নরসিংদীর শিবপুর মডেল থানা থেকে জানানো হয়েছে যে, গতকাল সন্ধ্যায় একটি অটো রিকশা চালক ও যাত্রীর মধ্যে ভাড়া নিয়ে তর্কের পর, যাত্রীর ক্রোধে অন্য অটো রিকশার সামনের কাচ ভেঙে ফেলা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত দোকানকর্মী ও স্থানীয় লোকজনের বর্ণনা অনুযায়ী, প্রথম রিকশা চালক যাত্রীর সঙ্গে ভাড়া নিয়ে আলোচনা করার সময় যাত্রীকে নামিয়ে দেয়। এতে রাগান্বিত যাত্রী প্রথম রিকশা চালককে খুঁজতে গিয়ে পাশের আরেকটি অটো রিকশার গ্লাস ভেঙে দেয়।
শিবপুর মডেল থানার ওয়েসি অফিসার কোহিনূর মিয়াও জানান, গ্লাস ভাঙা ব্যক্তি একজন প্রকৌশলী এবং তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নয়। গ্লাস ভাঙার পর রিকশা চালককে ক্ষতিপূরণ প্রদান করার শর্তে বিষয়টি সমাধান করা হয়।
একই সময়ে, সরকার কর্তৃক নতুন পরিবারিক কার্ড চালু করার পরিকল্পনা নিয়ে অনলাইন জালিয়াতির ঘটনা বাড়ছে। ফেসবুকে ‘ফ্যামিলি কার্ডের আবেদন’ শিরোনামে একাধিক পেজ তৈরি করে ব্যবহারকারীদেরকে জুয়া সাইটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এই পেজগুলোতে ‘আজকের মধ্যে আবেদন করলে ঈদ বোনাস ৫,০০০ টাকা পাবেন’ এমন ভুয়া প্রতিশ্রুতি দিয়ে লিঙ্ক শেয়ার করা হয়। লিঙ্কগুলো সরকারি কোনো সাইটের নয়, ক্লিক করলে সরাসরি অনলাইন বেটিং বা জুয়া সাইটে রিডাইরেক্ট হয়।
বাংলাদেশে জুয়া খেলা আইনত নিষিদ্ধ, তা শারীরিক হোক বা অনলাইন হোক। সরকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সরাসরি নগদ সহায়তা দেওয়ার জন্য পরিবারিক কার্ড চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তবে এখনো আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। এই ফাঁকফাঁকি ব্যবহার করে কিছু ব্যক্তি ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করে মানুষকে প্রতারণা করছেন।
প্রথম আলো কর্তৃপক্ষ এই বিষয়টি নজরে নিয়ে সকল নাগরিককে সতর্ক করেছেন যে, সরকারী ঘোষণার বাইরে কোনো লিঙ্কে ক্লিক না করা এবং অনির্ভরযোগ্য পেজে ব্যক্তিগত তথ্য প্রদান না করা উচিত। এছাড়া, পরিবারিক কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়া সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী শুরু হলে সংশ্লিষ্ট তথ্য সরকারী সূত্র থেকে নিশ্চিত করা হবে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, গ্লাস ভাঙার অপরাধটি সম্পত্তি ক্ষতি হিসেবে গণ্য হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ইতিমধ্যে ক্ষতিপূরণ প্রদান করে বিষয়টি সমাধান হয়েছে। তবে, যদি ক্ষতিপূরণ না দেওয়া হতো, তবে আইনি প্রক্রিয়ায় গিয়ে শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা থাকে।
অন্যদিকে, অনলাইন জুয়া স্ক্যাম নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। জুয়া নিষিদ্ধ হওয়ায়, এমন সাইটে প্রবেশ বা অংশগ্রহণ করলে আইনি শাস্তি হতে পারে। তাই, নাগরিকদেরকে অনলাইন লিঙ্কে ক্লিক করার আগে সতর্কতা অবলম্বন করতে এবং সন্দেহজনক পোস্টে অংশ না নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, নরসিংদীর এই ঘটনা স্থানীয় পরিবহন ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও নাগরিকদের সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে, আর পরিবারিক কার্ড স্ক্যাম ডিজিটাল নিরাপত্তা ও ভোক্তা সুরক্ষার গুরুত্ব পুনরায় নিশ্চিত করেছে। ভবিষ্যতে সরকারী উদ্যোগের সঠিক বাস্তবায়ন ও আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এ ধরনের ঘটনা কমে যাবে বলে আশা করা যায়।



