-স্থানীয় রাজ্য মন্ত্রী পদ থেকে প্রত্যাহার ও পুনর্বণ্টনের আহ্বান জানিয়েছে। এই দাবি আজ প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, যেখানে আন্দোলনের দুই সমন্বয়কারী জাকির হোসেন ও প্রফেসর ড. খায়রুল ইসলাম চৌধুরী নতুন সরকারের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে চুক্তি বাস্তবায়নের অগ্রাধিকার দাবি করেছেন।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নতুন সরকারকে জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু, পাশাপাশি অন্যান্য প্রান্তিক গোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। যদিও চুক্তি অনুসারে পূর্ণ মন্ত্রী পদে আদিবাসী নেতা নিযুক্ত করা হয়েছে, তবু অ-স্থানীয় ব্যক্তিকে রাজ্য মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করা ১৯৯৭ সালের চট্টগ্রাম হিল ট্র্যাক্টস শান্তি চুক্তির মূল সত্তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে আন্দোলন সমালোচনা করেছে।
চুক্তির আত্মা রক্ষা করতে, আন্দোলন সরকারকে অ-স্থানীয় রাজ্য মন্ত্রীকে পদ থেকে সরিয়ে চুক্তির ধারায় নির্ধারিত অনুযায়ী পুনরায় নিয়োগের অনুরোধ জানিয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে চুক্তির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে এবং আদিবাসী জনগণের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত হবে বলে তারা যুক্তি দিয়েছে।
বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে, তাকে এই বিষয়টি নিয়ে “বুদ্ধিদীপ্ত ও রাষ্ট্রনায়কীয়” দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। আন্দোলন বিশ্বাস করে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার চুক্তির কার্যকরী বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।
এই দাবি প্রকাশের পটভূমি হল ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি দল বিশাল জয়লাভের পর সরকার গঠন। নির্বাচনের পরপরই ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন ক্যাবিনেট শপথ গ্রহণ করে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী পদে তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
ক্যাবিনেট গঠনের সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রাম হিল ট্র্যাক্টস বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে দিপেন দেওয়ানকে পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করা হয়। একই সময়ে মির মোহাম্মদ হেলালকে রাজ্য মন্ত্রী পদে স্থাপন করা হয়।
অধিকন্তু, আন্দোলন বিএনপি সরকারের “রেইনবো নেশন” ধারণা শক্তিশালী করতে, সকল জাতিগত গোষ্ঠীর সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য অ-স্থানীয় রাজ্য মন্ত্রী পদ থেকে প্রত্যাহারকে অপরিহার্য বলে জোর দিয়েছে। তারা বিশ্বাস করে, এই পদক্ষেপ চুক্তির মূল নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং দেশের বহু-সংস্কৃতিক ঐক্যকে দৃঢ় করবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, অ-স্থানীয় রাজ্য মন্ত্রী পদ থেকে প্রত্যাহার না হলে আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে সরকারের প্রতি অবিশ্বাস বাড়তে পারে, যা ভবিষ্যতে চুক্তির বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। অন্যদিকে, আন্দোলনের এই দাবি সরকারকে চুক্তির প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করতে এবং জাতিগত সংহতি জোরদার করতে সহায়তা করতে পারে।
বিএনপি সরকার এখন পর্যন্ত চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তবে অ-স্থানীয় রাজ্য মন্ত্রী পদ নিয়ে বিতর্ক রাজনৈতিক আলোচনার নতুন স্তরে নিয়ে এসেছে। সরকার কীভাবে এই দাবির উত্তর দেবে, তা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
চুক্তির মূল নীতি অনুসারে, আদিবাসী জনগণের স্বায়ত্তশাসন ও সাংস্কৃতিক অধিকার রক্ষার জন্য মন্ত্রণালয়ের শীর্ষে আদিবাসী নেতার উপস্থিতি অপরিহার্য বলে বিবেচিত হয়। আন্দোলন এই দৃষ্টিকোণ থেকে অ-স্থানীয় রাজ্য মন্ত্রীকে পদ থেকে সরিয়ে পুনর্নিয়োগের দাবি তুলে ধরেছে।
অবশেষে, আন্দোলন সরকারকে আহ্বান জানিয়ে শেষ করেছে যে, চুক্তির সফল বাস্তবায়নের জন্য সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন, এবং নতুন সরকারকে এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। ভবিষ্যতে চুক্তির ধারাগুলি কীভাবে কার্যকর হবে, তা রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তি ও নীতি বাস্তবায়নের ওপর নির্ভরশীল থাকবে।



