20.8 C
Dhaka
Tuesday, February 24, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাঅসহনীয় চাঁদাবাজি বিনিয়োগের আস্থার ক্ষতি ঘটাচ্ছে, ডিসিসিআই সভাপতি সতর্ক

অসহনীয় চাঁদাবাজি বিনিয়োগের আস্থার ক্ষতি ঘটাচ্ছে, ডিসিসিআই সভাপতি সতর্ক

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ ২৩ ফেব্রুয়ারি সোমবার ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত একটি সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন, স্থানীয় ও বৈদেশিক উভয় বিনিয়োগের পরিবেশে বর্তমান চাঁদাবাজি সমস্যার কারণে আস্থা হ্রাস পাচ্ছে।

তিনি বলেন, শিল্প নীতির ধারাবাহিকতা না থাকায় এবং আইন-শৃঙ্খলার দুর্বলতা, বিশেষ করে ব্যবসায়িক চাঁদাবাজি, বিনিয়োগকারীদের জন্য অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি করেছে। এই অনিশ্চয়তা নতুন সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করছে।

তাসকীন আহমেদ নতুন সরকারের কাছে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর নীতি গ্রহণের আহ্বান জানান, যাতে চাঁদাবাজি সমস্যার মূল কারণগুলো দমন করা যায় এবং ব্যবসায়িক পরিবেশে পুনরায় আস্থা ফিরে আসে।

সম্মেলনে তিনি আর্থিক খাত, জ্বালানি সরবরাহ, শিল্পায়ন, শুল্কনীতি, লজিস্টিক অবকাঠামো, কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন, কম উন্নয়নশীল দেশ (এলডিসি) উত্তরণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোও তুলে ধরেন।

অধিকন্তু, তিনি উল্লেখ করেন যে দেশের রাজস্ব ব্যবস্থাপনা এখনো স্বয়ংক্রিয় নয়, ফলে ব্যবসা ও ব্যক্তিগত স্তরে অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপের মুখে পড়তে হচ্ছে। এই অদক্ষতা কর সংগ্রহের হারকে ধীর করে এবং সরকারী আয়কে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

অনেক প্রতিষ্ঠান ও স্বতন্ত্র ব্যবসা কর জালের বাইরে থাকায় সরকারী ট্যাক্স রেভিনিউ কমে যাচ্ছে, একই সঙ্গে করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ বাড়ছে। তাসকীন আহমেদ এ বিষয়টি উল্লেখ করে, স্বচ্ছ ও স্বয়ংক্রিয় রাজস্ব ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা জোর দেন।

লজিস্টিক খাতে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে; বিশেষ করে সড়ক ও রেলপথের অবকাঠামো উন্নয়নের ধীরগতি ব্যবসার পরিবহন খরচকে বাড়িয়ে তুলেছে। এই ব্যয়বৃদ্ধি সরাসরি পণ্যের উৎপাদন ও বিতরণ খরচে প্রভাব ফেলছে।

জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া দীর্ঘ সময় নেয় এবং জমির মূল্য উচ্চ হওয়ায় নতুন প্রকল্পের খরচ বাড়ছে। এই দেরি ও ব্যয় প্রকল্পের সময়সূচি ও লাভজনকতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক নীতি পরিবর্তনের ফলে বিভিন্ন সেবার হারে গড়ে ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই হারের বৃদ্ধি বাণিজ্যিক পণ্যের রপ্তানি-আমদানি খরচকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে তুলেছে।

অভ্যন্তরীণ নদীপথের ব্যবহার যথাযথভাবে না হওয়ায় ব্যবসায়িক পরিবহন বিকল্প সীমিত রয়েছে। নদী পথে পণ্য পরিবহনের সম্ভাবনা না কাজে লাগানোর ফলে অতিরিক্ত সড়ক ও রেল ব্যয় বহন করতে হচ্ছে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে।

ফলস্বরূপ, উৎপাদন ও বিতরণ খরচের ধারাবাহিক বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতিতে তীব্র প্রভাব ফেলছে। তাসকীন আহমেদ উল্লেখ করেন, এই ব্যয়বৃদ্ধি ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাসের পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

সংবাদ সম্মেলনের সমাপ্তিতে তিনি নতুন সরকারের কাছে এই সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য সমন্বিত নীতি গঠন, স্বয়ংক্রিয় রাজস্ব সংগ্রহ ব্যবস্থা এবং লজিস্টিক অবকাঠামো উন্নয়নের ত্বরান্বিত বাস্তবায়ন দাবি করেন, যাতে বিনিয়োগের আস্থা পুনরুদ্ধার হয় এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments