22.7 C
Dhaka
Tuesday, February 24, 2026
Google search engine
Homeব্যবসারমজান শুরুতে ঈশ্বরদীর সবজির দাম তীব্র বৃদ্ধি, সাধারণ ক্রেতা ভোগান্তিতে

রমজান শুরুতে ঈশ্বরদীর সবজির দাম তীব্র বৃদ্ধি, সাধারণ ক্রেতা ভোগান্তিতে

রমজানের প্রথম দিন থেকেই ঈশ্বরদীর হাট‑বাজারে সবজির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। লেবু, বেগুন, শসা, কাঁচা মরিচসহ মৌলিক সবজির মূল্য গত কয়েকদিনে ধারাবাহিকভাবে উপরে উঠেছে। বাজারে পণ্যের সরবরাহ যথেষ্ট থাকলেও উচ্চমূল্যের কারণে ক্রেতাদের আর্থিক চাপ বাড়ছে। তদারকি ও নিয়ন্ত্রণের অভাবকে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

স্থানীয় সবজি বাজারে লেবু হালি প্রতি ২০০ টাকা, বেগুন কেজি প্রতি ৯০‑১০০ টাকা, শসা একই দামে, করলা ১৫০ টাকা, সজিনা ২২০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৪০ টাকা, আদা ১২০ টাকা এবং রসুন ৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। টমেটো ৪০‑৫০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা এবং পুঁইশাক ৩৫ টাকা প্রতি আঁটি দামে পাওয়া যায়। এসব মূল্যের পরিবর্তন রমজানের প্রথম সপ্তাহে স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা গেছে।

একজন সবজি বিক্রেতা জানান, শীতের শেষ দিকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় এবং আগের মতো আমদানি না হওয়ায় দাম বাড়ছে। তিনি যোগ করেন, পাইকারি বাজার থেকে যে দামে পণ্য ক্রয় করা হয়, সেটি অনুসারে বিক্রি করা হচ্ছে, তাই বিক্রেতা নিজে দাম বাড়াচ্ছেন না।

বাজারে রিকশা চালক নিজাম উদ্দিনের মতে, রমজানের শুরুতে যাত্রী সংখ্যা স্বাভাবিকভাবে কমে যায়, ফলে আয়ও হ্রাস পায়। রোজা রাখার পর ইফতারে ভালো খাবার চাইতে গিয়ে তিনি উচ্চমূল্যের সবজির সামনে হতবাক হন। তিনি কী কিনবেন আর কী বাদ দেবেন, তা নিয়ে দ্বিধায় আছেন।

একজন কলেজ শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী বাজার তদারকি জোরদারের দাবি তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, সরকারি কর্তৃপক্ষ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করলে দাম কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে। বর্তমানে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মূল্য বাড়াচ্ছেন বলে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমান জানান, ঈশ্বরদীতে চলমান ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে সহায়তা করছে। তিনি আশ্বাস দেন, শীঘ্রই কাঁচা বাজারসহ অন্যান্য বাজারে তদারকি ও অভিযান চালানো হবে, যাতে মূল্য নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।

বাজারে দাম বৃদ্ধির ফলে সাধারণ ক্রেতা বিশেষ করে রমজানের খাবার প্রস্তুতিতে অতিরিক্ত খরচের মুখোমুখি হচ্ছে। লেবু ও বেগুনের মতো মৌলিক উপাদানের দাম দ্বিগুণের কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা গৃহস্থালীর বাজেটকে চাপের মধ্যে ফেলছে। রিকশা চালকদের মত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীও রোজা শেষে খাবার কেনার জন্য উচ্চমূল্যের সঙ্গে মানিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছে।

বিক্রেতাদের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, শীতের শেষের সরবরাহ ঘাটতি এবং আমদানি সীমাবদ্ধতা মূলত মূল্যের উত্থান ঘটাচ্ছে। তবে তারা উল্লেখ করেন, পাইকারি দামের পরিবর্তন ছাড়া অতিরিক্ত মুনাফা না বাড়িয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতি বাজারের স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন, রমজান মাসে খাদ্যদ্রব্যের চাহিদা স্বাভাবিকভাবে বাড়ে, ফলে সরবরাহের ঘাটতি ও মূল্যবৃদ্ধি তীব্র হয়। যদি তদারকি ব্যবস্থা দ্রুত কার্যকর না হয়, তবে দাম আরও বাড়তে পারে এবং গৃহস্থালীর ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে।

ভবিষ্যতে বাজার তদারকি ও অবৈধ স্থাপনা অপসারণের মাধ্যমে সরবরাহ শৃঙ্খল স্থিতিশীল করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে, ক্রেতাদের জন্য বিকল্প সরবরাহ চ্যানেল বা সরকারী হস্তক্ষেপের প্রয়োজন দেখা দিচ্ছে, যাতে রমজানের পবিত্র মাসে মৌলিক খাদ্যদ্রব্যের দাম সাশ্রয়ী থাকে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments